• লা লিগা
  • " />

     

    নাচোর গোলে ১০০ দিন পর লা লিগার শীর্ষে উঠে গেল রিয়াল মাদ্রিদ

    ফুল-টাইম

    রিয়াল ভায়াদোলিদ ০-১ রিয়াল মাদ্রিদ


    ভ্যালেন্সিয়ার কাছে বার্সেলোনা হেরে যাওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের সামনে সুযোগ এসেছিল লা লিগা টেবিলের শীর্ষে উঠে যাওয়ার। সুযোগটা হাতছাড়া করেনি জিনেদিন জিদানের দল। নাচো ফার্নান্দেজের একমাত্র গোলে রিয়াল ভায়াদোলিদকে ১-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। ২১ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে প্রায় মাস তিনেক পর লা লিগার শীর্ষে উঠে গেল জিদানের দল।

    রিয়ালকে জেতানো নাচোর অবশ্য ভায়াদোলিদের মাঠে খেলারই কথা ছিল না। কিন্তু আগের ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে দানি কারভাহাল মৌসুমে নিজের ৫ম হলুদ কার্ড দেখে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায় নাচোর ওপরই ভরসা রেখেছিলেন জিদান। ৪-৩-১-২ ফর্মেশনে করিম বেনজেমার সাথে আক্রমণে ছিলেন তরুণ রদ্রিগো গোজ, দুই ফরোয়ার্ডের একটু পেছনে ‘ফ্রি রোল’-এ ছিলেন ইস্কো। ম্যাচের ১১ মিনিটে ভায়াদোলিদের জালে বলও পাঠিয়েছিল রিয়াল। টনি ক্রুসের কর্নারে হেড করে গোল করেছিলেন সেভিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করা কাসেমিরো। প্রথমে গোলের বাঁশি দিলেও রিপ্লেতে দেখা যায়, অফসাইডে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। বাতিল হয় গোল।

    প্রথমার্ধের বাকিটা সময় ভায়াদোলিদ রক্ষণভাগকে তেমন ভোগাতে পারেনি রিয়াল। উল্টো স্বাগতিকদের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত ছিল তারা। দারুণ ফর্মে থাকা রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার কারণে লিড নেওয়া হয়নি ভায়াদোলিদের। প্রথমার্ধে তাদের অন্তত দুটি নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য গোলের বেশকিছু সুযোগ তৈরি করেছিল রিয়াল। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় আর লিড নেওয়া হচ্ছিল না জিদানের দলের।

     

     

    তবে খুব সম্ভবত দ্বিতীয়ার্ধের সবচেয়ে সহজ সুযোগটা হাতছাড়া করেছিলেন বেনজেমা। ইস্কোর দুর্দান্ত পাসে ভায়াদোলিদ গোলরক্ষক জর্দি মাসিপকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। রিয়ালের হয়ে মৌসুমের প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলা বেনজেমা গোলহীন থাকলেন নিজের শেষ ৬ ম্যাচে। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগুচ্ছিল, তখন রিয়ালকে স্বস্তি এনে দেন নাচো। ৭৮ মিনিটে ক্রুসের ক্রসে হেডে মৌসুমে নিজের প্রথম গোল করেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। তবে রিয়ালের উল্লাস দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারত ম্যাচ শেষে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দু’দলের খেলায় অন্তিম মুহূর্তে গোল করে ভায়াদোলিদের হয়ে পয়েন্ট ছিনিয়ে এনেছিলেন সার্জি গার্দিওলা। নিজেদের মাঠে আবারও কর্তোয়া দুর্গ ভেদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ৮৭ মিনিটে তার গোল বাতিল হয় অফসাইডে, ‘ভিএআর’-এও বদলায়নি সিদ্ধান্ত।

    শেষ পর্যন্ত ন্যূনতম ব্যবধানের জয়ে শীর্ষে উঠে গেল রিয়াল। আক্রমণভাগ নিষ্প্রভ থাকলেও আবারও জমাট রক্ষণের প্রমাণ দিলেন সার্জিও রামোসরা। লিগে ২১ ম্যাচে মাত্র ১৩ গোল হজম করেছে রিয়াল, সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিটও তাদেরই (১১)। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের পর এত দুর্দান্ত রক্ষণ আর দেখেনি রিয়াল। ‘অ্যাটাক দিয়ে ম্যাচ জেতা যায়, আর রক্ষণ জেতায় শিরোপা’- সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অমর বাণীই হয়তো সত্য প্রমাণ করবে জিদানের মাদ্রিদ।