• প্রীতি ম্যাচ
  • " />

     

    মার্টিনেজের হ্যাটট্রিকে মেক্সিকোর বিপক্ষে বড় জয় আর্জেন্টিনার

    এরপর আর্জেন্টিনা ভাবতেই পারে নতুন একজন নাম্বার নাইন পেয়ে গেছে তারা। লাউতারো মার্টিনেজের কাছ থেকে অবশ্য আর্জেন্টিনার প্রত্যাশাও ছিল এমন কিছু। ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আর্জেন্টিনার জার্সিতে পেয়েছেন প্রথম হ্যাটট্রিক। প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাও পেয়েছে বড় জয়। সাবেক আর্জেন্টিনা কোচ জেরার্ডো টাটা মার্টিনোর মেক্সিকোর সঙ্গে ৪-০ গোলে জিতেছে লা আলবিসেলেস্তেরা।

    টেক্সাসে মেক্সিকোর বিপক্ষে মার্টিনেজ হ্যাটট্রিক করেছেন প্রথমার্ধে ৩৯ মিনিটের ভেতর। আরেকটি গোল করেছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাতেও অবদান ছিল মার্টিনেজের। এই নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ১৩ ম্যাচে মার্টিনেজের গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৯।



    ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড গোলের খাতা খোলেন ১৭ মিনিটে। মেক্সিকো ডিফেন্ডার নেস্তোর আরাউহো ভুল পাস দিয়েছিলেন পারেদেসকে। এরপর সেখান থেকেই আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনার। পারেদেস হাফলাইনে নিজের অর্ধ থেকে পাস বাড়ান মার্টিনেজের উদ্দেশ্যে। পাস রিসিভ করে ডিবক্সের ভেতর ঢোকার পরও বহু কাজ বাকি ছিল। সামনে ছিল তিন ডিফেন্ডার। ঠান্ডা মাথায় সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বাম পায়ের নিচু শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন মার্টিনেজ।

    ৫ মিনিট পর মার্টিনেজের দ্বিতীয় গোলেও আরাউহো সুবিধা করে দেন আর্জেন্টিনাকে। মিডফিল্ডে এলোমেলো পাসের পর মার্টিনেজের কাছ বল গিয়েছিল। তিনি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি বল। কিন্তু আরাউহো শট করে বল ক্লিয়ার করতে গেলে মার্টিনেজে গায়ে বাঁধা পেয়ে বল পেয়ে যান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এক্সিকুয়েল পালাসিওস। রিভার প্লেট মিডফিল্ডারের থ্রু পাস দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায় মার্টিনেজের কাছে। এগিয়ে আসা গিলের্মো ওচোয়াকে কোনো সুযোগ না দিয়েই দ্বিতীয় গোলটিও করে ফেলেন মার্টিনেজ।

    ৩৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার পাওয়া পেনাল্টিটাও মার্টিনেজ আদায় করেছিলেন। ফারপোস্টে ক্রস এসেছিল তার কাছে, ভলি করেছিলেন তিনি। সামনে থাকা কার্লোস সালসেদোর হাতে লাগে মার্টিনেজের শট। আর্জেন্টিনাও পায় পেনাল্টি। পারেদেস ওচোয়াকে ভুলদিকে পাঠিয়ে নিচু শটে সফল হন।

     

     

    এর কিছুক্ষণ পর হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মার্টিনেজ। মার্টিনেজের ভুলের হ্যাটট্রিক করলেন আরাউহোও। ডিবক্সের মাথায় বল ক্লিয়ার করার বদলে উলটো তাকেই উপহার দিলেন মেক্সিকো সেন্টারব্যাক, মার্টিনেজও বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ওচোয়ার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল মেরে করলেন ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক।

    আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি এদিন একাদশে রাখেননি পাউলো দিবালাকে। ম্যাক আলিস্টার, মার্টিনেজদের সঙ্গে ছিলেন আক্রমণে ছিলেন মার্কোস আকুনিয়া। গোলবারের নিচে বোকা জুনিয়র্সের এস্তেবান আন্দ্রাদা ছিলেন। আর সেন্টারব্যাক পজিশনে জায়গা পেয়েছিলেন মার্কোস রোহো। নিকোলাস টালিয়াফিকোর হাতে ছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে অবশ্য তেমন একটা পরীক্ষা দিতে হয়নি এই ম্যাচে। হার্ভিং লোজানো, রাউল হিমেনেজরা ছিলেন বোতলবন্দী। আর হাভিয়ের হার্নান্দেজ পুরো সময় কাটিয়েছেন বেঞ্চেই।

     প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকায়  আর্জেন্টিনার জন্য কাজটা হয়ে গিয়েছিল আরও সহজ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মার্টিনেজের বদলি হয়ে দিবালা নেমেছিলেন মাঠে। আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যবধান বাড়তে পারত আরও। রদ্রিগো ডি পল গোলবঞ্চিত হন ৭৯ মিনিটে। ওচোয়া দারুণ সেভে ফেরান তাকে। শেষদিকে মাঠে নেমেছিলেন ম্যানুয়েল লানজিনিও। ৬টি পরিবর্তন করিয়ে আর্জেন্টিনা কোচ ঝালিয়ে নিয়েছেন দলকে। সঙ্গে জয়টা তো বোনাস, তাতে আত্মবিশ্বাস পুঁজি হচ্ছে আর্জেন্টিনার।  

    আর্জেন্টিনা একাদশ
    আন্দ্রাদা, মন্তিয়েল, লুকাস মার্টিনেজ, রোহো, টালিয়াফিকো, পারেদেস, ডি পল, পালাসিওস, আকুনিয়া, ম্যাক আলিস্টার, লাউতারো মার্টিনেজ

    মেক্সিকো একাদশ
    ওচোয়া, মিগুয়েল লাউন, সালসেদো, আরাউহো, গ্যালার্দো, হেরেরা, আলভারেজ, জোনাথন দন সান্তোস, করোনা, রাউল হিমেনেজ, লোজানো