• আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট
  • " />

     

    বৃষ্টিকে সঙ্গে নিয়েও আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক জয় আটকাতে পারল না বাংলাদেশ

    আফগানিস্তান ১ম ইনিংস ৩৪২ অল-আউট (রহমত ১০২, আসগর ৯১, আফসার ৪১; তাইজুল ৪/১১৬, সাকিব ২/৬৪) ও ২য় ইনিংস ২৬০ অল-আউট (ইব্রাহিম ৮৭, আসগর ৫০, জাজাই ৪৮*, সাকিব ৩/৫৮) ; বাংলাদেশ ১ম ইনিংস ২০৫ অল-আউট (মুমিনুল ৫২, মোসাদ্দেক ৪৮*, রশিদ ৫/৫৫, নবি ৩/৫৬) ও বাংলাদেশ ২য় ইনিংস ১৭৩ অল-আউট (সাদমান ৪১, সাকিব ৪৪, রশিদ ৬/৪৯)
    আফগানিস্তান ২২৪ রানে জয়ী


    রশিদ খান যেন ফেটে পড়বেন আরেকটু হলেই। তার উল্লাস তখন বুনো, কান পাতলে হয়তো কাবুল থেকেই কেউ শুনতে পাবেন সেটি। শেষদিনের তিন সেশনের আড়াই সেশনই প্রায় গিয়েছিল বৃষ্টির কবলে, বাংলাদেশের বাকি ৪ উইকেট নিতে আফগানিস্তানের হাতে ছিল ৭০ মিনিটের মতো সময়, ১৮ ওভারের মতো। ১৫ ওভার ও ঘন্টাখানেকের কম সময়ের মাঝেই দুর্দান্ত রশিদ খানে কাজ সেরে ফেলল আফগানিস্তান। ২য় জয় পেতে মাত্র ৩ টেস্ট সময় লাগলো আফগানদের, অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ডে ভাগ বসাল তারা, পেল নিজেদের প্রথম ‘অ্যাওয়ে’ জয়। 

    সকাল থেকে চট্টগ্রামে ছিল ঝুম বৃষ্টি। দুপুর একটার দিকে শুরু হতে পারলো খেলা, তবে হতে পারলো মাত্র ১২ বল। এরপর আবার বৃষ্টি। আরেকবার খেলা শুরু হলো বিকেল ৪.২০-এ। 

    আগেরদিন সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, ম্যাচে কিছু করতে হলে তার বড় সেঞ্চুরি দরকার, সঙ্গে সৌম্য সরকারের সমর্থন। তবে ঠিক যখন সাকিবের কাছ থেকে ‘সেনসিবল’ ক্রিকেট আশা করছিল বাংলাদেশ, তখনই তার যেন মতিভ্রম হলো। জাহির খানের অফস্টাম্পের বেশ বাইরের বলে জোরের ওপর কাট করতে গিয়ে কট-বিহাইন্ড হলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, শেষ দফা খেলা শুরুর ঠিক প্রথম বলেই! 

     

     

    অবশ্য সৌম্য ছিলেন বেশ দৃঢ়। প্রায় ৫ জন ক্লোজ-ইন ফিল্ডারকে নিয়েও তাকে টলাতে পারছিল না আফগানিস্তান। রশিদ খান রাউন্ড দ্য উইকেটেও গিয়েছিলেন। মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে ৮ ওভারের মতো কাটিয়ে দিলেন সৌম্য, মাঝে একটা ক্যাচের মতো উঠলেও টিকে থাকলেন মিরাজও। রশিদ এরপরই দিলেন ‘কিলারস ব্লো’, তার গুগলি পড়তে ব্যর্থ হলেন মিরাজ। তার ইনসাইড-এজ বিট করে প্যাডে আঘাত করলো রশিদের ডেলিভারিটা, রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি মিরাজ, বল-ট্র্যাকিংয়ে দেখিয়েছে তিনটি লাল। অবশ্য এ রিভিউটার বেশ চড়া মূল্য পরে গুণতে হলো বাংলাদেশকে।  
     


    সৌম্যদের এই হাসিটা মিলিয়ে গেছে দিনশেষে...


    সৌম্যর সঙ্গে এরপর যোগ দিলেন তাইজুল, দুই বাঁহাতিকে দেখে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণে এলেন মোহাম্মদ নবি। দুই ওভার পর অবশ্য তাকে সরিয়ে কাইস আহমেদকে আনলেন রশিদ। এর আগেই ফেরালেন তাইজুলকে। হুট করেই চলে গেলেন ফুললেংথে, লাগলো তাইজুলের প্যাডে। এক জীবনের সব সময় নিয়ে আঙুল তুললেন পল উইলসন, তাইজুল রিভিউ করতে চাইলেও বাংলাদেশের অবশিষ্ট কিছু ছিল না আর। পরে আল্ট্রা-এজ দেখিয়েছে, তাইজুলের ছিল ইনসাইড-এজ। অবশ্য তাতে রশিদ বা আফগানিস্তানের কিছু যায় আসে না, ম্যাচে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পূর্ণ হয়ে গেল আফগানিস্তান অধিনায়কের।

    শেষ ব্যাটসম্যান ক্রিজে বলে সৌম্যর চ্যালেঞ্জটা বাড়লো আরও, এবার শুধু ডিফেন্ড করলে চলবে না, ওভারের শেষ দিকে সিঙ্গেল নিয়ে রাখতে হবে নিজের কাছে স্ট্রাইকও। নেমেই অবশ্য রশিদের তিন বল ঠেকিয়েছিলেন নাঈম হাসান। রশিদের পরের ওভারের শেষ বলে লিডিং-এজ তুলে বেঁচে গেলেন সৌম্য, অল্পর জন্য সেটি সামনে পড়লো আসগর আফগানের। পরের ওভারের শুরুতে সিঙ্গেল নিয়ে সৌম্যকে দিয়েছিলেন নাঈম, পরের বলে সেটি আবার কী মনে করে ফিরিয়ে দিলেন তিনি নাঈমকে। রান সম্পন্ন করার আগেই যেন ভুলটা বুঝলেন, দিলেন মাথায় হাত। নাঈম ঠেকিয়ে দিলেন বাকি বলগুলি, তবে ততক্ষণে সৌম্য হয়ে পড়েছেন নড়বড়ে। ৫ ওভার বাকি থাকতে আরেক দফা বৃষ্টি নামল, তবে সেটি খেলা বন্ধ করতে পারলো না। বৃষ্টি এর আগেই যা সহায়তা করেছে বাংলাদেশকে, এবার মুখ ফিরিয়ে নিল। 

    আফগানিস্তান ও জয়ের মাঝে তখন ব্যবধান ১ উইকেট, বাংলাদেশকে পার করতে হবে ২৪টি বল। তবে সেই ২৪টি বলের চতুর্থটি স্পিন করে প্যাডের দিকে গেল সৌম্যর, ফুললেংথ থেকে। ইনসাইড-এজ, প্যাডে লেগে উঠলো শর্ট লেগে। ইব্রাহিম জাদরান ভুল করলেন না। রশিদরা মাতলেন উল্লাসে। আফগানিস্তান গড়লো ইতিহাস। আর বাংলাদেশের ক্রিকেট ডুবে গেল অন্ধকারে।