• বিশ্বকাপের ক্ল্যাসিক মুহুর্ত
  • " />

     

    • বিশ্বকাপের ক্ল্যাসিক মুহুর্ত

    ২০১১: কেভিন 'ওহ' ব্রায়েনে আইরিশ রূপকথা

     

    নিয়াল ও ব্রায়েন আগে থেকেই জানতেন, আজ কিছু একটা হতে চলেছে।

    ছোট ভাই কেভিন  বলতে গেলে পিঠেপিঠিই, কেবল দুই বছরের ছোট বড়। কেভিন একটু একরোখাই, যখন জেদ চেপে যায় তখন কিছু একটা না করে ছাড়ে না। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে কেভিন ও ব্রায়েনের শুরুটাই হলো হোঁচট দিয়ে। কয়েকটা মিসফিল্ডিং করলেন, চোট পেলেন হাঁটুতেও। নিয়াল খেয়াল করলেন, কেভিন যেন একটু ফুঁসছে। ব্যাট করতে নামলে কেভিন কিছু একটা করবে, সেই বিশ্বাস ছিল নিয়ালের। কিন্তু সেটা যে বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সবচেয়ে চমকে দেওয়া জয় হয়ে যাবে, সেটা বোধ হয় ঘুণাক্ষরে ভাবেননি নিয়ালও।

    কেভিন নিজেও কি ভেবেছিলেন? ক্রিজে যখন এসেছিলেন, ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল আয়ারল্যান্ড। বেঙ্গালুরুতে ইংল্যান্ডের বেঁধে দেওয়া ৩২৮ রানের লক্ষ্য কন্যাকুমারিকা থেকে কাশ্মীর থেকেও দূর। ফর্মে থাকা এড জয়েস চলে গেছেন, হাতে ৫ উইকেট। বল বাকি ১৬৬টি, করতে হবে ২২২ রান। খানিক পরেই আবার হোঁচট আয়ারল্যান্ডের, ১১১ রানে হারাল পাঁচটি উইকেট। কেভিন ও ব্রায়েনের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিলেন অ্যালেক্স কুসাক।

    এরপর যা হলো, সেটা বেঙ্গালুরুর দর্শকেরা কেবল বিস্ফারিত চোখেই দেখেছেন। সোয়ানের ওপর শুরু থেকেই চড়াও কেভিন, দ্বিতীয় বলেই মারলেন চার। আরও দুইটি ছয় মারলেন সোয়ানকে, তারপরও সিদুরে মেঘ দেখছিল না ইংল্যান্ড। আর কতক্ষণই বা মারবেন কেভিন, রান তো অনেক। দ্রুত কেভিন ২২ বলে ৩৫ রান করে ফেললেন, ম্যাচের আর বাকি ১৯ ওভার। তখনই ফাটকাটা খেললেন, নিয়ে নিলেন ব্যাটিং পাওয়ারপ্লে। সেই ৫ ওভারে এলো ৬২ রান, এর মধ্যে কেভিনের ফিফটি হয়ে গেছে ৫০ বলে।

     

     

    এরপর অ্যান্ডারসনের এক ওভারে নিলেন ১৭ রান। টিম ব্রেসনানকে কাভারের ওপর দিয়ে যে ছয়টি মারলেন, সেটি দেখে যেন সবুজ জার্সি পরে নেমে গেছেন মাঠে। আবার মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ১০২ মিটারের যে দানবীয় ছয় মারলেন, সেটি দেখে মনে হচ্ছিল গেইলই বোধ হয় ভুল করে ক্রিজে নেমে গেছেন। দেখতে দেখতে লক্ষ্যটা ৮০ রানের নিচে নিয়ে এলেন কেভিন। তখনও ওভারপ্রতি রান ছয়ের বেশিই ছিল। তবে পরিস্থিতিটা বুঝে আর ঝুঁকি নিলেন না কেভিন আর কুসাক।

    তবে জয় থেকে যখন আয়ারল্যান্ড ৫৫ রান দূরে, রান আউট হয়ে গেলেন কুসাক। বাকি কাজটা কেভিনের সঙ্গে জন মুনি শেষ করে আসবেন বলেই মনে হচ্ছিল। শুরুর দিকে মুনি স্ট্রাইক দিতে না পারলেও পরে নিজেই শট খেলা শুরু করেছেন। কেভিনের এরপর ৫০ বলে সেঞ্চুরি হয়ে গেছেন, ভেঙে দিয়েছেন বিশ্বকাপের হেইডেনের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

    যখনই মনে হচ্ছে, কেভিন আর মুনি মিলে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেবেন আয়ারল্যান্ডকে, তখনই আরেক দফা নাটক। ৪৯তম ওভারে আউট হয়ে গেলেন কেভিন, ট্রেন্ট জনসন মুখোমুখি প্রথম বলেই মারলেন চার। পুরো রান তাড়ায় প্রথম দরকারি রান রেট নেমে এলো ছয়ের নিচে। শেষ ওভারে দরকার হলো ৩ রান, সেটি নিয়ে নিলেন মুনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয় পেল আয়ারল্যান্ড, সম্ভবত সবচেয়ে স্মরণীয় জয়ও। যে ক্রিকেটাররা মাত্র এক বছর আগে পেশাদার হয়েছেন, ফ্লাডলাইটের নিচে দেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাই সেই বিশ্বকাপের আগে যাদের ছিল না; তারাই স্তব্ধ করে দিয়েছেন প্রতিবেশি ‘বড় ভাই’ ইংল্যান্ডকে। আর সেটা সম্ভব হয়েছে কেভিন ‘ওহ’ ব্রায়েন নামের একজন অতিমানব হয়ে ওঠায়!

    এরপর কী হয়েছিল?

    সেই বিশ্বকাপে অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেনি আয়ারল্যান্ড, গ্রুপে জিতেছিল শুধু নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ম্যাচেই। উন্নতির ধারায় অবশ্য বছর দুয়েক আগে পেয়েছে টেস্ট স্ট্যাটাস। তবে বিশ্বকাপে এখনও দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে তাদের।