• লা লিগা
  • " />

     

    কাসেমিরোর জোড়া গোলে রিয়ালের জয় ছাপিয়ে 'ভিএআর' বিতর্ক

    ফুল-টাইম

    রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ সেভিয়া


    ১৯ আগস্ট, ২০০৭। রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শেষবার জয়ের দেখা পেয়েছিল সেভিয়া। এই মৌসুমে বার্নাব্যুতে লিগের ম্যাচে কাসেমিরোর গোলে লিড নিলেও দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন সেভিয়া স্ট্রাইকার লুক ডি ইয়ং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক যুগের অপেক্ষা অবসানের স্বপ্ন আর সত্যি হল না সেভিয়ার। কাসেমিরোর জোড়া গোলে সেভিয়াকে হারিয়েছে রিয়াল।

    তবে রিয়ালের জয়ে বিতর্কও আছে বেশ। ম্যাচ শেষে রেফারিদের বিরুদ্ধে রিয়ালের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও এনেছিলেন সেভিয়ার ম্যানেজার হুলেন লোপেতেগি। বার্নাব্যুতে এই ম্যাচে একাদশে বেশকিছু চমক রেখেছিলেন ম্যানেজার জিনেদিন জিদান। গ্যারেথ বেল, সার্জিও রামোস স্কোয়াডেই রাখেননি, তাদের জায়গায় একাদশে এসেছিলেন লুকাস ভাজকেজ এবং এডার মিলিতাও। করিম বেনজেমাকে বসিয়ে স্ট্রাইকার হিসেবে নামিয়েছিলেন লুকা ইয়োভিচকে। বাঁ-প্রান্তে নেমেছিলেন রদ্রিগো গোজ। প্রথমার্ধে আক্রমণে তেমন সুবিধাই করতে পারেনি রিয়ালের ‘নতুন’ আক্রমণভাগ।

    মাঝমাঠের দখল ক্রুস-মদ্রিচরা নিলেও আক্রমণে বারবার খালি হাতে ফিরতে হচ্ছিল জিদানের দলকে। সুযোগটা কাজেও লাগিয়েছিল সেভিয়া। ৩১ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে পরাস্ত করেন সেভিয়া স্ট্রাইকার লুক ডি ইয়ং। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায়, কর্নারের সময় ডিবক্সে সেভিয়া মিডফিল্ডার গুদেলের ধাক্কায় পড়ে যান মিলিতাও। ভিডিও রেফারিও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে মাঠের বাইরে মনিটর দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর দায়িত্ব আসে মূল রেফারির কাঁধেই। ফাউলের বাঁশি দেন রেফারি, হাঁফ ছেড়ে বাঁচে রিয়াল।

     

     

    তবে সেভিয়ার ডাগআউটে সাবেক রিয়াল ম্যানেজার হুলেন লোপেতেগি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। পুরো প্রথমার্ধই রেফারির উদ্দেশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ রিয়ালকে পেয়েও লিড নেওয়া হয়নি সেভিয়ার। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য তার চড়া মাশুলই দিতে হয়েছে লোপেতেগির দলকে। ৫৭ মিনিটে ইয়োভিচের সাথে দারুণ এক ওয়ান টু করে সেভিয়া গোলরক্ষক থমাস ভাচলিককে পরাস্ত করেন কাসেমিরো। গোলের পরই বেনজেমা এবং ভিনিসিয়াসকে নামিয়ে দেন জিদান। ব্যবধান দ্বিগুণের আশায় থাকা রিয়ালের অবশ্য তাতে হয় হিতে বিপরীত, মিনিট পাঁচেক পরই লিড হারায় তারা।

    ৬৩ মিনিটে মুনির এল হাদ্দাদির পাস থেকে ডিবক্সে বল পান ডি ইয়ং। রিয়াল রাইটব্যাক দানি কারভাহালকে কাটিয়ে বাঁ-পায়ের চমৎকার বাঁকানো শটে দলকে সমতায় ফেরান ডান ফরোয়ার্ড। রিয়ালের পর এবার গোলের উল্লাস বেশিক্ষণ টেকেনি সেভিয়ারও। ৬৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে ভাজকেজের মাপা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে লিড পুনরুদ্ধার করেন কাসেমিরো। কাকার পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে রিয়ালের হয়ে জোড়া গোল করলেন কাসেমিরো

    শেষ পর্যন্ত গোলের আশায় রনি লোপেজ এবং নতুন স্ট্রাইকার ইউসুফ এল-নেসেরিকেও নামিয়ে দিয়েছিলেন লোপেতেগি, কিন্তু সাবেক দলের বিপক্ষে আর প্রতিশোধটা নেওয়ার হয়নি তার। ২০ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লা লিগার শীর্ষে উঠে গেল রিয়াল, এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনার সংগ্রহ ৪০ পয়েন্ট; দুইয়ে আছে তারা।