• সিরি আ
  • " />

     

    দেশে ফিরে ইতালির ভয়াবহতা নিয়ে কথা বললেন গডিন

    করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্বই কোনো না কোনোভাবে ভুগছে। তবে এক্ষেত্রে ইতালির উপর এই ভাইরাসের ধকলটা বেশিই পড়ছে। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে দেশটিকে। ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার ডিয়েগো গদিন দুই সপ্তাহ ইতালিতে কোয়ারেন্টিনে কাটানোর পর নিজে দেশ উরুগুয়েতে ফিরে গেছেন। সেখানে গিয়েই করোনার কারণে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন গদিন।

    ইএসপিএনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে শেষদিকে ইতালিতে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন গদিন, “শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা ঝুঁকিতে ছিলাম। যতদিন না অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, ততদিন খেলা চালু রাখার অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপরই দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ক্রিটিক্যাল অবস্থায় থাকা রোগীদের জন্য হাসপাতালের আইসিইউতে কোনো বেড ফাঁকা নেই। বর্তমানে অন্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের দেখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসকও নেই।”

    গত ৯ মার্চ ইতালির প্রধানমন্ত্রী এক নির্বাহী আদেশে দেশটিতে সকল খেলাধুলা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার আগে সেদিন জুভেন্টাসের বিপক্ষে ‘দর্শকবিহীন’ মাঠে খেলেছিল ইন্টার মিলান। ঐ ম্যাচের ৫ দিন পরই জুভেন্টাসের দানিয়েলে রুগানির শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। 

    অনিশ্চিত সে সময়ের কথাও গদিনের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে, “আমরা কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত অনুশীলন করেছি, ‘দর্শকবিহীন’ মাঠে ম্যাচও খেলেছি। তবে জুভেন্টাসের একজন খেলোয়াড় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আমাদের এবং জুভেন্টাস খেলোয়াড়দের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। সেখানেই মৌসুম বন্ধ হয়েছিল। ঐ ম্যাচে খেলা অন্যদেরও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, সেজন্যই আমাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।”

    করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল চীনে। সেজন্য শুরু থেকেই ভাইরাসটি নিয়ে খুব একটা সচেতন ছিল না ইতালির সরকার, গদিনের বক্তব্যে উঠে আসল সেই কথাও, “শুরুতে এটা কোনও বড় বিষয় ছিল না। সবাই ভেবেছিল, এটা চীনের সমস্যা, অন্য দেশে এটা ছড়াবে না। তাই সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো খুবই ধীর গতিতে নেওয়া হয়েছে। আমাদেরকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছিল, তবে তখন সরকারের তরফ থেকে সমন্বিত বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” ৩১ জানুয়ারি ইতালিতে প্রথম দুজন চাইনিজ টুরিস্টের শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছিল।

    এই কঠিন সময়ে করোনার বিরুদ্ধে ‘ফ্রন্টলাইনে’ দাড়িয়ে যুদ্ধ করা চিকিৎসকদের ‘নায়ক’ হিসেবে সম্ভাষণ করেছেন গদিন, “স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সবাই যা করছেন, তারা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। তারা এখনকার আসল নায়ক।”