• জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফর
  • " />

     

    'সুযোগ' পেয়ে নিজেকে প্রমাণের তাগিদ অনুভব করেছেন সৌম্য

    ফ্রন্টফুট ক্লিয়ার করলেন, এরপর বল পাঠালেন বাইরে। পরের বলে আত্মবিশ্বাস যেন আরও তুঙ্গে ছিল তার। জানতেন, কী বল আসতে চলেছে। শর্ট বলটায় যে পুল শট করলেন, সেটা শুধু বিশাল না, তাতে নিয়ন্ত্রণটাও অসাধারণ। অবশ্য ইনিংসের শেষ বল সেটি, সৌম্য সরকারের ইনিংসটা আর বড় হতে পারলো না। ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ৬২ রানেই থামতে হলো তাকে। 

    লাহোরে দুই টি-টোয়েন্টির পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট থেকে ছুটি নিয়েছিলেন বিয়ের কারণে, পরে অবশ্য শেষ ওয়ানডের স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছিল তাকে। সেখানে খেলেননি, নামলেন এদিন। ‘বিয়ের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি, ফোকাস ওদিকে বেশি ছিল’, সৌম্য নিজেই বলছিলেন। তবে ম্যাচে তার ফোকাস নড়লো না, অন্তত ব্যাটিংয়ে। ‘পাওয়া সুযোগ’ কাজে লাগালেন আরেকবার। 

    সৌম্য বলছেন, টি-টোয়েন্টির খেলার ধরনটা বদলানোর চেষ্টা করছেন, “চেষ্টা করছি আরকি। আগে হয়তোবা স্ট্রাইকরেট অনেক বেশি রাখার চেষ্টা করতাম, এখনো একই ব্যাপার করার চেষ্টা করি। কিন্তু সব ওভারে না, হয়ত একটা বোলার বাছাই করে, পরিস্থিতি অনুযায়ী। পাকিস্তানে সুযোগ পাইনি। ভারতে তিন নম্বরে খেলেছিলাম, ওখানে যে ৩০-৪০ করেছি তা যদি বড় করতে পারতাম। তাহলে পাকিস্তানে গিয়েও নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারতাম। এখন চিন্তা আছে যেখানে সুযোগ পাই নিজেকে মেলে ধরব।”

    পাকিস্তানে সৌম্য ব্যাটিং করেছিলেন ৬ ও ৭ নম্বরে। ওপেনিংয়ে শেষ গত বছর ত্রিদেশীয় সিরিজে এক ম্যাচে নেমেছিলেন, পাকিস্তানে দুটি বাদ দিলে মোটামুটি খেলেছেন তিন নম্বরেই। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওপেনিংয়ে নেমে এদিনের আগে ক্যারিয়ারের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ফিফটি পেয়েছিলেন, এবার তিনে নেমেই পেলেন দ্বিতীয়টি। 

    সৌম্য বলছেন, নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ ছিল তার, “আমি সবসময় ওপরেই খেলেছি। মাঝে মাঝে যখন দলের প্রয়োজন হয়েছে ৬-৭-এ খেলেছি। যে সময় যেখানেই খেলি নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করি। হয়তো ছয়-সাতে ওভাবে খেলতে পারিনি। অনেকদিন পর আজকে তিনে ব্যাটিং করেছি। ইচ্ছে ছিল নিজের জায়গা আবার ধরার।”

    অবশ্য দলের প্রয়োজনে যে কোনও পজিশনেই খেলতে চান তিনি, “পছন্দ না..সব সময় ওপরেই খেলেছি। পছন্দ ওইরকম না। অনেক সময় দলের প্রয়োজন বিভিন্ন জায়গায় খেলতে হবে। ওটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। যেখানে সুযোগ পাবো অবশ্যই পারফরম্যাসন্স করার চেষ্টা করবো।” 

    সৌম্য যখন বাইরে, তখন দেখেছেন ওপেনিংয়ে লিটন দাসরা কীভাবে সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন, খেলছেন বড় ইনিংস। নিজেরও ইচ্ছা ছিল তেমন কিছুর করার, “অবশ্যই ছিল। বাকি ওয়ানডে ম্যাচগুলো আমি দেখেছিলাম, ওরা যেভাবে বোলিং করছিল, শেষের দিকে ততোটা ভালোও করেনি। আমার পরিকল্পনা ছিল শেষ ৫ ওভারে ওদের উপর আগ্রাসী হওয়ার।”

    তাকে নিয়ে টানাটানি বেশি হয় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য সৌম্য ওপরের দিকে খেলার কথাটাই বললেন, “ওপরে যখন খেলি একটু হলেও তো নিজের মধ্যে (স্বাচ্ছন্দ) থাকে , যেহেতু ছোট থেকে ওখানে খেলছি। পরিকল্পনা থাকে কীভাবে নতুন বলে খেলা, কীভাবে সময় নিয়ে খেলা (যায়)। 

    “আর সাতে যখন ব্যাট করি সিনিয়র ভাইদের কাছ থেকে বেশিরভাগ সময় জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনারা কীভাবে খেলেন। বুঝে নিই আমার কী করা উচিত। গিয়েই কী মারব, কী ভূমিকা থাকবে ইত্যাদি। তো ওইভাবে পরিকল্পনা করা। ম্যাচের উপরে নির্ভর করে আমি কোন পরিস্থিতিতে খেলব। নিজের পরিকল্পনা থাকে, সিনিয়র ভাইয়ের পরামর্শও নেই।”