• আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট
  • " />

     

    নেট সেশন: সাদা পোশাকে বাংলাদেশের 'অন্যরকম ফেরায়' আফগান পরীক্ষা

    চট্টগ্রাম টেস্ট

     বাংলাদেশ-আফগানিস্তান

     ৫ সেপ্টেম্বর, সকাল ১০টা

     

    বাংলাদেশের ক্রিকেটের যারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন, তাদেরও চোখ এড়িয়ে যেতে পারে ব্যাপারটা। এমনিতে আফগানিস্তান টেস্ট নিয়ে সাধারণ্যে খুব একটা আগ্রহ নাও থাকতে পারে। একে তো টেস্ট ক্রিকেটের নবীনতম সদস্যের বিপক্ষে ম্যাচ, তাও আবার একটি টেস্ট মাত্র। সেটিও আবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে। তবে আপনি হয়তো খেয়াল করেননি, কাল ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু আফগানিস্তান টেস্ট দিয়ে প্রায় আট মাস পর দেশের মাটিতে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গড়াচ্ছে। আর এটাই এই বছরের ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট! এই ম্যাচের ওপর এখন নিশ্চয় আপনাকে চোখ রাখতেই হবে।

    আফগানিস্তান বলে একটু হালকা ঢিলেঢালা ভাব আপনার থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশ দলের মোটেই তা নেই। নতুন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও পেস বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গেফেল্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর সপ্তাহ দুয়েক হয়ে গেছে। এর মধ্যেই নিবিড় কিছু নেট সেশন হয়েছে বাংলাদেশের, দুই দিনের একটা অনুশীলন ম্যাচও খেলেছে। সর্বশেষ সেই ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরের পর বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি কারও, সেই হিসেবেও এই টেস্ট বাড়তি প্রস্তুতি দাবি করে। সাকিব আল হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দলের সবাই নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিয়েই এসেছেন। এখন বাকিটা মাঠে দেখানোর পালা।

     

     

    একটাই হয়তো খুঁতখুঁত করতে পারে সাকিবের মনে, সেটা অবশ্যই উইকেট। এই টেস্ট শুরুর কিছুদিন আগে পেস বোলারদের জন্য কিছু থাকতে পারে উইকেটে, এমন একটা ধুয়া উঠেছিল। তবে চট্টগ্রামে আসতে না আসতে সেটা প্রায় উধাও। এমনিতেই পেসারদের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন আছে, কোচ ও পেস বোলিং কোচও ঠিক সন্তুষ্ট নন তাদের দিয়ে। কিন্তু স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়ে যদি আবার নিজেদের ফাঁদেই যদি পড়া হয়? রশিদ খান, জাহির খানরা তো এর মধ্যে নিজেদের সামর্থ্য জানান দিয়ে রেখেছেন। সাকিবও নিশ্চয় সেটা জানেন, সেভাবে হয়তো ছকও কষেছেন।

    চট্টগ্রামের উইকেট নিয়েও একটু অস্বস্তি থাকতে পারে। এমনিই চট্টগ্রামের উইকেট মিরপুরের মতো অত টার্নিং ট্র্যাক হয় না, অনুমান করাও বেশ কঠিন। সাকিব যিওদি জানেনও উইকেট কেমন, চূড়ান্ত কিছু বলার জন্য খেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন। রশিদ খান অবশ্য মজা করে বললেন, উইকেটে বনবন করে বল ঘুরতে থাকবে। তবে দুই অধিনায়কই নিজেদের স্পিনে শাণ দেওয়ার জন্য সম্ভবত মানসিকভাবে তৈরি।

    তবে আজ সংবাদ সম্মেলনে পারস্পতিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব হলো না। আফগানিস্তানকে কোনো অবস্থায় খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, সাকিব সেটা বললেন। কোচ অ্যান্ডি মোলসের মতো রশিদ নিজেদের আন্ডারডগ বললেন না বটে, তবে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের রেকর্ড তার ভালোমতোই জানা। স্পিন নিয়ে কথা বললেও দুজনের সুর একই, ব্যাটিংটাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেবে ম্যাচের।

     

    রঙ্গমঞ্চ

    জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম

     

    সাকিব যেরকম বললেন, চট্টগ্রামের উইকেট এমনিতে বেশ অননুমেয়। একটা সময় চট্টগ্রামের উইকেট প্রাণহীন থাকলেও এখানে সর্বশেষ চার টেস্টের তিনটির মীমাংসা হয়েছে। এর মধ্যে অবশ্য বাংলাদেশের জয় শুধু একটিতে। চট্টগ্রামে এখন কাঠফাটা রোদ থাকলেও জহুর আহমেদে মাঝেমধ্যেই সাগর থেকে উড়ে আসা মেঘ ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।  এই টেস্টেও সেরকম পুর্ভাভাস আছে, যদিও খেলায় বড় বিরতি ফেলার মতো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    যাদের ওপর চোখ

    মুমিনুল হক

    চট্টগ্রামে খেলা মাঠেই মুমিনুলের চোখ চকচক করে ওঠা। এই মাঠে তার রেকর্ড দুর্দান্ত, ক্যারিয়ারের আট সেঞ্চুরির ছয়টিই এখানে। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও পেয়েছিলেন সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ার গড় প্রায় ৪২, কিন্তু জহুর আহমেদে এটা হয়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ, ৮৩ এর কাছাকাছি। তিন নম্বরে নেমে মুমিনুলের কাছ থেকে বড় ইনিংস আশা করতেই পারে দল।

    জাহির খান

    এখনও টেস্ট অভিষেক হয়নি, তবে প্রস্তুতি ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর এই চায়নাম্যানকে বাইরে রাখা কঠিন আফগানদের জন্য। বাংলাদেশ দলেও তাকে নিয়ে আলাদা আলোচনা হয়েছে, ভিডিও দেখে বিশ্লেষণ হয়েছে। রশিদ খান অবশ্যই মূল হুমকি, তবে এই বাঁহাতিও অলক্ষ্যে থেকে হতে পারেন ভয়ংকর।

    সম্ভাব্য একাদশ

    কোচ ডমিঙ্গো আর অধিনায়ক সাকিবের কথা থেকে আভাস পাওয়া গেল, পেসারদের কারও সুযোগ নাও হতে পারে এই টেস্টে। সেক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যানকে

    বাংলাদেশ একাদশ

    সাদমান, সৌম্য, মুমিনুল, মুশফিক, সাকিব (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ, লিটন, মোসাদ্দেক, মিরাজ, নাঈম, তাইজুল।

    আফগানরাও শেষ পর্যন্ত হয়তো একজন পেসার নিয়েই নামতে পারে। অভিষেক হতে পারে জাহির খানের।

    আফগানিস্তান একাদশ

    ইহসানউল্লাহ, ইব্রাহীম, রহমত, হাশমতউল্লাহ, আশগর, নবী, ইকরাম, রশিদ (অধিনায়ক), ইয়ামিন, কাইস, জাহির

     

    সংখ্যা সংখ্যায়

    ৯৯

    এই মুহূর্তে তাইজুল ইসলামের উইকেট সংখ্যা। আর একটি পেলেই হয়ে যাবে ১০০ টেস্ট ক্রিকেট, মাত্র ২৫ টেস্টে। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ১০০-র রেকর্ডটা ভাঙছেন প্রায় নিশ্চিত ভাবেই, কারণ ২৮ টেস্টে  ১০০ উইকেট নিয়ে সাকিব আল হাসান বেশ পিছিয়ে।

     

    তারা যা বলেন

    আমাদের শেষ কিছু দিন ভালো সময় কাটেনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওভারঅল, সবদিক থেকে, সেটা এ দল বলেন, একাডেমি বলেন, কোথাও আমরা ভালো পারফর্ম করতে পারিনি। কেবল অনূর্ধ্ব-১৯ দল ফাইনাল খেলেছে ইংল্যান্ডে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের জন্য এই ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ। কারণ আমরা যদি এই ম্যাচ ভালোভাবে জিততে পারি, আমার কাছে মনে হয়, অনেক কিছুই আবার একটু স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

    সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ অধিনায়ক

    এই ফরম্যাটে আমরা নতুন। অবশ্যই বাংলাদেশ আমাদের চেয়ে বেশি ভালো অবস্থানে আছে, কারণ তারা শখানেকের বেশি টেস্ট খেলে ফেলেছে। আমাদের প্রতি ম্যাচ থেকেই কিছু না কিছু শিখতে হবে। আমাদের প্রতিভা আছে, দক্ষতাও আছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে পারি।

    রশিদ খান, আফগানিস্তান অধিনায়ক