• লা লিগা
  • " />

     

    ভায়াদোলিদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকটাই শুধু পেলেন না মেসি

    লা লিগায় লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য কিছু করাও এখন আর চমক নেই, হয়ে গেছে নিয়মিত ঘটনা। রিয়াল ভায়াদোলিদের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয়ে লা লিগায় সবার ওপরে উঠেছে বার্সেলোনা। তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন অনুমিতভাবেই তাদের অধিনায়ক, লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত দুইটি গোল করেছেন, আরও দুইটি করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে। ম্যাচের একেবারে শেষে গিয়ে স্বভাব বিরুদ্ধ মিসটা না করলে হ্যাটট্রিকও পেয়ে যেতে পারতেন মেসি। এমন রাতে মেসির হ্যাটট্রিক না পাওয়াটাই তাই হয়ে গেছে খবর!

    এল ক্লাসিকো পিছিয়ে যাওয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ বিরতি পেয়েছিল বার্সেলোনা। এর্নেস্তো ভালভার্দে অবশ্য লম্বা ছুটির পর একাদশে রাখেননি কিছুটা চোট শঙ্কায় থাকা অ্যান্টোয়ান গ্রিযমানকে। মেসি, সুয়ারেজদের সঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন আনসু ফাতি। লা লিগায় আগের পাঁচ ম্যাচের কোনোটিতেই একের বেশি গোল হজম করেনি ভায়াদোলিদ। রক্ষণ এবার তাদের মূল শক্তি। কিন্তু সেই রক্ষণ ভাঙতে শুরুতে মেসিদের দরকার হয়নি বার্সার।

    ম্যাচের মাত্র দুই মিনিটে মেসির বাম দিক থেকে করা ক্রস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় ভায়াদোলিদ ডিফেন্ডাররা। ভাগ্যক্রমে বক্সের ভেতর বল পেয়ে গিয়ে এরপর আরও দুই দফা সৌভাগ্যের দেখা পান ক্লেমেন্ত লেংলে। তার ভলি প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে, বারপোস্ট ঘেঁষে এরপর ঢুকে যায় ভায়দোলিদের জালে। বার্সাও এগিয়ে যায় তখন।


    দুর্দান্ত শুরুর পরও মেসিকে তাঁতিয়ে দিতেই যেন গোল হজম করে বসে বার্সেলোনা। নইলে ফ্রি-কিক থেকে মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগানের অমন ভুল করার কথা ছিল না। সরাসরি ফ্রি-কিকে চমকে গিয়েছিলেন টের স্টেগান, তার গায়ে লেগে বল পেয়ে একেবারে গোলের সামনে থেকে লক্ষ্যভেদ করেন কিকো অলিভাস। ১৫ মিনিটেই ন্যু ক্যাম্পে খেলার স্কোরলাইন ১-১।

    ওই পর্যন্তই। এরপর খেলা হয়েছে এক তরফা। মেসি ম্যাচটাকে বানিয়ে নিয়েছেন নিজের। আর্তুরো ভিদাল এদিন একাদশে ছিলেন। দুই মিনিট আগেই হেডে গোল মিস করলেও, ২৯ মিনিটে আর ভুল করলেন না। মেসির উড়িয়ে মারা মাপা বল বক্সের ভেতর ঢুকে এক পা ছুঁয়ে দিয়ে গোল পেয়ে যান ভিদাল।

    মিনিট পাঁচেক পর গোলের প্রায় ২৫ গজ দূরে ফ্রি-কিক পেয়ে যায় বার্সেলোনা। যেখানে ফ্রি-কিক পেয়েছিল বার্সা, ওই জায়গাটা মেসির গোল করার জন্য একেবারে উপযুক্ত। মেসিও ফ্রি-কিক থেকে গোল করা হাতের মোয়া বানিয়ে ফেলেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। ওই ২৫ গজ দূর থেকে নিখুঁত যে ফ্রি-কিক মারলেন, সেটা জালে জড়ানোর পর তার উদযাপনও সেরকম ইঙ্গিতই দিল। এ আর এমন কী! এই গোলে ফ্রি-কিক থেকে গোলের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ হয়ে গেছে মেসির। বার্সার হয়ে এই গোল ৪৪তম, আর বাকি ৬টি আর্জেন্টিনার হয়ে।

    দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর খেলার ভাগ্য নিয়ে এরপর আর সংশয় জাগেনি। ভায়াদোলিদকে পুরোটা সময়ই রক্ষণে মনোযোগী হতে হয়েছে। টের স্টেগান অবসর সময় পার করেছেন, আর অন্যপ্রান্তে জর্দি মাসিপ পরীক্ষা দিয়ে গেছেন প্রতি মুহুর্তে। বিরতির পর প্রথম গোলের দেখা পেতে অবশ্য বার্সাকে আধঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর আগেই ইভান রাকিটিচ, গ্রিযমানদের মাঠে নামিয়েছিলেন ভালভার্দে। পরের জন বাকি সময়ে তেমন সুবিধা করতে পারেননি, তবে রাকিটিচ অবদান রেখেছেন মেসির দ্বিতীয় গোলে।

    ৭৫ মিনিটে রাকিটিচের উড়িয়ে মারা বল বক্সের ভেতর দারুণ এক টার্ন নিয়ে প্রথম সুযোগেই গোলে মারেন মেসি। এবার হাফ ভলিতে পেয়ে যান এক গোল। এর দুই মিনিট পর চোখ ধাঁধানো এক থ্রু পাস দিয়ে সুয়ারেজকে গোল সাহায্য করেন মেসি। সুয়ারেজের একটা চক্রও পূরণ হয়েছে ওই গোলে। লা লিগায় সুয়ারেজ যাদের বিপক্ষে খেলেছেন তাদের সবার বিপক্ষেই গোল করার রেকর্ড হয়ে গেছে তার। এতোদিন বাকি ছিল কেবল ভায়াদোলিদ। 

    ম্যাচের একেবারে শেষদিকে সুয়ারেজও মেসিকে দিয়ে গোল করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১২ গজ দূড় থেকে অদ্ভুতভাবে মেসি মেরেছেন বাইরে দিয়ে। তাই হ্যাটট্রিক আর পাওয়া হয়নি তার। অবশ্য গোল করা আর করানো বাদেও পুরো ম্যাচে চোখ ধাঁধানো ফুটবল খেলেছেন মেসি। একের পর এক নাটমেগ করে গেছেন প্রতিপক্ষকে, ড্রিবলিং থেকে শুরু করে পাসিং- সবকিছুই দুর্দান্ত ছিল তার। 

    এর আগে শুরু হওয়া ম্যাচে দেপোর্তিভো আলাভেসের মাঠে ড্র করেছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। শেষ পাঁচ ম্যাচে এই নিয়ে তারা ড্র করলে চতুর্থবারের মতো। লা লিগার শীর্ষ স্থান তাই বার্সেলোনার। ১০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট তাদের। রিয়াল মাদ্রিদ এক ম্যাচ কম খেলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে আছে ছয়ে।