• আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট
  • " />

     

    মোস্তাফিজ বিশ্রামে না বাদ?

    স্কোয়াডের নামটা পাওয়ার পরেই একটু চমকে উঠতে হয়। মোস্তাফিজুর রহমান আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৫ জনের দলে নেই! কালই তো একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিলেন (যেটা তার কাছ থেকে পাওয়া বেশ বিরল), সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নিজের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বললেন। অথচ একমাত্র টেস্টে তিনি থাকছেন না। কিন্তু মোস্তাফিজকে কি বাদ দেওয়া হয়েছে, নাকি বিশ্রাম?

    মিরপুরে দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু অবশ্য বাদ শব্দটা একবারও ব্যবহার করলেন না। বরং তার আনুষ্ঠানিক ভাষ্যে, মোস্তাফিজ অনুশীলন করতে গিয়ে চোট পেয়েছেন পিঠে, ‘মোস্তাফিজেরটা হালকা একটা চোটের মতো আছে, প্র্যাকটিসের কন্ডিশন ক্যাম্পের মধ্যেই হয়েছে । গতকাল এটা অ্যাসেস করা হয়েছে। এটার জন্য একটা টেস্ট আছে, সেটার জন্য ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। সামনে ভারতের সঙ্গে টেস্ট আছে, টি টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে। সব মিলে একটা ম্যাচে ওকে ঝুঁকি না নিয়ে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ’

    কিন্তু প্রধান নির্বাচকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর ধন্দ আসলে কমল না খুব একটা। এবারের ট্রেনিং ক্যাম্পে শুরু থেকেই ছিলেন মোস্তাফিজ, নিয়মিত অনুশীলন ও বলও করেছেন। গত পরশুও নেটে তাকে বল করতে দেখা গেছে তাকে। নতুন বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের সঙ্গে কাজ করেছেন সেদিনও। সতীর্থদের সঙ্গে ফিল্ডিংও করেছেন। এক দিনের মধ্যেই পিঠের চোট এমন গুরুতর হয়ে উঠল, যে ১৫ জনের টেস্ট দলেই জায়গা পেলেন না! আরেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার যদিও নিশ্চিত করেছেন, মোস্তাফিজের পিঠে স্ক্যান করে কিছু পাওয়া যায়নি। তাহলে ত্রিদেশীয় সিরিজ এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে সেটার জণ্য মোস্তাফিজকে টেস্টে বিবেচনাই করা হবে না! আর ভারতের সঙ্গে টেস্ট সিরিজের যে অজুহাত প্রধান নির্বাচক দিলেন, সেটারও তো আরও মাস দুয়েকের বেশি বাকি।

    এমন নয়, যে মোস্তাফিজকে গত কিছুদিনে টেস্ট থেকে ‘বিশ্রাম’ দেওয়া হয়নি। এই তো, সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্টে খেলানো হয়নি ফিজকে। সেবার অবশ্য কারণ বলা হয়েছিল, মোস্তাফিজের ফিটনেস টানা তিন টেস্ট খেলার মতো নয়। পরে অবশ্য ওয়েলিংটনে খেলেছিলেন ফিজ, ক্রাইস্টচার্চে খেলার আগেই সন্ত্রাসী হামলায় সবাইকে দেশে ফিরে আসতে হয়।

    গত বছর দেশের মাটিতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে খেলেননি ফিজ। চটগ্রাম টেস্টে খেলেছিলেন বটে, তবে মাত্র ৪ ওভার বল করেছিলেন। মিরপুরে তাই একদম চক্ষুলজ্জা রেখেই সাঁড়াশি স্পিন আক্রমণ নিয়ে নামে বাংলাদেশ, সফলও হয়। সেই পরিকল্পনায় মোস্তাফিজের জায়গা হয়নি।

    এই দুই ঘটনার তাও কিছুটা যৌক্তিক কারণ আছে। কিন্তু এবারের সিদ্ধান্তটা আরও বেশি প্রশ্ন উঠছে। এমনিতেই আফগান স্পিন জুজুর কারনে এবার স্পিন ট্র্যাক বাদ দিয়ে কিছুটা পেস নির্ভর হতে পারে, এমন একটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল বিসিবির কর্তাদের থেকে শুরু করে নির্বাচকদের কাছ থেকে। স্কোয়াডে তিন পেসার নেওয়া সেটারই ইঙ্গিতবাহী। কিন্তু এই তিন জনেও থাকবেন না মোস্তাফিজ! এই মুহূর্তে লাল বলে রাহীকে বাংলাদেশের সেরা পেসার ধরলেও আরও দুইটি জায়গা খালি থাকে। তাসকিন ও এবাদত দৃশ্যত সেখানে এগিয়ে গেছেন মোস্তাফিজের চেয়ে। বিশ্রামের কথা যতই বলা হোক, আসলেই কি মোস্তাফিজ বাংলাদেশ দলের টেস্ট পরিকল্পনার অংশ?

    পারফরম্যান্সও আসলে খুব একটা আশা দেখাচ্ছে না। সর্বশেষ তিন টেস্টে মোস্তাফিজ পেয়েছেন মাত্র দুই উইকেট। টেস্টে এখন পর্যন্ত কোনো ৫ উইকেট নেই তার। তবে সংখ্যার চেয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছিল মোস্তাফিজের টেস্টের প্রতি নিবেদন নিয়েও। এই টেস্টে দলে না থাকা বোধ হয় বার্তা দেয়, এই ব্যাপারে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয় টিম ম্যানেজমেন্ট।  

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন