• লা লিগা
  • " />

     

    দুঃস্বপ্নের রাতে শীর্ষস্থান হাতছাড়া রিয়ালের

    ফুলটাইম
    লেভান্তে ১-০ রিয়াল মাদ্রিদ


    সপ্তাহখানেক আগেও লা লিগার শীর্ষস্থানে রিয়াল মাদ্রিদের লিড ছিল ৩ পয়েন্টের। গেল সপ্তাহে ড্র করে সেই লিড কমে এসেছিল ১ এ। এবার মৌসুমের দ্বিতীয় হারে শীর্ষস্থানটাই খোয়া গেল তাদের। লেভান্তের মাঠে ৭৯ মিনিটে অদ্ভুত এক গোল হজম করে হেরেছে জিনেদিন জিদানের দল। লা লিগার শীর্ষে এখন বার্সেলোনা (৫৫), আর ২ পয়েন্ট কম রিয়ালের। পরের সপ্তাহে মহা গুরুত্বপূর্ণ এল ক্লাসিকো।  মার্চের ১ তারিখের ম্যাচে বার্নাব্যুতে পেছন থেকেই শুরু করতে হবে রিয়ালের।

    হারের সঙ্গে বড় এক দুশ্চিন্তাও জুটেছে জিদানের কপালে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ইনজুরির শঙ্কা নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন এডেন হ্যাজার্ড। ইনজুরির কারণে ৭১ দিন পর সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নেমেছিলেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো খবর জানা যায়নি। তবে আবারও বড় ইনজুরিতে পড়লে মাঝ সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচটাও মিস করতে পারেন হ্যাজার্ড। 


    রাতটা তাই একেবারেই প্রত্যাশামতো কাটেনি রিয়াল মাদ্রিদের। যে গোলটি রিয়াল হজম করেছে সেটা চোখ ধাঁধানো, তবে রিয়াল খেলোয়াড়রা তাতে দায় এড়াতে পারেন না। মিডফিল্ড থেকে সতীর্থের দেওয়া লং বল ধরে রিয়ালের বক্সের ভেতর বাম পাশ থেকে আড়াআড়ি আচমকা শট করেছিলেন হোসে লুইস মোরালেস। তাকে অফসাইডের ফাঁদে ফেলতে পারেননি রাফায়েল ভারান। লুকা মদ্রিচ দৌড় দিলেও আচমকা শটের কাছে পরাস্ত হয়েছেন। আর থিবো কোর্তোয়া তো বোধ হয় এমন কিছু আশাও করেননি। একরকম দর্শকের মতো দেখেছেন পুরো ঘটনা। ঝাঁপ দিয়েছেন বহু পরে। মোরালেসের ওই গোলেই  কুইতাত দি ভ্যালেন্সিয়ায় বার্সেলোনার পর রিয়ালকে ধরাশায়ী করেছে পয়েন্ট টেবিলের ১৪ তে থেকে ম্যাচ শুরু করা লেভান্তে।

    হ্যাজার্ড, করিম বেনজেমাদের সঙ্গে এদিন রিয়ালের আক্রমণভাগে নেমেছিলেন ইস্কো। লুকা ইয়োভিচকে জিদান দলেই রাখেননি। তবে প্রথমার্ধেই সে অভাবটা কিছুটা টের পেয়েছিলেন বেনজেমারা। শেষদিকে সেই অভাবটা প্রকট হয়েছে আরও। সব মিলিয়ে লেভান্তের বিপক্ষে রিয়াল মোট ৩৩টি ক্রস করেও ফিরেছে খালি হাতে।

    তবে জিদানের দলের শুরুটা ছিল প্রাণবন্ত। হ্যাজার্ড আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আক্রমণে ধার বাড়াচ্ছিলেন। শুরুর দিকে কাসেমিরোর ফাঁকা বারে হেড চলে যায় বাইরে দিয়ে। আর প্রথমার্ধের শুরু আর শেষে লেভান্তে গোলরক্ষক আইতর ফার্নান্দেজ দুইটি দারুণ সেভ করে আটকে রেখেছিলেন রিয়ালকে। প্রথমটি ছিল করিম বেনজেমার প্রচেষ্টা, পরেরটি লুকা মদ্রিচের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া রকেট গতির শট। এই তিনটি আক্রমণ বাদেও বিরতির আগ পর্যন্ত পুরোটা সময় আসলে লেভান্তেকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে রিয়ালের আক্রমণের স্রোত সামাল দিতে। আইতর বরাবর মোট ১২টি শট করেছে রিয়াল, প্রথমার্ধের হিসাবে লা লিগায় এই মৌসুমে যেটা ছিল সর্বোচ্চ। 

    লেভান্তে প্রথমার্ধে ছিল বোতলবন্দী অবস্থায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আভাস তাদের। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদও এবার পরিস্কার সুযোগ পেল। হ্যাজার্ড একবার ওয়ান অন ওয়ানে বলের সঙ্গে ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে পারলেন না। আইতর তার দুর্বল শট ঠেকিয়ে দিলেন। পরে একবার কর্নার থেকে পেনাল্টির আবেদন করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে লেভান্তে ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলেও  ধোপে টেকেনি আবেদন। ডিফেন্ডারের হাত ছিল শরীরের সঙ্গেই।

    হ্যাজার্ড মাঠ ছাড়ার পর রিয়ালের আক্রমণের ধার আর মান দুটোই কমে যায়। নিজেই বদলি হওয়ার সংকেত দিয়েছিলেন হ্যাজার্ড। পরে মাঠ ছেড়েছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

    অন্যদিকে লেভান্তে এই সময়ে ছোট খাটো আক্রমণ থেকেও রিয়ালের ভীতি চড়িয়ে দিচ্ছিল।  লেভান্তের আক্রমণ ভাগ মূলত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেই বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হেলায় হারায়। তবে ৭৯ মিনিটে মোরালেসের দ্রুত সিদ্ধান্তটাই ভাগ্য বদলে দেয় তাদের।

    জিদান শেষদিকে লুকাস ভাসকেজ, ভিনিসিয়াসদের মাঠে নামিয়ে পয়েন্ট বাঁচাতে চেয়েছিলেন। কোনো কিছুই আর কাজে আসেনি তার। অক্টোবরের ১৯ তারিখ মায়োর্কার কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের ১২৬ দিন পর হারের স্বাদ পেতেই হয়েছে জিদানকে। হারের সঙ্গে হ্যাজার্ডের চোটের খবর যোগ না হলেই আপাতত কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন তিনি।