• জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফর
  • " />

     

    ৩ ইনিংস ব্যবধানে হারের শিক্ষা নিয়ে এবার সে ব্যবধানে জয়ী অধিনায়ক মুমিনুল

    মুশফিকুর রহিম দুইটা স্টাম্প তুলে নিলেন। ডাবল সেঞ্চুরির স্মারক হিসেবে দুটি স্টাম্প? একটু পর একটি তুলে দিলেন মুমিনুলের হাতে, অধিনায়ক হিসেবে প্রথম জয়ের অনুভূতি কেমন- মুশফিক তো সেটি জানেন। মুমিনুল অবশ্য একটু পর সেটি দিয়ে দিলেন আবু জায়েদ রাহিকে। এক হাতে হেলমেট বলে সেটি নিতে পারছেন না, নাকি রাহির অবদানের জন্যই তাকে দিয়ে দিলেন, সেটি অবশ্য জানা গেল না। 

    মুমিনুল আপাতত অধিনায়কত্বটা উপভোগ করছেন। অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর প্রথম তিন ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হারা মুমিনুল এবার ইনিংসজয়ী অধিনায়ক। 

    ****

    ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব যে একটু অন্য পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বোধহয় আলাদা করে মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ পড়ে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার সঙ্গে এখানে আসে অনেক বড় দায়িত্ব, আর সে দায়িত্ব চাপে রূপান্তর হতে সময় লাগে না একেবারেই। সঙ্গে আছে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ব্যাপার, ক্রিকেট দলীয় খেলা হলেও তা তো হয় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সমষ্টিতেই। 

    মুমিনুল অধিনায়কত্বটা পেয়েছিলেন একটু জরুরী পরিস্থিতিতে। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা তাকে হুট করেই এনেছিল স্পটলাইটে। এই ম্যাচের আগেই বলেছিলেন, ভারতে যেমন নার্ভাস ছিলেন, পাকিস্তানে সেটার অনেকখানি কাটিয়ে উঠেছেন। এবার হয়ে উঠছেন আত্মবিশ্বাসী। 

    অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন যেমন ব্যাটসম্যান মুমিনুল, তেমনি অধিনায়ক মুমিনুল পেলেন প্রথম জয়ও। এ ম্যাচ দিয়ে তার আরেকটা ব্যাপার দেখার ছিল। দল হিসেবে সবাই একসঙ্গে কেমন করে, মানে যে যার ভূমিকা কীভাবে নেয়। মুমিনুল এ ফলের পেছনে দেখছেন সেই ব্যাপারটির ভূমিকাই। 

    “আসলে স্বস্তি না ঠিক। দল যেভাবে কাজ করবে, যেমনটা হওয়া উচিত সেভাবে, মানে খেলোয়াড়রা দল হিসেবে কিভাবে কাজ করবে, কিভাবে খেলবে সেই জিনিসটা আমি সবসময় আসলে দেখতে চাইছিলাম। এটা আমি অনুভব করতে চাইছিলাম। আমার কাছে মনে হয় যে প্রথম ইনিংস থেকে আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন। এমনকি পেস বোলার থেকে শুরু করে স্পিনার এমনকি ব্যাটসম্যানরা পর্যন্ত আপনার যেভাবে দলের যা দরকার সেভাবে করেছে। এই কারণে আমার কাছে মনে হয় ফলটি এসেছে।”

    নিজের পারফরম্যান্সকে মুমিনুল দেখছেন অবদান রাখতে পারা হিসেবেই,  “আমার কাছে মনে হয় অধিনায়ক হিসেবে এবং দলের একজন সদস্য হিসেবে সবসময় সবার কাছে এটা কাম্য যে, যদি আপনি কিছু করতে পারেন। আমার মনে হয় আমি দলের জন্য কিছু অবদান রাখতে পেরেছি এবং সেটা করতে পারলে অনেক ভালো লাগে। আমার কাছে মনে হয় ছোট ছোট অবদান রাখাটাও অনেক বেশি কিছু।”
     


    আর চাপের ব্যাপারে তিনি বলছেন, যতটুকু চাপ থাকে, ততটুকুই ছিল, এর বেশি নয়। আগের তিন ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হার থেকে শিক্ষাও নিয়েছেন তিনি, “দেখুন শুরুর দিকে একটু খারাপ হলে আমি বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না। কারণ এটা হতেই পারে। আপনার যখন ভালো হবে তখন ধীর ধীরে ভালো হতে থাকবে। আমার কাছে উন্নতি করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী যে পাকিস্তান সিরিজ আছে সেখানে আমি কেমন এবং দল হিসেবে ক্রিকেটাররা কেমন করছে সেটার দিকে তাকিয়ে আছি। আজকের দিনটি তো চলে গেছে, সেটা তো আর আসবে না। এর আগে যে তিনটি ম্যাচ হেরেছি সেখান থেকে আমি কি শিক্ষা নিতে পেরেছি অধিনায়ক এবং ক্রিকেটার হিসেবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।” 

    নিজে টেস্টে অঙ্গনে একেবারে নতুন অধিনায়ক হলেও, তার দলেই এখন পর্যন্ত তিনজন অধিনায়ক খেলেছেন বাংলাদেশের। সাকিব আল হাসান না থাকলেও বাকি যারা সিনিয়র, তাদেরকে সবসময়ই পাশে পাচ্ছেন তিনি, “আমি ভারত সিরিজ থেকে যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন থেকে আমি সিনিয়রদের কাছ থেকে শতভাগ ‘এফোর্ট’ পাচ্ছি। মানে আজ পর্যন্ত, আমি সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে খুবই খুশি। এমনকি আপনি যদি মাঠে ফিল্ডিং দেখেন, ‘অফ দ্যা ফিল্ড, অন দ্যা ফিল্ড’ আমি শতভাগ পাচ্ছি। শতভাগের বেশিও বলা যায়।”

    অধিনায়কত্বের ক্ষেত্রে মুমিনুল বেশ কঠোর, বলেছেন সেটিও, “আমার অধিনায়কত্ব শুরু হয়েছিল বিসিএল, এনসিএল দিয়ে। ওই জায়গায় প্রথম প্রথম এরকমই ছিলাম (লাজুক বা অন্তর্মুখী), পরে দেখলাম যে না জিনিসটা বদলাতে হবে। যারা মাঠে থাকে তারা জানে। একটু আক্রমণাত্মক, একটু উদ্ধ্বত থাকতে হয়। উদ্ধ্বত না, আক্রমণাত্মক থাকতে হয় আরকি। সবাইকেই ঝাড়ি মারি।”

    শেষ কথাটা বলে মুমিনুল হাসেন। অধিনায়কত্বটা উপভোগই করছেন তিনি, চাপ-দায়িত্ব সবকিছু নিয়েই। 

    ****

    ট্রফিটা বিসিবি প্রেসিডেন্টের হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়ার পর মুমিনুল একপাশে সরে দাঁড়ালেন, ট্রফির ভাগ তখন নাঈম হাসান, তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসানদের হাতে। এখন অনেক অধিনায়কই কাজটা করেন, ফটোসেশনে জুনিয়র বা একাদশে না থাকা ক্রিকেটারদের হাতে ট্রফি তুলে ছবি তোলার এই ব্যাপারটা। ক্রিকেট ‘টিম গেম’, ব্যাপারটা যেন মনে করিয়ে দেওয়া হয় আরেকবার।

    মুমিনুল নিজে ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি পেলেও এ ম্যাচে বিজয়ী অধিনায়ক।