• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    'ঘরের ছেলে'র গোলেই হেরে গেল ইউনাইটেড

    গত সপ্তাহে নরউইচ সিটির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে সাত মাস পর প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। একই সপ্তাহে চেলসিকেও লিগ কাপ থেকে বিদায় করেই বোর্নমাউথের মাঠে এসেছিল আত্মবিশ্বাসী ইউনাইটেড। কিন্তু আবারও প্রতিপক্ষের মাঠে নখদন্তহীন পারফরম্যান্সের চড়ামূল্য দিতে হল ওলে গানার সোলশারের দলকে। ইউনাইটেডের যুবদলেই খেলা জশুয়া কিংয়ের  একমাত্র গোলে ঘরের মাঠে জয় পেয়েছে বোর্নমাউথ। 

    বৃষ্টিস্নাত ভাইটালিটি পার্কে অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ইউনাইটেডই। গত সপ্তাহে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা অ্যান্থনি মার্শিয়ালের সাথে মার্কাস রাশফোর্ড এবং ড্যানিয়েল জেমসদের গতি সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছিল এডি হাওয়ের দলকে। প্রথম ২০ মিনিটেই গোলের তিনটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন মার্শিয়ালরা, কিন্তু ‘চেরি’দের গোলরক্ষক অ্যারন র‍্যামসডেল ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। অবশ্য র‍্যামসডেলের দক্ষতার সাথে ভাগ্যও সহায় হয়নি ইউনাইটেডের।

     

     

    প্রথমার্ধের বোর্নমাউথ মিডফিল্ডার জেফারসন লের্মা, মার্শিয়ালকে ডিবক্সে ফেলে দিলেও পেনাল্টির বাঁশি দেননি রেফারি, সিদ্ধান্ত বদলাননি ভিডিও রেফারিও। এই ঘটনার পর দু’দলের ফুটবলারদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছিল বেশ। পেনাল্টি বিতর্কের পর অবশ্য প্রথমার্ধে আর গোলের সুযোগ পায়নি ইউনাইটেড। উলটো শেষদিকে লিড নেয় বোর্নমাউথই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডানপ্রান্ত থেকে অ্যাডাম স্মিথের ক্রস দুর্দান্তভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে ডেভিড ডি গেয়াকে পরাস্ত করেন জশুয়া কিং। ইউনাইটেডের যুবদলেই ফুটবলে হাতেখড়ি হয়েছিল তার, গত মৌসুমের পর এবারও তাদের বিপক্ষে আবারও খুঁজে পেলেন জাল।

    প্রথমার্ধের শেষদিকে লিড নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইউনাইটেডকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও চেপে ধরে বোর্নমাউথ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতেন রায়ান ফ্রেজার, কিন্তু তার শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন ডি গিয়া। পিছিয়ে পড়েও আক্রমণে তেমন সুবিধা করতে পারেনি ইউনাইটেড।

    দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময় গোলমুখে একেবারেই বিবর্ণ ছিলেন রাশফোর্ডরা। উলটো প্রতি-আক্রমণে হাওয়ের দলকেই মনে হয়েছে ভয়ঙ্কর। তবে দারুণ বিল্ড-আপের পর ইউনাইটেডের মতই গোলমুখে একেবারেই খেই হারিয়েছেন কিংরা।

     

     

    দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে অবশ্য দলকে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন বদলি স্ট্রাইকার মেসন গ্রিনউড, কিন্তু আবারও ভাগ্য সহায় হয়নি ইউনাইটেডের। ফ্রেডের ক্রস থেকে তার শট র‍্যামসডেলকে পরাস্ত করলেও প্রতিহত হয় বারপোস্টে। শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকা বোর্নমাউথের জালে আর বল পাঠানো হয়নি ইউনাইটেডের।

    ২০১৯-২০ প্রিমিয়ার লিগে ১১ ম্যাচে চতুর্থ হারে আপাতত টেবিলের ৮-এই থাকল সোলশারের দল। এই সপ্তাহ শেষে শীর্ষ দশের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ইউনাইটেডের। আজকের হারে নিজেদের অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিসংখ্যান ফিরে এসেছে তাদের। ১৯৯০-এর পর প্রথমবারের প্রিমিয়ার লিগের শুরুর ১১ ম্যাচের ৪টিতেই হারল ‘রেড ডেভিল’রা।