• জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফর
  • " />

     

    মিরপুর টেস্টে দুই পেসার নিয়ে নামছে বাংলাদেশ?

    দেশের মাটিতে সর্বশেষ কবে দুই পেসার নিয়ে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ? 

    কুইজের খুব ভালো প্রশ্ন হতে পারে এটি। আপনার চিন্তার আরেকটু খোরাক দেওয়ার জন্য উত্তরটা এই লেখার শেষে সেটি জুড়ে দেওয়া হলো। তবে সত্যিটা হচ্ছে, বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট মানে সেখানে স্পিনারদের জয়জয়কার। সর্বশেষ জিম্বাবুয়েকে ঘরের মাটিতে এই স্পিন ফাঁদেই ফেলেছে বাংলাদেশ। মিরপুরের একমাত্র টেস্টেও সেটির ব্যতিক্রম হওয়ার কথা ছিল না। তবে সামান্য চমকে দিয়ে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আজ মিরপুরের সংবাদ সম্মেলনে বললেন, বাংলাদেশ দুজন পেসার নিয়ে নামতে পারেন। মোস্তাফিজ যে খেলছেন না, সেটি জানিয়ে দিয়েছেন এর মধ্যেই। হাসান মাহমুদকেও বিসিএলে খেলার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার মানে স্কোয়াডে এখন পেসার হচ্ছেন আবু জায়েদ রাহী, এবাদত হোসেন আর তাসকিন আহমেদ। রাহী মোটামুটি অটোমেটিক চয়েস, বাকি দুজনের যে কোনো একজনের ভাগ্যে শিকে ছিড়তে পারে। 

    দেশের মাটিতে সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টেও কোনো স্পেশালিস্ট পেসার নিয়ে নামেনি বাংলাদেশ। পার্ট টাইমের কাজটা চালিয়ে ছিলেন সৌম্য সরকার। তবে ডমিঙ্গোর কথা শুনে মনে হচ্ছে, সেই ধারণা থেকে সরে আসতে চাইছে বাংলাদেশ, ‘আমরা সম্ভবত দুজন পেসার নিয়ে খেলব। আমার মনে হয় না একজন পেসার নিয়ে খেললে খুব একটা লাভ হয় আমাদের। সাত নম্বরে ব্যাট করার মতো কেউ থাকলে তিন জন পেসার নিয়ে খেলাটা হতো আদর্শ। সাইফ উদ্দিন ফিট না হলে বা সাতে ব্যাট করার পাশাপাশি দিনে ১০-১৫ ওভার বল করতে পারবে এমন কাউকে না পেলে আমরা দুই পেসার নিয়ে খেলব।’

    সকালে উইকেট দেখে মনে হয়েছে, কিছুতা আর্দ্রতা থাকতে পারে পেসারদের জন্য, ‘সকাল দশটার সময় নেটের পাশে কিছুটা আর্দ্রতা ছিল। এখনও শীত শীত ভাব আছে তাই সকালে প্রথম ১০-১২ ওভার খেলা একটু কঠিন হতে পারে। আরা যদি শুরুতে  বল পাই, তাহলে পেসারদের সেটার সুযোগ নিতে হবে। আর সেটা নেওয়ার জন্য আমাদের দুইজন পেসার দরকার।’

    সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে পিন্ডি টেস্টে তিন জন পেসার নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। রাহী ছিলেন এদের মধ্যে সফলতম, এবাদত আর রুবেল শুরুতে ধুঁকলেও পরে কিছুটা ফিরে পেয়েছিলেন নিজেদের। ডমিঙ্গো বিদেশে আর দেশের মাটিতে পেসারদের খেলানোর মধ্যে এই ভারসাম্য রাখতে চান, ‘আমাদের টেস্টে উন্নতি করতে হলে সব সময় র‍্যাংক টার্নারে খেলতে পারব না। আমরা একজন সিমার নিয়ে খেলি। এরপর ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন তিন জন সিমার দরকার হয় তখন ভাবি বাকিরা কোত্থেকে আসবে। কারণ এরা তো খেলারই সুযোগ পায় না।’

    সাবেক কোচ স্টিভ রোডস, কোর্টনি ওয়ালশরা যা বলেছিলেন সেটাই আবার বললেন ডমিঙ্গো, ‘আপনাকে সবকিছু একটা ভারসাম্যের মধ্যে আনতে হবে। আমরা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে দেশের মাটিতে খেললে অবশ্যই স্পিনিং উইকেট চাইব। তবে আমাদের ভালো উইকেটে খেলাও শিখতে হবে। আমরা যদি কঠিন উইকেটে খেলি, ব্যাটসম্যানরা বড় রান পাবে না। আবার বল স্পিন করলে বোলারদের মধ্যে এই ধারণা চলে আসতে পারে যে তারা অনেক বড় কিছু হয়ে গেছে। এই ভারসাম্য করাটা একটু কঠিন, তবে আমি মনে করি আমাদের ভালো উইকেটে নিয়মিত খেলা উচিত। সেটা দেশের বাইরে হোক বা দেশে।'

    (কুইজের উত্তরঃ ২০১৮ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই মিরপুর টেস্টে মোস্তাফিজ আর খালেদ বল করেছিলেন। তৃতীয় পেসার হিসেবে ছিলেন আরিফুলও।)