• বিশ্বকাপের ক্ল্যাসিক মুহুর্ত
  • " />

     

    • বিশ্বকাপের ক্ল্যাসিক মুহুর্ত

    ২০১৫ : জন্মস্থানের বিপক্ষে 'সুপারম্যান' এলিয়ট

    বিশ্বকাপের ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ, যাতে ক্ষণে ক্ষণে বদলাচ্ছে রঙ। এমন ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার উপস্থিতি যেন প্রায় অপরিহার্য। তবে ফলটা একই থাকে, তারা ফিরে আসে শূন্য হাতে। শূন্য দৃষ্টি, কান্না, অবাক মুহুর্ত যেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের প্রতিচ্ছবি। ২০১৫ বিশ্বকাপে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের সেমিফাইনালেও ছিল সেটাই। এদিন তাদেরকে সেই অনুভূতি দিয়েছিলেন তাদের দেশেই জন্ম নেওয়া একজন- গ্রান্ট এলিয়ট! 

    দক্ষিণ আফ্রিকা সেবারই প্রথম নক-আউট ম্যাচ জিতেছে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বে। আর নিউজিল্যান্ডের সামনে ছয়বারের ব্যর্থ চেষ্টা হওয়ার পর সপ্তমবারের মতো সেমিফাইনাল। হাতছানি এমসিজির ফাইনাল। স্টেইনকে ছয় মেরে এলিয়ট হয়ে উঠলে সুপারম্যান, এলিয়ট নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গেলেন ইতিহাসের পথে। 

    অথচ সে বিশ্বকাপে খেলারই কথা ছিল না এলিয়টের। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জন্মেছিলেন, বেড়ে উঠেছিলেনও সেখানেই। ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলল দক্ষিণ আফ্রিকা, এলিয়টের ওপর প্রভাব ফেলল সে টুর্নামেন্ট। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, হবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। প্রথম শ্রেণিতে অভিষেকও হলো সেখানেই। তবে ‘কোটা পদ্ধতি’তে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নটা ফিকে হয়ে আসছিল। তার প্রথম শ্রেণির দল গওটেংয়ের তখনকার অধিনায়ক কেন রাদারফোর্ডের পরামর্শে চলে গেলেন নিউজিল্যান্ডে, ২০০১ সালে। 

    সাত বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক, সে ক্যারিয়ার অবশ্য দীর্ঘ হয়নি। ২০১১ বিশ্বকাপের আগ দিয়ে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন, ফিরেছিলেন ২০১৩ সালে। পরের বছর আবার বাদ পড়লেন। বিশ্বকাপ দলে এরপর ডাক পেলেন হুট করেই। ব্যাটিংয়ের স্থিতিশীলতা বাড়াতে জিমি নিশামের জায়গায় তাকে নেওয়া হলো। 

    সেমিফাইনালের আগে ছয় ইনিংসে এলিয়টের সর্বোচ্চ ছিল ৩৯ রান। এলো ইডেন পার্ক। ম্যাচটা নেমে এসেছিল ৪৩ ওভারে। ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে উদ্ধার করেছিল ফাফ ডু প্লেসির ১০৭ বলে ৮২ রানের ইনিংস। তারপর ৪৫ বলে ৬৫ রান করা এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ১৮ বলে ৪৯ রানের ঝড় তোলা ডেভিড মিলারে দক্ষিণ আফ্রিকা গেল ২৮১ রান পর্যন্ত।

    ব্রেন্ডন ম্যাককালাম সেটাই করলেন, পুরো টুর্নামেন্টে যা করে এসেছেন। ২২ বলে করলেন ফিফটি, ২৫ বলে ফিফটি হলো নিউজিল্যান্ডের, ১০০ হলো ১২তম ওভারে। ১৪৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে একটু চাপে পড়লো নিউজিল্যান্ড, কোরি অ্যান্ডারসনের ফিফটি এবার কমিয়ে দিল সেটা। তার উইকেট চূড়ান্ত চাপটা এনে দিল, শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ৪৬ রান। এলিয়টের ফিফটি হয়ে গেছে ততক্ষণে। 

    লুক রঙ্কি আউট হওয়ার সময়ও নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৭ বলে ২৯ রান। ড্যানিয়েল ভেট্টোরির সঙ্গে এলিয়টের জুটিতে উঠলো সেটা, যে জুটিতে এলিয়ট করলেন ১০ বলে ২১। শেষ ওভারে ১২ রান প্রয়োজন ছিল, তৃতীয় বলে ভেট্টোরি মেরেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ এক চার। পরের বলে লেগবাই, তবে ভেট্টোরি রান-আউট হতে পারতেন দুই প্রান্তেই। একপ্রান্তে মিস করেছিলেন কুইন্টন ডি কক, আরেক প্রান্তে স্টেইন। 

    শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৫ রান। স্টেইন করলেন লেংথ বল। এলিয়ট টেনে মারলেন লং-অন দিয়ে। গর্জন করে উঠল ইডেন পার্ক। তাদের সে গর্জনের উপলক্ষ্য এনে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এলিয়ট, তার জন্মস্থানের বিপক্ষেই ম্যাচ জিতিয়ে। 

     

     

    এরপর কী ঘটেছিল-
    উদযাপনটা বেশিক্ষণ করেননি এলিয়ট, ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন শুয়ে পড়া স্টেইনকে তুলতে। সে ছবিটা ঢুকে গেছে স্পোর্টসম্যানশিপের দারুণ তালিকায়। ফাইনালে এলিয়ট করেছিলেন ৮২ বলে ৮৩। তবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের শিরোপা জিততে দেয়নি সেবার।