• সিরি আ
  • " />

     

    কিক অফের আগে : ডার্বি ডি ইতালিয়াতে 'হলি গ্রেইলের' খোঁজে কন্তে, সারি

    কবে, কখন 
    ইন্টার মিলান-জুভেন্টাস
    ৭ সেপ্টেম্বর, রাত ১২.৪৫ 
    সান সিরো 


    খেলোয়াড় হিসেবে ১৩ বছর। ছিলেন ক্লাবের অধিনায়ক। শিরোপা জিতেছেন ১৩ বার। কোচ হিসেবে ছিলেন তিন বছর। তিনবারই জুভেন্টাস হয়েছিল ইতালির সেরা। সিরি আতে টানা আট শিরোপা জিতে জুভেন্টাস এখন যে মেশিনে পরিণত হয়েছে তার শুরুটা ছিল তার হাত ধরেই। আন্তোনিও কন্তে সেই জুভেন্টাসের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রথমবারের মতো। জুভেন্টাসের বিপক্ষে খেলাটাকে বলছেন আবেগের, সঙ্গে যোগ করেছেন ম্যাচের সময় আর দশটা প্রতিপক্ষের মতোই মনে হবে জুভেন্টাসকে তার কাছে। পরের কথাটা কন্তের পেশাদারত্ব আর কঠোর মনোবলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

    মাউরিসিও সারি অবশ্য এতোদিন ইন্টার-জুভেন্টাসের ডার্বি ডি’ইতালিয়া দেখে গেছেন দূর থেকে। নাপোলির ম্যানেজার হিসেবে নজর কেড়েছিলেন। তার অধীনে নাপোলি এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিল। জুভেন্টাসকে তাড়া করেও সিরি আ শিরোপা অধরাই থেকে গেছে সারির। 

    দুই ম্যানেজারের মিল আছে এক জায়গায়। দুইজনই সাবেক চেলসি ম্যানেজার। এক বছর কন্তে ছিলেন বিশ্রামে। আর সে বছর চেলসিতে ছিলেন সারি। এবার দুইজনই ফেরত এসেছেন ইতালিতে। জুভেন্টাস আটবারের লিগ চ্যাম্পিয়নও, কিন্তু সারিকে ক্লাবের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে জুভেন্টাস জানিয়ে দিয়েছে শুধুমাত্র শিরোপাই শেষ কথা নয়। খেলার ধরনটাও এবার মুখ্য জুভেন্টাসের কাছে। 

    মাঠের লড়াইটা হবে লাউতারো মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের ভেতর। কিন্তু আসল গুটি আসলে চালবেন দুই ম্যানেজার ডাগ আউট থেকে। কন্তের ইন্টার টানা ৬ ম্যাচ জিতে শুরু করেছে সিরি আ। নিজেদের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার শুরুর ছয় ম্যাচ জিতেছে ইন্টার, ১৯৬৬ সালের প্রথমবার।  গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার কাছে হারটা মন্দ কপাল হিসেবে দেখতে পারেন আপনি। পুরো ম্যাচে ইন্টারকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বার্সাকে। 

    লোকটা কন্তে বলেই ইন্টারের দারুণ ফর্ম আশা দেখাচ্ছে সমর্থকদের। ২০১০ সালের পর আর লিগ শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাদের। কন্তে যেখানেই গেছেন প্রথম মৌসুমে শিরোপা জিতেছেন। পেপ গার্দিওলা যা পারেননি, ইউর্গেন ক্লপ যা পারেননি- সেটা করে দেখিয়েছিলেন কন্তে। ইংল্যান্ডে খেলার ধাঁচ বুঝতে বুঝতে সময় গেছে বাকিদের, কন্তে তার চেলসি নিয়ে তার আগেই চলে গিয়েছিলেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। 

    দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার পর কন্তের অধীনে প্রথমবার ইতালির সেরা হয়েছিল জুভেন্টাস। সেই ধারা অব্যাহত রেখে জুভেন্টাস ইতালিতে একচ্ছত্র আধিপত্য সৃষ্টি করেছে। জুভেন্টাসকে কন্তে খেলাতেন ৩-৫-২ ফর্মেশনে। সেই ছক আবার ফেরত এনেছেন কন্তে, এবার ইন্টারের হয়ে। 

    ডিয়েগো গডিন রক্ষণে দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, নতুন আশা স্টেফান সেনসি নিজেকে নতুন করে চেনাচ্ছেন। আর রোমেলু লুকাকুকে কেন এতোগুলো টাকা দিয়ে কন্তে নিজের দলে ভিড়িয়েছেন সেটার প্রমাণ হয়ে গেছে প্রথম কয়েক ম্যাচেই। ৬ ম্যাচে লুকাকু এরই মধ্যে করে ফেলেছেন তিন গোল।  আন্তোনিও কান্দ্রেভার ক্যারিয়ারটাকেই শেষ ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। সেই কান্দ্রেভাও কন্তের অধীনে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন। নিজের আত্মসবিশ্বাস আর দৃঢ়তা দলের বাকিদের ভেতর সঞ্চার করতে পারেন বলেই কন্তেকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছে ইন্টার। 

    সারির ব্যাপারটা অবশ্য একটু আলাদা। ছন্দময় ফুটবলের জন্য বিখ্যাত তিনি। তার জুভেন্টাসও এখন পর্যন্ত অপরাজিত। ফিওরেন্টিনার সঙ্গে একমাত্র ড্র ও পাঁচ জয়ে ইন্টারের চেয়ে দুই পয়েন্টে পিছিয়ে আছে জুভেন্টাস। ধীর স্থির মৌসুম শুরু পরও অবশ্য জুভেন্টাস সাম্প্রতিক সময়ে শেষদিকে পুষিয়ে দিয়ে লিগ জিতেছে প্রতিবার। আর একটু দেরিতে হলেও সারির ছাপও পড়ছে জুভেন্টাসে। 

    ডগলাস কস্তা ইনজুরিতে পড়ায়  নিজের ৪-৩-৩ ফর্মেশন থেকে বদলে ৪-৪-২ অনুসরণ করছেন সারি। গঞ্জালো হিগুয়াইনও নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন। তাই রোনালদোর সঙ্গে তার সমন্বয়টাও হচ্ছে ভালো।  নাম্বার টেন রোলের জন্য জুভেন্টাসে দাবিদার আছেন দুইজন, অ্যারন রামসি ও পাউলো দিবালা। তবে দুইজনের একজনও সারির দলে নিয়মিত নন। চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ম্যাচে ফ্রেডেরিকো বের্নাদেস্কি খেলেছেন এই দুইজনের সঙ্গে। গোলও পেয়েছেন। ইন্টারের বিপক্ষেও তাই নিজের দাবি জানিয়ে রেখেছেন তিনি। 

    সারির সমস্যা অবশ্য রক্ষণে। রাইটব্যাক দানিলো ইনজুরির কারণে নেই। গত কয়েক ম্যাচ হুয়ান কুয়াদ্রাদো খেলছেন এই পজিশনে। এই ম্যাচেও তাকেই খেলানোর কথা সারির। কন্তের উইং নির্ভর ফুটবলের বিপরীতে সারির আনকোরা রাইটব্যাক কেমন করে সেটাও পার্থক্য গড়ে দিতে পারে ম্যাচে। 

    পার্থক্য গড়ার কথা বললে অবশ্য সারির হাতে যে অস্ত্র আছে তার ধারে কাছেও কিছু নেই কন্তের হাতে। রোনালদো তো এমন কিছুর জন্যই অপেক্ষা করেন। ইন্টার এখন পর্যন্ত বড় দলগুলোর ভেতর খেলেছে লাৎসিও ও মিলানের বিপক্ষে। আর জুভেন্টাস শুধুমাত্র নাপোলির বিপক্ষে। সে ম্যাচেও গোল করেছিলেন রোনালদো। নতুন মৌসুমে আপাতত এটাই জুভেন্টাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। আপনি জানেন রোনালদো তেঁতে আছেন, কন্তেও  জানেন সেটা। রোনালদোকে আটকানোর টোটকা বের করতে পেরেছেন তো কন্তে?

    কন্তে যাই করুন, এ ম্যাচের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে ইন্টারের। হারানো গৌরব ফিরে পেতে ডার্বি ডি’ইতালিয়া জিততেই চাইবে ইন্টার। আর কন্তের ওপর ভরসা করা ছাড়া আর কী বা উপায় তাদের। এখন কথা হচ্ছে ইন্টারকে শেষ পর্যন্ত হলি গ্রেইলের খোঁজ এনে দিতে পারবেন কন্তে? ইতালিয়ান যেভাবে শুরু করেছেন তা তো একটা ব্যাপার নিশ্চিত, কিংবদন্তী হওয়ার পথে নেমেছেন তিনি।   

    দলের খবর
    বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলেননি লুকাকু। জুভেন্টাসের ম্যাচের আগেও সেভাবে অনুশীলন করেননি। শেষ পর্যন্ত একাদশে তার জায়গা তাই নিশ্চিত নয়। আর অ্যালেক্সিস সানচেজ নিশ্চিতভাবেই খেলছেন না, আগের ম্যাচে ইন্টারের হয়ে প্রথম গোল করার পর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি।

    মাতেও ডি শিলিও, দানিলো নেই। আর জর্জিও কিয়েলিনি তো নেই বহুদিনের জন্যই।  

    সম্ভাব্য একাদশ
    ইন্টার 

    হান্দানোভিচ, গডিন, ডি ভ্রাই, স্ক্রিনিয়া, ব্রোজোভিচ, কান্দ্রেভা, বারেল্লা, সেনসি, আসামোয়াহ, মার্টিনেজ, লুকাকু 

    জুভেন্টাস  
    সেজনি, কুয়াদ্রাদো, বনুচ্চি, ডি লিট, সান্দ্রো, খেদিরা, পিয়ানিচ, মাতুইদি, বের্নাদেস্কি, মাতুইদি, হিগুয়াইন, রোনালদো 

    প্যাভিলিয়ন প্রেডিকশন 
    ইন্টার ১-১ জুভেন্টাস