• লা লিগা
  • " />

     

    ৫ গোল, ২ লাল কার্ডের ম্যাচে শেষ স্বস্তি বার্সার

    ফুলটাইম
    রিয়াল বেটিস ২-৩ বার্সেলোনা


    সঙ্কটাপন্ন অবস্থা। এই বার্সেলোনার খেলা দেখলে আপনার বারবার এই একটা কথাই মনে হতে পারে। কোপা ডেল রে থেকে বিদায়, লিওনেল মেসির সঙ্গে এরিক আবিদালের দ্বন্দ্ব- মাঠের ফুটবল বাদ দিলেও বার্সার নড়বড়ে পরিস্থিতি স্পষ্টই। অবশ্য সেখান থেকে কিছুটা ত্রাণ পেয়েছে বার্সা। এস্তাদিও বেনিতো ভিয়া মারিনে দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছে মেসির দল। মেসি গোল পাননি, তবে ৩ গোলই করিয়েছেন তিনি। আর তাতে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ৩ পয়েন্টের দূরত্ব আর বাড়েনি বার্সার। রাতে নিজেদের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ওসাসুনার বিপক্ষে জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে। 

    বেটিসের মাঠে ৫ গোলের ম্যাচের সঙ্গে যোগ হয়েছে দুই লাল কার্ডও। বেটিসকে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে এগিয়ে দেওয়া নাবিল ফেকির প্রথমে লাল কার্ড দেখেছেন ৭৬ মিনিটে। ৩ মিনিট পর বার্সার জয়ের নায়ক ক্লেমেন্ত লংলেও ফেকিরের মতো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন।

    কিকে সেতিয়েনের সাবেক ক্লাবে ফেরাটা স্বস্তির হয়েছে শেষ পর্যন্ত। তবে শুরুটা ছিল অস্বস্তিকর। বেটিস-বার্সা ম্যাচের প্রথমার্ধই দেখেছে মোট ৪ গোল। ম্যাচের প্রথম ৯ মিনিটেই দুইদল একটি করে গোল করে ছন্দ তুলে দিয়েছিল এন্ড টু এন্ড এক লড়াইয়ের।
     


    শেষটা যেমন লংলের ভুলে, শুরুটাও ছিল তেমন। বক্সের ভেতর লংলের হ্যান্ডবলের জন্যই পেনাল্টি পেয়ে গিয়েছিল বেটিস। সার্জিও ক্যানালেস পরে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সেখান থেকে। কিছুক্ষণ পর মেসির লব পাস ধরে বক্সের ভেতর ঢুকে দারুণ ফিনিশে ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং আবার সমতায় ফেরান বার্সাকে।

    বার্সার একাদশে একটি চমক রেখেছিলেন সেতিয়েন। জুনিয়র ফিরপো লেফটব্যাক হিসেবে নেমেছিলেন জর্দি আলবার জায়গায়। সার্জি রবার্তো খেলেছেন মিডফিল্ডে, মেসি-গ্রিযমানের ঠিক পেছনে। কিন্তু এসব কিছুই কাজে দেয়নি বার্সার। প্রথমার্ধ তারা পার করেছে বেটিসের ছায়ায় থেকে।

    বার্সার রক্ষণকে প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছিলেন নাবিল ফেকির। ২৬ মিনিটে গোল পেয়ে যান তিনি। ভিদাল পজেশন হারিয়ে বেটিসকে বল উপহার দিয়েছিলেন। সেখান থেকে বার্সার অ্যাটাকিং থার্ডে বল পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাম পায়ের চোখ ধাঁধানো শটে দেখার মতো এক গোল করেন ফেকির। যদিও এর পরও লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া হয়নি বেটিসের। মেসির ফ্রি-কিক থেকে প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে বিরল এক গোল করে সার্জিও বুস্কেটস স্কোরলাইন করেন ২-২।

    দুই গোল করালেও প্রথমার্ধে গোলের সামনে তেমন কিছুই করতে পারেননি মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই বেটিসকে অশনী সংকেত দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ৪৮ আর ৬২ মিনিটে দুইবার গোলে শট করেও বেটিস গোলরক্ষক জোয়েল রোবেলসের কাছে পরাস্থ হতে হয় মেসিকে।

    গত বছর বেটিসের মাঠে চিপ করে  দেখার মতো এক গোল করেছিলেন মেসি। এবারও প্রায় সেই মুহুর্তটাই ফেরত এনেছিলেন মেসি। প্রায় একই জায়গা থেকে একইরকম চিপে এবার অবশ্য আর লক্ষ্যে বল রাখতে পারেননি, অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হয়েছেন। গোল না পেলেও এই ঘটনার কিছুক্ষণ বাদেই অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিক হয়ে যায় মেসির। তার ফ্রি-কিক থেকে লেংলের দারুণ এক হেডে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়েও যায় বার্সা।

    শেষ পর্যন্ত ওই লিড ধরে রাখতে কাঠ খড়ই পোড়াতে হয়েছে সেতিয়েনের দলকে। বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ পেয়েও হেলায় হারিয়েছেন মেসিরা। অ্যান্টোনার গ্রিযমান বদলি হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও একবার ছিলেন ছায়া হয়ে। গ্রিযমান লিগে টানা ৫ ম্যাচ কাটালেন গোলশূন্য থেকে। জর্দি আলবা, আর্থার, রাকিটিচরা শেষদিকে নেমেছিলেন মাঠে। তবে কেউই বড় অবদান রাখতে পারেননি ম্যাচে। ফেকিরের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার সুবিধাও ভোগ করা হয়নি বার্সার। লেংলে শেষদিকে হোয়াকিনকে পেছন থেকে ট্যাকেল করে দেখেছেন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। শেষ বাঁশির পর তাই হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে বার্সা।

    এর আগে ওসাসুনার মাঠে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদও। তবে তারা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে দক্ষহাতে। প্রথমার্ধেই ইস্কো আর সার্জিও রামোসের গোলে লিড নিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ, দ্বিতীয়ার্ধে লুকাস ভাসকেজ ও লুকা ইয়োভিচ গোল করে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সঙ্গে রিয়ালেরটাও বাড়িয়ে দিয়েছেন।  ২৩ ম্যাচ শেষে রিয়ালের পয়েন্ট এখন ৫২ আর বার্সার ৪৯।