• প্রীতি ম্যাচ
  • " />

     

    নাইজেরিয়ার সাথে ড্রয়ে ইনজুরিতে নেইমারকেও হারাল ব্রাজিল

    গত গ্রীষ্মে কোপা আমেরিকা জেতাটা যেন অভিশাপই হয়ে এসেছে ব্রাজিলের জন্য। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাতিন আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের পর থেকে খেলা কোনও ম্যাচেই জয়ের দেখা পায়নি তিতের দল। সে তালিকায় এবার যুক্ত হল নাইজেরিয়ার নাম। সিঙ্গারপুর আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার সাথে লিড নিলেও ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। ড্রয়ের সাথে আরও দুঃসংবাদ পেয়েছে তিতের দল, হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়ে ছিটকে গেছেন নেইমার। 

    নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছিলেন তিতে; লেফটব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রো এবং ফিলিপ কুতিনিয়োর বদলে নেমেছিলেন রেনান লোদি এবং এভারটন। ম্যাচের তিন মিনিটেই লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল, কিন্তু কর্নার থেকে রবার্তো ফিরমিনোর শট চলে যায় নাইজেরিয়া গোলের বারপোস্ট ঘেঁষে। নাইজেরিয়াও অবশ্য থেমে থাকেনি, মিনিটখানেক পর অ্যালেক্স ইওবির ক্রসে ডিবক্সে বল পেয়ে যান ওসিমহেন। থিয়াগো সিলভাকে কাটিয়ে এডারসন মোরায়েসের গোলে শট নেন তিনি। কিন্তু চমৎকার সেভে ওসিমহেনকে ফিরিয়ে দেন এডারসন।

     

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে গোল। উল্লাসটা একটু বেশিই আরিবো এবং নাইজেরিয়ার!

     

    ১২ মিনিটে ইনজুরিতে পড়া নেইমারের বদলি হিসেবে নামেন কুতিনিয়ো। প্রথমার্ধে আরেকটু হলেই নিজেদের ভুলে ইছিয়ে পড়তে পারত ব্রাজিল। ১৯ মিনিটে চুকুয়েজের ক্রসে মার্কিনিয়োসের ক্লিয়ারেন্স ব্রাজিলের গোলের ক্রসবারে লেগে চলে যায় গোলের বাইরে দিয়ে। এরপরই মূলত টনক নড়ে ব্রাজিলের। ২৮ মিনিটে খুব সম্ভবত প্রথমার্ধের সেরা সুযোগ পান গ্যাব্রিয়েল হেসুস। ফিরমিনোর থ্রু পাসে নাইজেরিয়া গোলরক্ষক উজোহোকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার।

    ৩০ মিনিটে আবারও ব্রাজিলকে রুখে দেন উজোহো, এবার ডিবক্সের বাইরে থেকে ফিরমিনোর আগুনে শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ পেলেও ব্রাজিল নয়, লিড নেয় উজোহোতে ‘সেলেসাও’দের আক্রমণ জোয়ার রুখে দেওয়া নাইজেরিয়া। ৩৫ মিনিটে সিমোনের ক্রসে ডিবক্সে বল নিয়ন্ত্রণে আনেন আরিবো। চার্জ করতে আসা সিলভাকে দারুণভাবে কাটিয়ে এডারসনকে পরাস্ত করেন তিনি। লিড নেওয়ার পর ৪-৩-৩ এর বদলে ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলতে থাকে নাইজেরিয়া। গোলের সুযোগও আর পাওয়া হয়নি ব্রাজিলের।

     

    দলকে সমতায় ফেরানোর পর উদযাপনে ব্যস্ত কাসেমিরো

     

    রক্ষণাত্মক নাইজেরিয়াকে ছোট ছোট পাসে বিপদে ফেলতে না পেরে সেটপিস বা দূরপাল্লার শটেই নির্ভর করে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঐ সেটপিসেই সমতায় ফেরে তিতের দল। দানি আলভেজের ফ্রিকিক থেকে মার্কিনিয়োসের দারুণ হেড উজোহোকে পরাস্ত করলেও প্রতিহত হয় ক্রসবারে, ফিরতি বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি কাসেমিরো। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের সব সুযোগের মূলে ছিলেন আলভেজই, তার মাপা ফ্রিকিক-কর্নার ক্লিয়ার করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে নাইজেরিয়াকে। মিনিট পাঁচেক পর লিডটাও নিতে পারত ব্রাজিল, কিন্তু এবারও বাধ সাধেন উজোহো।

    হেসুস, কাসেমিরোকে দারুণ ডাবল সেভে ফিরিয়ে দেন তিনি, ফিরতি বলও পেয়েছিল ব্রাজিলই; কিন্তু রিচার্লিসনের শট লাইন থেকে ফিরিয়ে দেন আজাই। ৫৬ মিনিটে আবারও সেটপিসে সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল, কিন্তু আলভেজের ক্রসে এবার হেসুসের ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ রেঞ্জ থেকে ফিরিয়ে দেন উজোহো। নাইজেরিয়াকে চেপে ধরে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিল, ৬৫ মিনিটে ভাগ্য সহায় হলে নিশ্চিতভাবেই লিড নিতে পারতেন কুতিনিয়োরা। আলভেজের কর্নার ধরে এগিয়ে আসেন উজোহো, কিন্তু তার ওপর লাফিয়ে উঠে হেড করেন কাসেমিরো; কিন্তু তার হেড প্রতিহত হয় ক্রসবারে।

    কাসেমিরোর সাথে বল দখলের সময় সংঘর্ষ হওয়ায় হাতের ইনজুরিতে পড়েন উজোহো, মাঠ ছাড়তে হয় স্ট্রেচারে। তার জায়গায় নামেন মাদুকা ওকোয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য চেষ্টার কমতি রাখেনি ব্রাজিল, কিন্তু রক্ষণাত্মক নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল আর পাওয়া হয়নি তাদের। ৮৬ মিনিটে রিচার্লিসনের মাইনাস থেকে কুতিনিয়োর শট লাইন থেকে ফিরিয়ে দেন আজাই। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে ‘সুপার ঈগল’রা। কোপা আমেরিকা জয় যেন অভিশাপই হয়ে এসেছে তিতের দলের জন্য, পেরুকে ফাইনালে হারানোর পর এখন পর্যন্ত খেলা চার ম্যাচের কোনওটিতেই জিততে পারেননি নেইমার-কুতিনিয়োরা।