• লা লিগা
  • " />

     

    বার্সাকে টপকে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করল রিয়াল

    পুরো ম্যাচে অবিশ্বাস্য সব সেভে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডদের খালি হাতে ফিরিয়েছেন রিয়াল বেটিস গোলরক্ষক জোয়েল রবলেস। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে রিয়াল লেফটব্যাক ফার্ল্যান্ড মেন্ডির পাস থেকে রবলেসকে একা পেয়ে গেলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোলের পেছনে সমর্থকদের অনেকেই উল্লাস শুরু করে দিয়েছেন তখনই। কিন্তু আবারও রিয়ালের সামনে দুর্ভেদ্য দুর্গ হয়ে দাঁড়ালেন রবলেস, ফিরিয়ে দিলেন এবারও। গত দুই মৌসুমেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়ালকে হারিয়েছিল বেটিস, এবার ছিনিয়ে আনল ড্র। বেটিসের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ে এককভাবে ২০১৯-২০ লা লিগা টেবিলের শীর্ষে ওঠা হল না জিনেদিন জিদানের দলের। 

    রবলেসের দুর্দান্ত সব সেভে গোলবঞ্চিত হলেও ম্যাচের শুরুতেই তার জালে বল পাঠিয়েছিল রিয়াল। গত সপ্তাহে লেগানেসের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়া এডেন হ্যাজার্ড ৮ মিনিটেই মেন্ডির পাস থেকে বল পাঠান বেটিসের জালে। কিন্তু রিয়ালের উল্লাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি একেবারেই। অফসাইডের কারণে হ্যাজার্ডের গোল বাতিল করে ‘ভিএআর’। প্রথমার্ধের বেটিস আক্রমণের দিক দিয়ে সমানে সমান টেক্কা দিয়েছে রিয়ালকে। বেটিসের হয়ে প্রথমার্ধে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন নাবিল ফেকির।

     

     

    প্রতি-আক্রমণে খেললেও প্রথমার্ধে দুটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াও ছিলেন দারুণ ফর্মে। ফেকির-মোরনদের ফিরিয়ে দিয়েছেন দক্ষহাতে। প্রথমার্ধের কর্তোয়ার মত দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন বেটিস গোলরক্ষক রবলেসও। প্রথমার্ধের একেবারে শেষদিকে বেনজেমার পাস থেকে রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোসের আগুনে শট  ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। দুই গোলরক্ষকের দক্ষতায় প্রথমার্ধে জাল খুঁজে পাওয়া হয়নি কোনো দলেরই। 

    প্রথমার্ধের মত দ্বিতীয়ার্ধেও যেন নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিলেন কর্তোয়া এবং রবলেস। আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণে ঠাসা ম্যাচে প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডদের সামনে দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দুজন। প্রথমার্ধে লড়াইটা সমানে সমান হলেও দ্বিতীয়ার্ধে হয়তো কর্তোয়াকে ছাড়িয়েই গেছেন রবলেস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টনি ক্রুসের ডিফেন্সচেরা পাসে রবলেসকে একা পেয়ে যান মেন্ডি, কিন্তু এগিয়ে এসে ফ্রেঞ্চ লেফটব্যাককে ফিরিয়ে দেন তিনি। রবলেস দুর্গ ভেদ করার আশায় দ্বিতীয়ার্ধের রদ্রিগোর বদলে ভিনিসিয়াসকেও নামিয়ে দেন জিদান।

     

     

    গোল না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধের রিয়ালের হয়ে আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তিনিই। আক্রমণে বেনজেমা-হ্যাজার্ডদের সাথে দারুণ বোঝাপড়ায় গোলের সুযোগও তৈরি করছিলেন ভিনিসিয়াস। কিন্তু রবলেস যেন বার্নাব্যু থেকে ক্লিনশিট নিয়ে ফেরার পণ করেই মাঠে এসেছিলেন। দূরপাল্লার শট, উইং থেকে ক্রস, বা ছোট ছোট পাসে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ- কোনোভাবেই বেটিসের জাল খুঁজে পাচ্ছিলেন না বেনজেমারা। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়াসকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর দানি কারভাহালেরও ভলি অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    কিন্তু এবার তার চেয়ে হয়তো ডিফেন্ডার ফেদালের কৃতিত্বই বেশি। রবলেসের সেভের পর গোলের একেবারে সামনে থাকা বল রিয়ালের তিন ফুটবলারের পা থেকে ছিনিয়ে ক্লিয়ার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রবলেস দুর্গ আর জয় করা হয়নি জিদানের দলের, ওঠা হয়নি এককভাবে লা লিগা টেবিলের শীর্ষেও। ১১ ম্যাচে বার্সেলোনার সমান ২২ পয়েন্ট হলেও গোলব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দুইয়ে থাকল তারা।