• সিরি আ
  • " />

     

    কোবির ম্যাচে সেমিতে মিলান

    ফুল-টাইম

    এসি মিলান ৪-২ তোরিনো


    হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় বাস্কেটবল কিংবদন্তী কোবি ব্রায়ান্টের আকস্মিক মৃত্যুতে এখনও শোকের ছায়া ক্রীড়াঙ্গন জুড়ে। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থেকে রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচ- কোবির মৃত্যু ছুঁয়ে গেছে সবাইকেই। বাদ যায়নি এসি মিলানও। বাস্কেটবল খেললেও ফুটবলে বেশ মজেছিলেন 'ব্ল্যাক মাম্বা', প্রিয় ক্লাব ছিল 'রোজ্জোনেরি'রাই। নিজেদের কিংবদন্তীতুল্য সমর্থকের মৃত্যুর পরের ম্যাচ মিলানের জন্য ছিল আবেগঘন। কোবিকে বিভিন্নভাবে স্মরণ করেছে তারা। তার শোককে শক্তিতে পরিণত করার ম্যাচে তোরিনোকে হারিয়ে কোপা ইতালিয়ার সেমিতেও চলে গেছে মিলান। সেমিতে তাদের প্রতিপক্ষ জুভেন্টাস।

    ম্যাচের আগেই টুইট করে মিলান জানিয়েছিল, কোবির স্মরণে কালো আর্মব্যান্ড পরবে তারা। সিরি আ কর্তৃপক্ষ মানা করলেও সে আদেশ অমান্য করে মিলান। ফুটবলাররা অনুশীলনে নামার আগে মাঠের জায়্যান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয় কোবির স্মরণে মিলানের বানানো ভিডিও। সেখানে মিলানকে নিয়ে কোবির কথা, তার আইডল পাওলো মালদিনির সাথে তার ছবি, মিলানের ম্যাচে তার সরব উপস্থিতি- বাদ যায়নি কিছুই। আবেগঘন সান সিরোতে কান্না আটকে রাখতে পারেননি সমর্থকদের অনেকেই। ছেলে থেকে বুড়ো- মাম্বার স্মরণে অশ্রু নেমে এসেছে সবার চোখ বেয়েই। বাবা জো ব্রায়ান্টের বাস্কেটবল ক্যারিয়ারের কারণে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ইতালিতেই ছিলেন কোবি। ৬ থেকে ১৩ বছরের কোবি তখনই পড়েন মিলানের প্রেমে।

     

     

    জানিয়েছিলেন, মালদিনি, গুলিত, ফন বাস্তেনদের কোনো খেলাই মিস করতেন না। মিনিটখানেকের ভিডিও চিত্রের শেষে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে 'লেজেন্ডস নেভার ডাই' (কিংবদন্তীর মৃত্যু নেই) এবং 'সিয়েম্প্রে কোবি' (কোবি, ভালবাসা চিরকাল)। এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শুরু হয় ম্যাচ। শুধু ম্যাচের আগে নয়, ম্যাচের সময়ও কোবিকে স্মরণ করেছে মিলান। লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের হয়ে ২৪ নম্বর জার্সি পরতেন কোবি। তার সম্মানে ম্যাচের ২৪ মিনিটে খেলা থামিয়ে করতালিতে তাকে স্মরণ করেছে সান সিরো। মিলানের বিখ্যাত স্টেডিয়ামে কোবির জার্সি পরে এসেছিলেন অসংখ্য সমর্থক। বিভিন্ন ব্যানার, স্কার্ফে তার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করেছেন তারা। তবে ২৪ মিনিটে মাঠের দক্ষিণ দিকে প্রকান্ড এক ব্যানারটাই হয়তো আজীবন গেঁথে থাকবে স্মৃতিপটে।

    ২৪ মিনিটে করতালিতে কোবিকে স্মরণের সময় মিলান সমর্থকদের উঁচিয়ে ধরা সে ব্যানারে লেখা ছিল 'শান্তিতে থাক কোবি এবং জিয়ান্না। আজীবন একসাথে'। প্রিয় ক্লাবের এমন ভালবাসায় হয়তো ওপার থেকে মুচকি হাসছিলেন কোবি নিজেও, বাবার প্রতি মানুষের ভালবাসা দেখে হয়তো গর্বিত ছোট্ট জিয়ান্নাও। ২৪ মিনিটের আগেই অবশ্য লিড নিয়েছিল মিলান। জিয়াকোমো বনাভেনচুরার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। তবে কোবির স্মরণে ম্যাচটি আরেকটু হলেই হারতে বসেছিল স্বাগতিকরা। দুই অর্ধে দুই ব্রেমেরের জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। ৯০ মিনিট পর্যন্ত ইতালিয়ান কাপের শেষ আটেই মিলানের যাত্রা সমাপ্তি দেখছিলেন সবাই। কিন্তু এই ম্যাচ যেন মিলান হারতে পারত না কোনোভাবেই।

     

     

    কোবির শোককে শক্তিতে পরিণত করে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দলকে সমতায় ফেরান হাকান চালহানগলু, খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন তুরস্কের মিডফিল্ডারই। গোলের পর আকাশের দিকে বারবার ইঙ্গিত করছিলেন হাকান, যেন কোবিকে জানাচ্ছিলেন; গোলটা তার জন্যই। এই মৌসুমে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি ছেড়ে মিলানে ফিরেছেন ইব্রাহিমোভিচ।

    যুক্তরাষ্ট্রের এলএ-তে থাকার কারণে কোবির ক্যারিয়ার এবং তার প্রতি মানুষের ভালবাসা খুব কাছে থেকেই দেখেছেন ইব্রা। চিত্রনাট্য হয়তো এর চেয়ে সুন্দরভাবে সাজাতে পারতেন না কোবিও। ১০৮ মিনিটে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন সাবেক সুইডিশ স্ট্রাইকার। শেষ পর্যন্ত কোবির জন্য ম্যাচটি জিতে ইতালিয়ান কাপের শেষ চারে চলে গেল 'রোজ্জোনেরি'রা। প্রিয় মিলানের এত ভালবাসা, এমন লড়াকু মনোভাব- পরপার থেকে হয়তো পুরোটা সময়ই গলা ফাটিয়েছেন কোবি। ফলাফল নিয়ে তার চেয়ে বেশি গর্বিত হয়তো নয় কেউই।