• বঙ্গবন্ধু বিপিএল
  • " />

     

    শান্তর সেঞ্চুরিতে ঢাকার ২০৫ টপকে রেকর্ড জয় খুলনার

    লাইভস্কোর দেখুন


    ঢাকা প্লাটুন ২০৫/৪, ২০ ওভার 
    খুলনা টাইগার্স ২০৭/২, ১৮.১ ওভার 
    টাইগার্স ৮ উইকেটে জয়ী 

    নাজমুল হোসেন শান্তর উদযাপনটাই বলে দিচ্ছিল সব। স্কয়ার লেগে সিঙ্গেল নিয়ে হেলমেটটা খুলে যেন গর্জন করে উঠলেন, বাঘ যেমন করে। এর আগে ক্যারিয়ারে ফিফটিই ছিল একটি, সেই শান্ত যখন সেঞ্চুরি করে ফেলেন, উল্লাসটা তো একটু বাড়তি মাত্রা পাবেই। সঙ্গে যোগ করুন বিপিএলের রেকর্ড রানতাড়ার স্থপতির ভূমিকাটা। ঢাকা প্লাটুনের ২০৫ রান খুলনা টাইগার্স পেরিয়ে গেছে ১১ বল বাকি থাকতেই, ভেঙে ফেলেছে ২০১৩ সালে সিলেট রয়্যালসের সর্বোচ্চ রানতাড়ার রেকর্ড। সেবার রংপুর রাইডার্সের ১৯৭ রান ৬ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গিয়েছিল তারা। 

    শান্তর সেঞ্চুরিতে ম্লান হয়ে গেছে মুমিনুল হকের ৫৯ বলে ৯১, মাহেদি হাসানের ৩৬ অলে ৬৮ ও এ দুজনের চতুর্থ উইকেটে বিপিএলের রেকর্ড ১৫৩ রানের জুটি। ৩৫ রানে ৩ উইকেট থেকে ঢাকাকে দুজন মিলে টেনেছিলেন অনেকদূর, তবে শান্তদের কাছে যথেষ্ট হলো না সেসব। মেহেদি হাসান মিরাজ ও শান্ত ওপেনিং জুটিতে ৬.৫ ওভারেই ৭০ রান তুলেছিলেন, খুলনার রানতাড়া এগিয়েছে এরপর প্রায় সেই একই গতিতেই। 

    ৭ম ওভারে এসেই ঢাকাকে প্রথম ব্রেকথ্রু দিয়েছিলেন মাহেদি, ২৫ বলে ৪৫ রান করা মিরাজ বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় লাইন মিস করে হয়েছিলেন বোল্ড। তবে শান্তকে ঠিক শান্ত করতে পারছিল না ঢাকা, ২৭ বলে ফিফটি ছুঁয়েছিলেন তিনি, রুশোর সঙ্গে ২য় উইকেটে যোগ করেছিলেন আরও ৮১ রান। ১৭ বলে ২৩ করে শাদাবের শিকার হয়েছিলেন রুশো, এরপর মুশফিককে নিয়ে ছুটেছেন শান্ত। ৫১ বলে ছুঁয়েছেন সেঞ্চুরি, মানে পরের ফিফটিতে গেছেন মাত্র ২৪ বলে। বিপিএলে ৫ম বাংলাদেশী ও এ আসরের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন এই বাঁহাতি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫৭ বলে ১১৫ রানে। এর আগে ক্যারিয়ারে ৪৬ ইনিংসে মেরেছিলেন ১৪টি ছয়, এদিনই ৮টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৭টি ছয়। 

    ঢাকার মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে মাশরাফির চোট, ১১তম ওভারে রুশোর ক্যাচ নিতে বাঁদিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত ফেটে ফেলেছেন তাদের অধিনায়ক। রাজশাহীকে টপকে খুলনা যখন টেবিলের শীর্ষে চলে গেছে, ঢাকা তখন থাকলো চার নম্বরেই। চট্টগ্রামের সঙ্গে এলিমিনেটর খেলবে এখন ঢাকা, খুলনা-রাজশাহী মুখোমুখি হবে কোয়ালাইফাইয়ারে। 

    ম্যাচের প্রথম ভাগটা অবশ্য ছিল মুমিনুল-মাহেদির। দুজন ভেঙেছেন গত আসরে রায়ান টেন ডেসকাটে ও লরি এভান্সের ১৪৮ রানের অবিচ্ছিন জুটির রেকর্ড। প্রথম ১০ ওভারে ৭৩ রান তোলা ঢাকা ইনিংসের পরেরভাগে রান তুলেছে ওভারপ্রতি ১৩.২ হারে। রেকর্ডভাঙা জুটিতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর হয়েছে মুমিনুল-মাহেদি দুজনেরই। আগের সর্বোচ্চ ৬৪ ছাপিয়ে মুমিনুল করেছেন ৫৯ বলে ৯১, মাহেদি এই বিপিএলেই তার ৫৯ রান টপকে অপরাজিত ছিলেন ৬৮ রানে, ৩৬ বল খেলে। অবশ্য এ দুজনের জুটিতে মিশে ছিল খুলনার পিচ্ছিল ফিল্ডিং, ১২ রানে ক্যাচ তুলেও বেঁচে গিয়েছিলেন মাহেদি, শহিদুল নিতে পারেননি সেটি। 

    সেটি ছাড়া ছিল দুজনের দাপট। ৭টি চারের সঙ্গে ৪টি ছয় মেরেছেন মুমিনুল, এর মাঝে শফিউলকে টানা দুই চারের পর আপার-কাটে ছয় মেরে ৪১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছেন মুমিনুল। ফিফটির পর বাকি ৪০ রান এই বাঁহাতি করেছেন মাত্র ১৮ বলে। তাকে ওপেনিংয়ে তুলে আনার টোটকাটা দারুণভাবে কাজে দিয়েছে ঢাকার। সেঞ্চুরিটা পেতে পারতেন, আমিরের বলে ক্যাচ তোলায় হয়নি সেটি। মাহেদি ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক। তিনি ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন আমিরকে স্কুপ করে চার মেরে, ৩১ বলে। এরপর ৫ বলে তিনি করেছেন ১৮ রান। 

    প্রথম ৬ ওভার ছিল ঢাকার সংগ্রামের গল্প। মোহাম্মদ আমিরের পর রবি ফ্রাইলিঙ্কের বোলিংয়ে ধুঁকছিলেন তামিম-মুমিনুল। চাপ সামলাতে না পেরে ফ্রাইলিঙ্কের বলে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে খেলতে এসে ক্যাচ তুলেছেন তামিম, ৫ বল খেলে করেছেন ১ রান। সমানসংখ্যক বলে ১০ রান করে ফ্রাইলিঙ্কেরই লেগসাইডের বাইরের শর্ট বলে গ্লাভড হয়েছেন এনামুল। শহিদুলকে চার-ছয় মেরেছিলেন এরপর জাকের, তবে শফিউলের অফস্টাম্পের বাইরের ব্যাক অফ আ লেংথ বল টেনে মারতে গিয়ে খাড়া ওপরে তুলেছেন তিনি। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন