• লা লিগা
  • " />

     

    রিয়াল মাদ্রিদকে মাটিতে নামিয়ে আনল রিয়াল বেটিস

    ফুলটাইম

    রিয়াল বেটিস ২-১ রিয়াল মাদ্রিদ


    এক সপ্তাহ আগে এল ক্লাসিকো জিতে লিগে শীর্ষে উঠেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। পরের সপ্তাহেই জিনেদিন জিদানের দলকে মাটিতে নামিয়ে আনল রিয়াল বেটিস। এস্তাদিও বেনিতো ভিলামারিনে রিয়াল বেটিসের কাছে হেরে আবার লা লিগার শীর্ষস্থান হারাতে হল তাদের। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো। ২৭ তম রাউন্ড শেষে এবার বার্সেলোনা এগিয়ে গেল দুই পয়েন্টে। রিয়াল মাদ্রিদের সর্বনাশ আবার করেছেন সাবেক এক বার্সেলোনা খেলোয়াড়। ১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ৮২ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান টেয়োর গোলে জয় নিশ্চিত হয়েছে বেটিসের।

    অবশ্য মাদ্রিদের মতো প্রথমার্ধে রিয়াল বেটিস ডিফেন্ডার সিডনিও মুদ্রার দুই পিঠ দেখেছিলেন মাত্র ৭ মিনিটের ব্যবধানে। প্রথমে দর্শনীয় এক গোলে ম্যাচের আগের সব সমীকরণ, অনুমানকে মিথ্যে করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সিডনি, আর অর্ধের যোগ করা সময়ে রিয়াল মাদ্রিদকে অনর্থক পেনাল্টি উপহার দিয়ে সেই লিড খুইয়েছেনও তিনি। তবে টেয়োর গোলে সব আফসোস ভুলেই যাওয়ার কথা সিডনির। বার্সার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে ছিলেন, সেখান থেকে মূল দলেও খেলেছিলেন টেয়ো। এর পর ২০১৭ সালে পাকাপাকিভাবে বার্সা থেকে বেটিসে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত শিরোপার পথে এই গোল বড় ভূমিকা পালন করলে বার্সা সমর্থকদের কাছ থেকে একটা ধন্যবাদ প্রাপ্যই থাকবে টেয়োর।


    ম্যাচের শুরুটা ঢিমেতালেই করেছিল রিয়াল। পাসের পর পাস গেথে বেনিতো ভিলামারিনে প্রথম ২০ মিনিটে স্বাগতিকদের কোনও সুযোগ দেয়নি। ১৬ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের বুদ্ধিদীপ্ত শটে এগিয়েও যেতে পারত জিদানের দল। অল্পের জন্য কাছের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায় ব্রাজিলিয়ানের সেই শট। তবে ফাইনাল থার্ডে গিয়ে মাদ্রিদ এরপর বারবার বল হারাতে থাকায় কিছুটা দাপুটে খেলার সাহস সঞ্চয় করে বেটিস। ২৮ মিনিটে মাদ্রিদের বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে না পেরে উল্টো বেটিসের মার্ক বার্ত্রার দিকে হেড করেন এডার মিলিতাও, সেই সুযোগ থেকে গোলের একেবারে সামনে বল পেয়েও বারের উপর দিয়ে হেড করেন বার্ত্রা।

    গোলের নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করলেও এরপর বেটিস নিয়মিত আক্রমণে উঠেছে। ৩৬ মিনিটে নাবিল ফেকিরের শট এক হাতে ফিরিয়েছিলেন থিবো কোর্তোয়া। মাদ্রিদ রক্ষণকে এরপর রীতিমত ব্যতিব্যস্ত করে তোলে স্বাগতিকরা। যার ফলও হাতেনাতেই পেয়ে গিয়েছিল তারা। ৪০ মিনিটে আবারও বক্সের বাইরে বেটিসের ছোট ফ্রি-কিক থেকে আক্রমণের শুরু, আবারও ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ মাদ্রিদ। তবে এবার মাদ্রিদের ব্যর্থতার সুযোগ নিতে ভুল হয়নি বেটিসের। সেই সুযোগ থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে কাছের পোস্ট কাঁপিয়ে কোর্তোয়াকে কোনও সুযোগ না দিয়েই দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সিডনি।

    তবে সেই সিডনির অর্থহীন ফাউলেই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিড হারায় স্বাগতিকরা। বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো মার্সেলোর পায়ে লাথি মেরে বসেন এই সেন্টার ব্যাক। কালবিলম্ব না করে রেফারি স্পট কিকের ইশারা করেন। সেখান থেকে গোল করে মাদ্রিদকে ম্যাচে সমতায় ফেরান করিম বেনজেমা।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে বেটিস অধিনায়ক হোয়াকিন গোলের সহজ সুযোগ মিস না করলে ম্যাচে আবারও এগিয়ে যেতে পারত স্বাগতিকরা। বাম প্রান্ত দিয়ে কোর্তোয়াকে কাটিয়ে ফাঁকা গোলে ঠিকঠাক শট রাখতে পারলেই কাজ হয়ে যেত। কিন্তু শটের বদলে কানালেসের উদ্দেশ্যে দুর্বল এক কাটব্যাক করেন হোয়াকিন, ফাঁকা নেটের সামনে থেকে সেই কাটব্যাক ক্লিয়ার করতে লুকা মদ্রিচের খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মাদ্রিদকে ব্যাকফুটে রাখে বেটিস। আক্রমণাত্মক প্রেসিংয়ে মাদ্রিদকে কোনও সুযোগ দিচ্ছিল না তারা। ৬৯ মিনিটে তাই মিডফিল্ডার টনি ক্রুসকে উঠিয়ে এল ক্লাসিকোতে গোল করা স্ট্রাইকার মারিয়ানো ডিয়াজকে নামান জিদান। আক্রমণাত্মক এই বদলের পরেই দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমবারের মতো বেটিসের বক্সে ভয় ধরায় মাদ্রিদ। মদ্রিচের ২০ মিটার দূর থেকে করা শট বেটিস গোলরক্ষক জোয়েল রোবলস রুখে দেন, রিবাউন্ডে ভিনিসিয়াসের শট ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। তবে এরপর আবার মাদ্রিদের এলোমেলো খেলা। মধ্যমাঠে বেনজেমার খাপছাড়া স্কয়ার পাস ধরে সামনে থাকা ক্রিশ্চিয়ান টেয়োর দিকে থ্রু বল বাড়ান আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো। কোর্তোয়ার সাথে ওয়ান-অন-ওয়ান অবস্থা থেকে এরপর লো ফিনিশে বেটিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন হোয়াকিনের বদলি হিসেবে নামা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

    এই জয়ের মাধ্যমে টানা ছয় ম্যাচে হারের বৃত্ত থেকে বের হয়ে ঘরের মাঠে জয়ের ধারায় ফিরল রিয়াল বেটিস। বার্নাব্যুতে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর এই জয়ের ফলে দুই লেগে মাদ্রিদকে জয় বঞ্চিত রাখল তারা। মাঝে ক্লাসিকো জিতলেও টানা দুই অ্যাওয়ে ম্যাচ হেরে আপাতত লিগের শীর্ষস্থান কাতালানদের কাছেই সমর্পণ করেছে জিদানের দল।