• সিরি আ
  • " />

     

    লাৎসিওর কাছে প্রথম হারের স্বাদ পেল সারির জুভেন্টাস

    ফুলটাইম
    লাৎসিও ৩-১ জুভেন্টাস


    রোম যেন রোমাঞ্চের ডাল পালা মেলে বসেছিল স্টাডিও অলিম্পিকোতে। ৯০ মিনিটের ম্যাচে হয় না এমন কিছু বাদ গেল না। লাল কার্ড, পেনাল্টি, দুর্দান্ত পেনাল্টি সেভ- সবকিছুই দেখা গেল। শুরুটা জুভেন্টাস করলেও শেষ করলো লাৎসিও। সিরি আতে ১৫ তম আর সবমিলিয়ে মৌসুমের ২০ তম ম্যাচে এসে জুভেন্টাস পেল মৌসুমের প্রথম হারের স্বাদ। ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে এতোদিন অপরাজিত ছিল কেবল জুভেন্টাসই। মাউরিসিও সারির অধীনে এটিই জুভেন্টাসের প্রথম হার।

    আর টানা ৭ ম্যাচ জিতে সিরি আ-র শিরোপার লড়াই নতুন করে জমিয়ে তুলেছে লাৎসিও। শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলান গতকাল লাৎসিওর নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রোমার সঙ্গে ড্র করেছিল। লাৎসিওকে হারালেই শীর্ষস্থান  আবার দখল করতে পারত জুভেন্টাস। কিন্তু হারের পর ইন্টারের সঙ্গে জুভেন্টাসের পয়েন্ট পার্থক্য বেড়ে হয়েছে দুই। আর ৩৬ পয়েন্ট পাওয়া জুভেন্টাসের ঠিক পেছনে তিন পয়েন্টে পিছিয়ে তিনে থাকা লাৎসিও।

    জুভেন্টাস হেরেছে শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পরও। পাউলো দিবালার পাস বক্সের মাথা থেকে বাম দিকে বাড়িয়েই ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রদ্রিগো বেন্টাঙ্কুর এর পর দারুণ এক ক্রস করেছিলেন দূরের পোস্টে থাকা রোনালদোর কাছে। গোলের কাছাকাছি থেকে নির্ভুল ফিনিশে দারুণ এক দলগত আক্রমণের ইতি টানেন রোনালদো গোল করে। ২৫ মিনিটেই বৈরি অলিম্পিকোতে এগিয়ে যায় জুভেন্টাস।



    কিন্তু এর পর পুরো কৃতিত্ব লাৎসিওর। জুভেন্টাসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও এক মুহুর্তের জন্যও পিছপা হয়নি তারা। ৩৫ মিনিটে চিরো ইম্মোবিলে দারুণ এক সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছিলেন। লাৎসিও দুই গোলে পিছিয়ে যেতে পারত ৪৩ মিনিটেও। ইনজুরিতে পড়া বেন্টাঙ্কুরের জায়গায় নেমে এমরে চানও রোনালদোকে দারুণ এক সুযোগ পাইয়ে দিয়েছিলেন। রোনালদোও নিখুঁত ছিলেন। বক্সের ভেতর থেকে যে হেড করেছিলেন তাতে নিশ্চিত গোলই হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তখন লাৎসিও গোলরক্ষক থমাস স্ট্রাকোশা।

    জুভেন্টাস লিড বাড়ানোর সুযোগ না নিলেও প্রথমার্ধের শেষদিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরে লাৎসিও। লুইস আলবার্তোর ডানদিক থেকে করা নিখুঁত ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করে দলকে সমতায় ফেরান লুইস ফিলিপে। বিরতির পর তাই দারুণ এক দ্বিতীয়ার্ধই অপেক্ষা করছিল।

    কিন্তু সেই দ্বিতীয়ার্ধ যে এতোখানি জমজমাট হবে তা কে জানত। জুভেন্টাস তেমন একটা সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না দ্বিতীয়ার্ধে। অবশ্য সেই স্ট্রাকাশোই দারুণ এক সুযোগ উপহার দিয়েছিলেন দিবালাকে। কিন্তু বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়েও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

    লাৎসিও নিজেদের রক্ষণ সামলাতে মনোযোগী ছিল। ৬৯ মিনিটে রক্ষণ সামলে এক কাউন্টার অ্যাটাকে উঠতে গিয়েই শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে হুয়ান কুয়াদ্রাদোর ফাউলের শিকার হন লাজ্জারি। রেফারি প্রথমে কুয়াদ্রাদোকে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআরে পরামর্শে মাঠের বাইরে গিয়ে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলান। কুয়দ্রাদো লাল কার্ড দেখে জুভেন্টাসকে ১০ জনের দলে পরিণত করে মাঠ ছাড়েন।

    একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধাটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে এর পর লাৎসিও। তবে ৭৪ মিনিটে সার্গে মিলিঙ্কোভিচ সাভিচ যে গোলটি করেছেন তাতে পুরো কৃতিত্বই তার। আরও একবার লুইস আলবার্তো বলের যোগানদাতা। এবার নিচ থেকে মারলেন ওপরে থাকা মিলিঙ্কোভিচের কাছে। তিনি বক্সের ভেতর ঢুকে ডান পায়ে বল রিসিভ করে বাম পায়ে দেখার মতো এক গোল করে লাৎসিওকে এগিয়ে নিয়ে দিলেন প্রথমবারের মতো। 

    তিন মিনিট পর আরও ছন্নছাড়া জুভেন্টাস। এবার হুয়াকেন কোরেয়া একা পেয়ে গেলেন জুভেন্টাস গোলরক্ষক ভোজায়িক সেজনিকে। ওয়ান অন ওয়ানে বল ধরতে গিয়ে সেজনি করলেন ফাউল। পেনাল্টি পেয়ে গেল লাৎসিও। কিন্তু সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে ইম্মোবিলে নিজের রাতটা রাঙাতে পারেননি। সেজনি দুর্দান্ত ডাবল সেভে ফিরিয়ে দেন ইম্মোবিলেকে। জুভেন্টাস তাই ম্যাচে টিকে ছিল শেষ পর্যন্ত।

    ইম্মোবিলের অবশ্য রেকর্ড হাতছাড়া হয়েছে। লিগে টানা দশ ম্যাচে গোল করা হচ্ছে না তার, ৯ এ গিয়ে থামলেন। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা আর ফাবিও কোয়ালিয়ারেল্লার টানা এগারো ম্যাচে গোল করার রেকর্ডটাও আর ছোঁয়া হচ্ছে না ইম্মোবিলের। এই নিয়ে অবশ্য খুব একটা আক্ষেপ থাকার কথা নয় ইতালিয়ার স্ট্রাইকারের। স্মরণীয় এক জয় পেয়ে তার দল। 

    পিছিয়ে পড়ার পর জুভেন্টাস কোচ সারি দিবালাকে উঠিয়ে গঞ্জালো হিগুয়াইনকেও নামিয়েছিলেন। লাৎসিওর বিপক্ষে ১৬ ম্যাচে ১৩ গোল করা হিগুয়াইনের অতিমানবীয় রেকর্ডটাও কাজে অল্প কয়েক মিনিটে। দ্বিতীয়ার্ধে আসলে সেভাবে সুযোগই তৈরি করতে পারেনি জুভেন্টাস। আর যোগ করা সময়ে ফিলিপে কায়সেদো আরেক গোল করে জুভেন্টাসের ফেরার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন আগেই।

    সিরি আ-তে গেল সপ্তাহেও সাসুউলোর সঙ্গে ড্র করেছিল জুভেন্টাস। এবার লাৎসিওর কাছে হার। মিডফিল্ডের সৃজনশীলনতার অভাব আরও একবার ভুগিয়েছে জুভেন্টাসকে। দ্বিতীয়ার্ধের লম্বা একটা সময় লাৎসিওর রক্ষণের পরীক্ষাই নিতে পারেননি রোনালদো-দিবালারা। সাসুউলোর সঙ্গে ড্র করার আগে টানা ৬ ম্যাচ জেতা জুভেন্টাস, সম্ভাব্য শেষ ছয় পয়েন্ট থেকে পেল ১ পয়েন্ট।