• প্রীতি ম্যাচ
  • " />

     

    দশ হলুদ কার্ডের প্রীতি ম্যাচে চিলির সঙ্গে আর্জেন্টিনার ড্র

    দুই মাস আগে নিজেদের সবশেষ আন্তজার্তিক ম্যাচে এই দুইদল খেলেছিল একে অপরের বিপক্ষে। কোপা আমেরিকার তৃতীয়স্থান নির্ধারনী ম্যাচের মতো এবার অবশ্য অতোখানি উত্তাপ ছড়ায়নি চিলি-আর্জেন্টিনা ম্যাচ। তবে দুইদলের প্রীতি ম্যাচও দেখল মোট ১০টি হলুদ কার্ড। এতোকিছুর ভিড়ে অবশ্য গোলটাই হয়নি শুধু। লস অ্যাঞ্জেলস মেমোরিয়াল কলোসিয়ামে আর্জেন্টিনা ও চিলির প্রীতি ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্যভাবে।

     

     

    কোপা আমেরিকার তৃতীয়স্থান নির্ধারণী সেই ম্যাচের কথা ভুলে না গিয়ে  থাকলে নিশ্চয়ই জানা আছে সে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন লিওনেল মেসি ও গ্যারি মেডেল। মেসি তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন জাতীয় দলের হয়ে। আর ওই লাল কার্ডের জন্য দলে ছিলেন না মেডেল। মেসি ছাড়াও অবশ্য আর্জেন্টিনার হয়ে অ্যানহেল ডি মারিয়া, সার্জিও আগুয়েরোরাও এবার ডাক পাননি। হোয়াকিন কোরেয়া, পাউলো দিবালা  ও লাউতারো মার্টিনেজকে নিয়ে চিলির বিপক্ষে আক্রমণভাগ সাজিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ।


    দিবালা, মার্টিনেজ জুটিই প্রথমার্ধে আরেকটু হলে গোল পাইয়ে দিচ্ছিল আর্জেন্টিনাকে। জিওভানি লো সেলসো তৈরি করেছিলেন সুযোগটি, মার্টিনেজ শুধু লে অফটা দিয়েছিলেন দিবালাকে। ডিবক্সের মাথা থেকে বাম পায়ে ভালো শটও করেছিলেন দিবালা। কিন্তু গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোর দারুণ সেভে আর শেষ ম্যাচের মতো আবার চিলির বিপক্ষে গোল পাওয়া হয়নি দিবালার। ব্রাভো জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দুই বছর পর নেমেছিলেন মাঠে, দুর্দান্ত এক সেভ করে জানিয়ে রেখেছেন জায়গাটা ফেরত নেওয়ার পথেই আছেন তিনি।

    আর্জেন্টিনার গোলবারের নিচেও অবশ্য ছিল নতুন মুখ। নতুন হলেও তিনি তরুণ কেউ নন। দলবদলের এবার পোর্তোতে যোগ দেওয়া ৩১ বছর বয়সী অগতিন মার্চেসিন। প্রথমার্ধে তিনিও একটি ভালো সেভ করে আটকে রাখেন চিলিকে। কার্লোস আরাঙ্গুইজের শট ৩৯ মিনিটে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধেও অবশ্য খুব বেশি সুযোগ তৈরি করা হয়নি দুইদলের। আর্জেন্টিনা বল পজেশনে পুরো ম্যাচে ছিল এগিয়ে। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার আশার কারণ হতে পারে তাদের মিডফিল্ড। লিয়ান্দ্রো পারেদেস তো ছিলেনই, তবে রদ্রিগো ডি পল সময়ে সময়ে ঝলক দেখিয়েছেন বেশ কয়েকবার। বিরতি শেষে খেলা শুরু হওয়ার ৮ মিনিট পর মাঠে নেমেছিলেন রিভার প্লেট মিডফিল্ডার এক্সিকুয়েল পালাসিওসও। নেমেই দারুণ একটি আক্রমণ সাজিয়েছিলেন তিনি। তবে লাতসিও ফরোয়ার্ড হোয়াকিন কোরেয়া সফল হননি সেখান থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে।

    ৬০ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া হয় চিলিরও। এদুয়ার্দো ভারগাস ডিবক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন, বাম প্রান্ত দিয়ে করা মাইনাস গোল থেকে দশ গজ দূরে রিসিভ করেছিলেন সিজার পিনারেস। কিন্তু চিলি মিডফিল্ডার প্রথম সুযোগে শট করেও আটকে গেছেন বারপোস্টে। নইলে হাতে গোণা অল্প কিছু আক্রমণ করেও গোলটা পেয়ে যেত চিলি। লা রোহাদের হয়ে অ্যালেক্সিস সানচেজ পুরো ম্যাচ খেলেছেন, আর্তুরো ভিদাল অবশ্য দলে ছিলেন না। সানচেজ পুরো ম্যাচ খেললেও তিনিও সুবিধা করতে পারেননি তেমন, অল্প-স্বল্প সময়ের জন্যই বল পেয়েছেন নিজের কাছে।

    আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি দ্বিতীয়ার্ধে নতুনদের সুযোগ দিয়েছেন। লুকাস আলারিও, নিকোলাস ডমিঙ্গুয়েজ, আলিস্টাররা নেমেছিলেন। দিবালাকে ৭০ মিনিটেই উঠিয়ে নিয়েছিলেন স্কালোনি। দ্বিতীয়ার্ধে তাই কিছুটা এলোমেলোই খেলেছে আর্জেন্টিনা। তবে শেষ পাঁচ মিনিটে রিভারপ্লেট ডিফেন্ডার লুকাস মার্টিনেজ দুইবার গোলবঞ্চিত হয়েছেন। ৮৫ মিনিটে বারপোস্টে লেগেছে তার হেড, ইনজুরি সময়ে মার্টিনেজের হেড ধরে ফেলেছেন ব্রাভো। দুইবারই কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠেছিলেন মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত তাই ম্যাচটা একরকম ম্যাড়মেড়ে ড্র-তে শেষ হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা একাদশ
    মার্চেসিন, মন্তিয়েল, লুকাস মার্টিনেজ, অটামেন্ডি, টালিয়াফিকো, পারেদেস, ডি পল, লো সেলসো, দিবালা, কোরেয়া, লাউতারো মার্টিনেজ

    চিলি একাদশ
    ব্রাভো, ওপাজো, ভেগাস, ভিয়াস, পারোত, আরাঙ্গুইজ, বায়েজা, পিনারেস, সাগাল, সানচেজ, ভার্গাস