• লা লিগা
  • " />

     

    ইয়োভিচের 'প্রথম'-এর দিনে লেগানেসের জালে রিয়ালের গোলউৎসব

    আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে চড়া দামেই রিয়াল মাদ্রিদে যোগ পর লুকা ইয়োভিচ থেকে রিয়াল সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল পারদসম। কিন্তু মৌসুমের মাস তিনেক পেরিয়ে গেলেও গোল পাচ্ছিলেন না তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিয়ালের জার্সিতে গোলের দেখা পেয়ে গেছেন ইয়োভিচ। অবশ্য তার আগেই লেগানেসের জালে গোল উৎসব করে ফেলা রিয়ালের জন্য ইয়োভিচের গোল তাই হয়ে এসেছে সোনায় সোহাগা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লেগানেসকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল।

    টেবিলের তলানীতে থাকা লেগানেসের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই বড় জয়ের ইঙ্গিতই দিচ্ছিল রিয়াল। ওসাসুনার বিপক্ষে রিয়ালের হয়ে অভিষেকের ৯৩ সেকেন্ডেই গোল করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ রদ্রিগো। লেগানেসের বিপক্ষে বেনজেমার পাস থেকে রিয়ালকে লিড এনে দিয়েছেন তিনিই। গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর ব্রাজিলের সিনিয়র স্কোয়াডেও ডাক পেয়েছেন রদ্রিগো; গোল করে আত্মবিশ্বাসটা যেন আরও বেড়ে গেল তার। রদ্রিগোর গোলের পর ব্যবধান দ্বিগুণ করতেও সময় নেয়নি রিয়াল।

     

    রিয়ালের নতুন 'বিস্ময় বালক'!

     

    আবারও সেই বেনজেমার পাস থেকে দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে গোল করেন টনি ক্রুস। পুরো ম্যাচেই প্রতি-আক্রমণে লেগানেসকে বেশ ভুগিয়েছে রিয়াল। প্রথমার্ধে সেরকমই এক প্রতি-আক্রমণ থেকে এডেন হ্যাজার্ডকে ফেলে দেন লেগানেস গোলরক্ষক রবার্তো। ১২ গজ থেকে রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোসকে ফিরিয়ে দেন তিনি। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায়, রামোসের পেনাল্টির আগে গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে এসেছিলেন রবার্তো। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এরকম হলে পেনাল্টি আবার নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাতে হবে রেফারিকে। দ্বিতীয়বার অবশ্য ভুল করেননি রামোস।

    শুরুতেই তিন গোলে পিছিয়ে পড়া লেগানেস ম্যাচে তেমন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি লেগানেস। উল্টো প্রথমার্ধে আরও পিছিয়ে পড়তে পারত তারা, কিন্তু দুর্দান্ত সব সেভে ব্যবধান তিন গোলেই রেখেছেন রবার্তো। জয় নিশ্চিত দেখে দ্বিতীয়ার্ধের কিছুটা গা বাঁচিয়েই খেলেছে রিয়াল। কিন্তু তারপরও কর্তোয়া-রামোসদের তেমন পরীক্ষায়ই ফেলতে পারেনি লেগানেস। সুযোগ বুঝে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেওয়া রিয়াল ব্যবধান বাড়াতে পারত ৬৭ মিনিটে, কিন্তু বেনজেমার শট প্রতিহত হয় বারপোস্টে।

     

    অবশেষে রিয়ালের জার্সিতে গোল। ইয়োভিচের মুখের হাসি যতটা না উল্লাসের, তারচেয়েও বেশি স্বস্তির

     

    পুরো ম্যাচে খুব সম্ভবত রিয়ালের সেরা ফুটবলার ছিলেন বেনজেমাই, কিন্তু গোলটাই পাওয়া হচ্ছিল না তার। তবে লেগানেস রক্ষণের ‘কল্যাণে’ সে সুযোগটাও পেয়ে যান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা লুকা মদ্রিচকে ডিবক্সে ফেলে দেন ওমেরুয়ো, আবারও পেনাল্টির বাঁশি দেন রেফারি। নিজে পেনাল্টি না নিয়ে এবার বেনজেমাকে গোলের সুযোগ করে দেন রামোস। অবশেষে গোলের দেখা পেয়ে যান ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার।

    পেনাল্টি থেকে গোলের পরপরই বেনজেমার বদলে ইয়োভিচকে নামিয়ে দেন জিদান। নেমেই রাইটব্যাক দানি কারভাহালের ক্রস থেকে জাল খুঁজে পান তিনি, কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয় গোল। তবে সেজন্য খুব একটা ভুগতে হয়নি ইয়োভিচকে, শেষ পর্যন্ত রিয়ালের জার্সিতে প্রথম গোলের দেখা পেয়ে স্বস্তি নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ইয়োভিচের চাপমুক্ত হওয়ার দিনে লা লিগায় রিয়ালও ফিরেছে জয়ের ধারায়। রিয়াল মায়োর্কার কাছে হারের পর গত সপ্তাহে এল ক্লাসিকো পিছিয়ে যাওয়ায় টেবিলের ৬-এ নেমে গিয়েছিল জিদানের দল।

    লেগানেসকে হারিয়ে দুইয়ে উঠে এসেছে তারা। ১০ ম্যাচ শেষে ২১ পয়েন্ট রিয়ালের, ২২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। গত সপ্তাহে শীর্ষে উঠে যাওয়া ‘লা লিগার লেস্টার সিটি’ খ্যাত গ্রানাদা নেমে গেছে তিন-এ, ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট তাদের। গ্রানাদার সমান ২০ পয়েন্ট অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং সেভিয়ারও। কিন্তু দু’দলই ম্যাচ খেলেছে ১১টি করে।