• জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফর
  • " />

     

    মাশরাফি : প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি জানি না, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি

    মাশরাফি : প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি জানি না, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি    

    ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে মুশফিকুর রহিমের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই আরেকটি সিরিজ দিয়ে শেষ হচ্ছে তার অধিনায়কত্বের অধ্যায়। অবশ্য তার অধিনায়কত্ব বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ একটা আলোচনার পর এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। মাশরাফি অবশ্য বলছেন, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বেশি ভাবেননি, বৃহস্পতিবার সকালেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পেছন ফিরে তাকালে নিজের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আলাদা করে বলতে চাননা, শুধু বলেছেন, তাকে দেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তিনি। 

    “অধিনায়কত্বকে গুরুত্বের জায়গায় আনিনি (ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে)। আমি সবসময়ই গর্বিত যে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছি। অধিনায়কত্ব বিসিবি আমাকে সুযোগ দিয়েছে। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কখনও হয়েছে, কখনও হয়নি”, বলেছেন মাশরাফি।

    চোট-জর্জর ক্যারিয়ারে এর আগেও অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন, তবে সেসবের মেয়াদ পূরণ করা হয়নি তার। মাশরাফি মনে করিয়ে দিচ্ছেন সেটাও, “আমার ক্যারিয়ারটাই অনেক আগে শেষ হয়ে যেতে পারত। যতটুকু পেয়েছি আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া। প্রাপ্তির বিষয়ে বলা কঠিন, অপ্রাপ্তি সহজেই বলা যায়। অপ্রাপ্তি আছে, তবে দিনশেষে সেটাও আমার কাছে প্রাপ্তি। একটা ধারায় জীবন চলে না। ভাল-খারাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমার ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। আমি এই দায়িত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছি। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আপনারা ঠিক করবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে পয়েন্ট-আউট করিনি।” 

    তবে এ দায়িত্বের ভারটা বুঝেছিলেন, “…… আমি আসলে জানি না। এতটুকু নিশ্চিত, যখন দায়িত্ব দিয়েছে, আমি জানি যে, দায়িত্বটা কতো বড়। এখানে শুধু চাপ না, কতো আবেগ জড়িয়ে আছে। কতো মানুষ তাকিয়ে থাকে। কতো মানুষ খেলা দেখতে বসে যায়। ওই দায়িত্বটা সবসময়ই ছিল, এবং সেটির গুরুত্ব আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি। আমি আমার সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি বলতে পারব না।” 
     


    অধিনায়কত্ব ছাড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বৃহস্পতিবার সকালেই, “ভাবাভাবি করিনি, সবাই চাচ্ছে ২০২৩ এর সময় হয়েছে। আমার আসলে ভাবা উচিত ছিল। আজ সকালেই মনে হয়েছে, ‘দ্যাটস এনাফ।’  কালকে পর্যন্ত সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলাম। সকালে মনে হয়েছে, ‘এনাফ, দ্যাটস এনাফ।’ অবশ্যই যেসব কথা হয়েছে, সেসব আপনাকে ভাবাবে। আমাকেও ভাবিয়েছে।”

    মাশরাফি বলছেন, তিনি বোর্ডের যে পরিকল্পনা মাথায় রেখে সরে যাচ্ছেন, বোর্ড যাতে সে ব্যাপারে অটল থাকে, “তবে আমার কথা হলো, যে পরিকল্পনা আছে, সেটায় যেন অটল থাকা হয়। ১ বছর আগে হুট করে মনে হলো, (যাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে) ওকে দিয়ে আর চলছে না- বাংলাদেশে যেটা হয়- তাহলে আমাকে দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেটা (ঠিকঠাক) হলো না। আমি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আশা করব, যারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে এসব আলোচনা করেছে, তারা যাতে ওই পেশাদারিত্ব ধরে রাখে। তাকে যাতে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে ২০২৩ নিয়ে চিন্তা করা হয়।”

    “সামনে বিশ্বকাপ আসছে, ২০২৩। সবাই যেহেতু কথা বলছে, পরের পরিকল্পনা করতে হবে। আমার মনে হয় এটাই সঠিক সময়। তবে আশা করব, যে পরিকল্পনা করা হয়েছে সেটায় যেন অটল থাকা হয়, যে এই অধিনায়কই আমার ২০২৩ বিশ্বকাপের অধিনায়ক হবে।”

    অধিনায়কত্ব ছাড়লেও নিজের খেলা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এখনও অটল আছেন মাশরাফি। সেক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ, নিতে চান সেটি, “আপনি যদি ঘুম থেকে উঠে (দেখেন) খুব সুন্দরভাবে আপনার সামনে নাশতা রাখা হয়। আপনি আবার বেডে শুয়ে থাকলেন, টিভি দেখলেন। দুপুরের খাবার রাখা হলো। আপনি বিকালে একটু ঘুরে আসলেন। সন্ধ্যায় নাশতা করলেন। এরপর আবার রাতে খাবার খেলেন। তাহলে তো আপনার জীবনে কিছু থাকলো না। 

    “আমি উপভোগ করি, যখন আমার সবকিছু বিপক্ষে থাকে। সবকিছু পক্ষে থাকলে কিছুই না। সবকিছু বিপক্ষে থাকলে আপনি কী করেন, সেটাই ব্যাপার। এটা আপনার পরিবারের জন্যও একটা শিক্ষা।”

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন