• আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট
  • " />

     

    চট্টগ্রামে চাহিদামতো উইকেট না পেয়ে বিস্মিত ও হতাশ সাকিব

     

    সাকিব আল হাসানের সংবাদ সম্মেলনে আজ আসাটাই ছিল চমক। এমনিতে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে খুব বেশি প্রচারমাধ্যমের সামনে আসেন না। তবে আজ সম্ভবত সাকিব আল হাসান একটা বার্তা দিতেই এসেছিলেন। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামের উইকেট দেখে তিনি সন্তুষ্ট নন, সেটা রাখঢাক না করে সরাসরিই জানিয়ে দিলেন।

     

     

    বোমার শুরুটা আসলে হয়েছিল দুই দলের স্পিনারদের মধ্যে পার্থক্য কেমন, সেই প্রশ্নে। সাকিব শুরুতেই বললেন, এরকম ফ্ল্যাট উইকেটে তাদের মতো ফিঙ্গার স্পিনারদের জন্য কাজটা কঠিন। নবী দুই পেলেও মনে করিয়ে দিলেন, আসল কাজ রশিদ খানই করেছেন, ‘আমাদের ফিঙ্গার স্পিনার, ওদের রিস্ট স্পিনার। এটাই পার্থক্য। নবী ভাই বল করেছে, দুই উইকেট পেয়েছে। তবে আমাদের ফিঙ্গার স্পিনাররাই দশ উইকেট পেয়েছে। যেহেতু আমাদের রিস্ট স্পিনার নাই, এরকম ফ্ল্যাট উইকেটে রিস্ট স্পিনার ছাড়া কাজ কঠিন হয়ে যায়।’ এতক্ষণ পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু সাকিবের পরের কথায় একটু নড়েচড়ে বসতে হলো, ‘যেহেতু এরকম ফ্ল্যাট উইকেট আমরা আশা করিনি, তাই আমাদের জন্য পরিস্থিতিটা কঠিন।’

    সাকিব আসলেই ঠিক বলেছেন কি না সেটা জানার জন্য প্রশ্নটা একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আবার করা হলো। এরপর আরেকটু খোলাসা করলেন তার উত্তর, ‘আমরা সবাই অনেক বিস্মিত, এরকম কিছুই আশা করিনি। আমরা যেটা আশা করেছিলাম, তার পুরোই বিপরীত। তবে তার মানে এই নয়, আমরা ভালো কিছু করতে পারব না। কারণ অনেক সময় আছে যে ধরনের প্ল্যান আছে, ওভাবে নাও হতে পারে। ভালো দলগুলো ওখানেই প্রমাণ করে যখন বক্সের বাইরে প্রশ্ন আছে, সেটার উত্তর জানা থাকে। আমরা চেষ্টা করব, ওই উত্তর আমরা দিতে পারি। তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

    কিন্তু এই উইকেটে সাকিবের চাওয়া কী ছিল? চট্টগ্রাম টেস্ট দেখলে অবশ্য বাংলাদেশ অধিনায়কের কথা শুনে আপনার ধন্দ লাগতে পারে। এমনিতে মিরপুরের মতো চট্টগ্রামে উইকেটে সেরকম টার্ন কমই থাকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টেও প্রথম দিন উইকেট ব্যাটিং করার জন্য ভালোই ছিল। আর এই টেস্টে তিন স্পিনার নামানোর পরেই টার্নিং-ট্র্যাকের চাওয়াটা পরিষ্কার হয়ে যায়। দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত বল খুব টার্ন করেনি, তবে মাঝেমধ্যে নিচু হয়েছে অনেক। তবে সাকিব নিজের চাওয়ার কথা বলতে চাইলেন না, ‘না, চাওয়া পাওয়াগুলো আমি কখনোই চাই না যে প্রকাশ হবে। খুবই গোপনীয়তার সাথে এই মিটিংগুলো হয়, পরিকল্পনাগুলো তৈরি হয়। আমি কখনোই চাইব না যে এই পরিকল্পনাগুলো জানাজানি হোক। তবে আমরা যে আশা ছিল, তা হয়নি। তবে হয়নি মানে এই নয়, যে আমরা ভালো কিছু করতে পারব না। প্রত্যাশার বারেও অনেক সময় অনেক কিছু হতে পারে। আমাদেরই দায়িত্ব এই সময়ে ভালোভাবে স্টেপ আপ করা।’

    কিন্তু দুই দলই তো স্পিনারদের নিয়েই দল সাজিয়েছে। আফগানরা বিশেষ করে রশিদ খান সেখানে এত বেশি ভয়ংকর হলেন কীভাবে? সাকিবের পর্যবেক্ষণ, ‘এই উইকেটের কারণে রশিদ বেশি এফেক্টিভ ছিল। এর বড় কারণ ওর বল লো করছিল, ও অনেক পেসে বল করে। পেস থাকার কারণে রিয়াদ ভাই ও লিটন খেলতে গিয়ে ওকে মিস করেছে, বলটা নিচু হয়ে গেছে। বাউন্স না থাকার কারণে ক্রস ব্যাটেড শট খেলা একটু কঠিন। যেটা আমার মনে হয় ওর বড় একটা সুবিধা হয়েছে এই উইকেটের জন্য।  

    সাকিব স্বীকার করলেন ঘরের মাঠে চাহিদা অনুযায়ী উইকেট না পেয়ে তিনি হতাশ, তবে এখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব ভলেই মনে করছেন্, ‘আমরা হতাশ অবশ্যই, তবে এখন এ নিয়ে আলোচনা করে লাভ নাই। এখন এখান থেকে কীভাবে কামব্যাক করতে পারি, অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেভাবে দল সাজিয়েছি, তৈরি করেছি আপনারা সবাই বুঝবে কী ধরনের পিচ আশা আশা করেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই অনেক সময় অনেক কিছু কারণে সম্ভব হয় না। এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আপনি একটা জিনিস চাইতেই পারেন, সব সময় পাবেন সেটা আশা করা ভুল।’

    সরাসরি বললেন না বটে, তবে সাকিব সম্ভবত প্রথম দিন থেকেই বাড়তি টার্ন চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের যে ব্যর্থতা, সেটার জন্য উইকেট তো আসলেই কোনো অজুহাত হতে পারে না!