• লা লিগা
  • " />

     

    'বিবর্ণ' মেসিতে সোসিয়েদাদ বাধা পেরুল বার্সেলোনা

    ফুলটাইম
    বার্সেলোনা ১-০ রিয়াল সোসিয়েদাদ


    ন্যু ক্যাম্পে হতাশার এক রাত পার করছিল বার্সেলোনা। সেখান থেকে ভিএআরের কল্যাণে পাওয়া পেনাল্টিতে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে ন্যু ক্যাম্প। ম্যাচের ৮১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে লিওনেল মেসি দলের জয় নিশ্চিত করেছেন।

    মেসি নিজেও অবশ্য ভালো সময় পার করছিলেন না। প্রথমার্ধে স্বভাববিরুদ্ধ এক মিস করেছিলেন। রেফারির বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে কার্ড দেখার হাত থেকেও বেঁচে গেছেন এর পর। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনিই আরেকবার উদ্ধার করেছেন দলকে। বদলি আর্তুরো ভিদাল বাম প্রান্ত থেকে ক্রস করেছিলেন বক্সের ভেতর। রবিন লি নরমান্দ বল ক্লিয়ারও করেছিলেন। কিন্তু এর পর ভিএআরের পরামর্শে রেফারি মাঠের বাইরে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলেছেন। নরমান্দ বল ক্লিয়ার করার জন্য লাফিয়ে উঠে হেড করতে চাইলেও বল লেগেছিল তার বাহুতে। রেফারির কাছে পেনাল্টি দেওয়ার জন্য ওটুকুই যথেষ্ট মনে হয়েছে।  


    মার্টিন ব্রাথওয়েট, আন্টোয়ান গ্রিযমান ও মেসিকে একসঙ্গে রেখে প্রথমবারের মতো একাদশ সাজিয়েছিলেন কিকে সেতিয়েন। প্রথমার্ধে বার্সার সেরা খেলোয়াড় ছিলেন সম্ভবত ব্রাথওয়েটই। গতি দিয়ে সোসিয়েদাদের ডিফেন্স লাইন ফাঁকি দিয়ে বেশ কয়েকবার গোলেও শট করেছিলেন তিনি। গ্রিযমান বদলি হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজের ছায়া হয়ে সময় কাটিয়েছেন। আর মেসিও মেসিসুলভ খেলতে না পারায় বার্সাকে গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে একেবারে শেষ পর্যন্ত।

    গেল সপ্তাহে এল ক্লাসিকোতে হারের পর মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনাটা ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে মুহুর্তও হয়ত পার করছেন মেসি। সোসিয়েদাদের বিপক্ষে তাকে দেখা গেছে খানিকটা অন্য ধাঁচে। রেফারির ও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়মিত সময়ের চেয়ে একটু বেশিই ঝাঁঝালো স্বরে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছেন বেশ কয়েকবার। দুই-একবার চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিংয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও মেসির বিবর্ণ হয়ে থাকা আড়াল হয়নি। যদিও ম্যাচ শেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতেই।

    ৪০ মিনিটে বক্সের ভেতর ভালো জায়গায় বলে পেয়েও মেসি গোলেই শট রাখতে পারেননি। এর পরের মিনিটে সোসিয়েদাদের মিকেল মেরিনোকে মারাত্মক এক ফাউল করেছিলেন মেসি। ভাগ্য বিপক্ষে গেলে দেখতে পারতেন সরাসরি লাল কার্ডও। তবে হলুদ কার্ড দেখে সে যাত্রা বেঁচে যান মেসি। প্রথমার্ধে খেলার হাইলাইটস ছিল এটুকুই।

    দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গুটিকয়েক ভালো সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছে। সোসিয়েদাদ অনুমিতভাবে কাউন্টার  অ্যাটাকে বার্সাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছিল। তবে মার্টিন ওডেগার্ড, অ্যালেক্সান্ডার ইসাকরা এদিন সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ফেরত আনতে পারেননি ন্যু ক্যাম্পে। এই দুইজনই কোপা ডেল রেতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করে তাদের বিদায় নিশ্চিত করেছিলেন মাস খানেক আগেই।

    দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম কিছুক্ষণ বার্সার আক্রমণগুলোর শেষ প্রান্তে বেশিরভাগ সময়ই ছিলেন ইভান রাকিটিচ। দুই মিনিটের ব্যবধানে দুইবার গোলে শট করেও ব্যর্থ হন তিনি। ৭৪ মিনিটে ভিদালের বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন রাকিটিচ। এর পর ভিদাল নেমে দলকে সাহায্যই করেছেন। পেনাল্টি আদায়ের ক্রসটাও এসেছে তার কাছ থেকে। লা লিগায় ২২ ম্যাচে ১৯ তম গোল করে মেসির কল্যাণে শেষ পর্যন্ত সুফল ভোগ করেছে বার্সা। ওই গোলে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। ৪৩৮ গোল তার, আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ৪৩৭ গোল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর।

    ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত বার্সা আছে শীর্ষে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের পরের ম্যাচ জিতে আবার দুইয়ে নেমে যাবে বার্সা।