• আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট
  • " />

     

    আক্রমণই হবে মুশফিকদের কৌশল?

    রশিদ খানকে করা প্রশ্নটা ছিল আপনি গুগলিও বলতে পারেন, টপ স্পিনও বলতে পারেন। তবে আফগান অধিনায়ক সামনে এগিয়ে এসে সেটাকে ফুলটস বানিয়ে ফেললেন। টেস্ট কয়দিন গড়াবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মৃদু হেসে বললেন, পাঁচ দিন। চট্টগ্রাম টেস্টে আপাতত যে আবহ, সেরকম স্পিন ট্র্যাক হলে পাঁচ দিনে গড়ানোর ব্যাপারে আপনি হয়তো বাজি ধরবেন না। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ব্যাটসম্যানদের ওপর নির্ভর করছে বলেই মনে করেন দুই দলের অধিনায়ক।

    সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রামে গড়িয়েছিল চার দিনে। প্রথম দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে দাপট ছিল বোলারদের। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংটাই গড়ে দিয়েছিল পার্থক্য। সাকিবও এবার সেরকম কিছুই আশা করছেন, ‘দেখুন দেশে আমরা তো ভালোই বোলিং করেছি। আমাদের স্পিনাররা যখনই সুযোগ পেয়েছে, তাদের পছন্দমতো উইকেট যখন পেয়েছে, সবসময়ই ভালো করেছে। তবে সেটি বলার পরও, ওদেরও কোয়ালিটি স্পিনার আছে। আমার মনে হয় যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে এখানে দুই দলের ব্যাটিংটাই।’

    রশিদ খানও সাকিবের সঙ্গে প্রায় একমত, ‘একদম ঠিক। আমরাও এটাই মনে করি। এই কন্ডিশন ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ কঠিন। যে দলের ব্যাটসম্যানরা এখানে চাপ সামলাতে পারবে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতবে। স্পিনারদের জন্যও এখানে কাজ সহজ হবে না। তবে ব্যাটসম্যানদের বড় পরীক্ষাই দিতে হবে। যারা নিজেদের স্নায়ু ধরে রাখতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতবে।’

     

     

    আফগান স্পিন সামলানোর জন্য ব্যাটসম্যানদের নিজেদের তো একটা পরিকল্পনা আছেই। সাকিব সেটা খুলে বলতে চাইলেন না। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা যে ব্যবচ্ছেদ করেছেন, সেটা বললেন, ‘হ্যাঁ, একটি দলের বিপক্ষে যখন প্রস্তুতি নিতে হয়, তখন নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা জানা যেমন জরুরি, একইসঙ্গে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা জানাটাও জরুরি। এই সবকিছু মিলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং এই সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত দলের সবাই মিলেই আসে। পরে হযতো কিছু কিছু মতামত আসে, তার পর সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত করা হয়।’

    চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দলের কদিনের অনুশীলন দেখলে অবশ্য ব্যাটসম্যানদের পরিকল্পনার ব্যাপারে একটু আঁচ করা যায়। নেটে স্পিনারদের খেলার সময় শট খেলার চেষ্টা করেছেন মুশফিক, সাকিরা; মাহমুদউল্লাহও উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসা ফুটওয়ার্ক কাজে লাগাতে চেয়েছেন। সাকিব আভাস দিলেন, আফগান স্পিনারদের চড়ে বসতে দিতে তারা চান না, ‘একটি দিক হচ্ছে যে অনেক সময় ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস অনুভব করার জন্য অনেক সময় কিছু শট খেলে। শট লাগলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, একজন ব্যাটসম্যান কখনোই সেট নয়, যতক্ষণ না রান করছে। আপনি যদি ১০০ বলে ১০ করেন, তখনও আপনি সেট নন। কিন্তু ১০ বলে ৪০ বা ৫০ করলে সেট। তো রান করতে হবে। উইকেটে শুধু থাকাই এখনকার টেস্ট ক্রিকেট নয়। আগে ছিল যেমন যে থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এখন থাকার সঙ্গে রানও করতে হয়। দুটি দিকই থাকতে পারে। একেকজনের জন্য একেকটি গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি না মুশফিক ভাই কি কারণে পজিটিভ খেলেছেন। আমার অনেক সময় আত্মবিশ্বাস একটু নিচে থাকে, কিছু শট খেললে শরীর খুলে যায়, এ কারণে অনেক সময় হতে পারে।’