• ক্রিকেটারদের আলাপ
  • " />

     

    সেঞ্চুরির পর ভুল না করলে আমাকে আউট করা অসম্ভব : রোহিত শর্মা

    বড় ইনিংস-- সীমিত ওভারের বড় ইনিংস-- এর ক্ষেত্রে রোহিত শর্মার চেয়ে বেশি ভাল কেইবা বলতে পারবেন? নামের পাশে তার ওয়ানডেতে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি, দেড়শ বা এর বেশি রানের ইনিংস আছে তার ৮টি। ওয়ানডে ইতিহাসেই এমন নেই আর কারও। সেঞ্চুরির পর রোহিত হয়ে ওঠেন যেন আরও বেশি ভয়ানক। একবার তিন অঙ্কে পৌঁছে গেলে রোহিত ভাবেন, তিনি ভুল না করলে তাকে আউট করা অসম্ভব। এবং সেঞ্চুরির পর শুধু উপভোগের পালা তার। 

    দুর্দান্ত হিটিংয়ের সঙ্গে ইনিংসের গতি বজায় রাখা, প্রতিপক্ষকে দুমড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিত তাই এক ভয়ঙ্কর নাম। নিজের লাইভ শো-তে তাকে এনে তামিম রোহিতকে জিজ্ঞাসা করেছেন তার এমন ইনিংসের রহস্যের ব্যাপারে। সেসবেরই জবাবে রোহিত বলেছেন, শুরুতে নার্ভাস থাকলেও সেঞ্চুরির পর তিনি শুধু উপভোগ করতে চান। প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে নিজের মানসিকতার পার্থক্যও বলেছেন তিনি। 

    “একবার সেঞ্চুরি হয়ে গেলে তো তোমার উপভোগ করতে হবে”, বলেছেন রোহিত, “নার্ভাসনেস-টার্ভাসনেস তো চলে যায় তখন। সেঞ্চুরির পর তোমার সময়, তোমার গেম। ভুল না করলে আউট হবে না। আমিও এটাই ভাবি। যখন সময় ভাল যায় না, তখন তুমি আউট হতে থাকবে-- খারাপ বলে, ভাল বলে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যাবে। ফলে একবার সেঞ্চুরি হলে ভাবি সেসব নিয়ে। সেঞ্চুরির পর ভুল না করলে আউট হওয়া অসম্ভব-- আমি নিজেকে এটাই বলতে থাকি। 

    “তবে ৪০ ওভার পর্যন্ত স্বাভাবিক খেলা খেলি। বল পেলে মারি। তবে হয়তো এরপর, বা ৪২ ওভারের পর থেকে মারা শুরু করি প্রতি বলেই। আবার কার সঙ্গে ব্যাটিং করছি, সেটার ওপরও নির্ভর করে। টেইল-এন্ডারদের নিয়ে ব্যাটিং করলে হয়তো প্রতি বলেই সুযোগ নিতে চাইব না। মিডল অর্ডারের কেউ, সেট ব্যাটসম্যান কেউ সাথে থাকলে, এবং কেউ যদি থাকে যে এরপর আসবে, তাহলে আমি সুযোগ নেই।”
     


    আউট হয়ে ফিরছেন সাকিব, সতীর্থকে অভিনন্দন জানাতে যাচ্ছেন রোহিত, বিশ্বকাপ ২০১৯/এএফপি


    ক্যারিয়ারের শুরুতে আর সবার মতো ভুল করলেও নিজের খেলায় ‘ডিসিপ্লিন’ আনতে হয়েছে রোহিতকে, তারই ফল পাচ্ছেন এখন, “আমি নিয়মিত ওপেনার ছিলাম না। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথমবার (নিয়মিত ওপেনার হিসেবে) ভারতের হয়ে ওপেনিং করেছিলাম। এর আগে করেছিলাম, তবে সেগুলো অন্য ওপেনারদের চোটের কারণে। মাইন্ডসেট (এর কথা বললে)-- আমি শুরুতে অনেক ভুল করেছিলাম। মিডল অর্ডারে যখন ব্যাটিং করছিলাম, অনেক ভুল করেছি। সবার সাথেই যা হয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবাই ভুল করতে বাধ্য। 

    “তবে আমি বুঝেছিলাম, সেসব ভুলের কারণে আসলে আমি পথ হারিয়ে ফেলছি। আমার খেলা নিয়ে তাই ভাবতে হয়েছে। কিছু ডিসিপ্লিন আনতে হয়েছে আমার খেলার ধরনে। ওপেনিংয়ে-- তুমিও ওপেনার-- কিছু জিনিস আছে, যেগুলো ব্যাটিংয়ের সময় খেয়াল রাখি। শুরুতে নিজের সময় নেই।” 

    “সেখানে শিখর ধাওয়ানের (রোহিতের ওপেনিং সঙ্গী) সাহায্য মেলে। সে গ্রাউন্ড শট খেলে, সে আক্রমণাত্মক, তবে উড়িয়ে খেলতে পছন্দ করে না। শুরুতে তাকে স্ট্রাইক দেওয়ার চেষ্টা করি আমি বেশি। এসব ভেবেই ব্যাটিং করি। আমার কাজ হচ্ছে যতোক্ষণ ব্যাটিং করা যায়। ব্যাটিংয়ের সময় আমি এটাই ভাবি-- ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত যাতে ব্যাটিং করা যায়। 
     


    “যখন তুমি আমার ক্যাচ ছাড়লে, তখন আমার মনে হয়েছিল, ‘এখন তো আমার করতেই হবে, বড় স্কোর গড়তে হবে’।”/এএফপি


    “প্রথমে ব্যাটিং করলে আমি ঝুঁকি নিতে পছন্দ করি না। আমি জানি, শেষের দিকে রানের গতি বাড়িয়ে নিয়ে পুষিয়ে দিতে পারব। ফলে আমি শিখরকে স্ট্রাইক দিই। যদি ৩০০-৩৫০ লক্ষ্য হয়, তাহলে পরিকল্পনা সহজ। আমি জানি কী করতে হবে। তখন শুধু ধাওয়ান মারলেই হবে না, আমাকেও মারতে হবে। মানে ভুল যত কম করা যায়। 

    “নার্ভাসনেস তো জীবনের অংশ। এটা সবসময়ই থাকবে। আমি সবসময়ই নার্ভাস থাকি। প্রথম ১০-১৫ মিনিট। যে কোনও ফরম্যাটে। তবে এরপর নার্ভাসনেস চলে যেতে থাকে।” 

    রোহিতের বড় ইনিংসের ‘ফল’ ভোগ করতে হয়েছে বাংলাদেশকেও। তাদের সঙ্গে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি, তবে তিনটিই আইসিসি টুর্নামেন্টে- ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপের সঙ্গে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে, এর মাঝে ২০১৫ ও ২০১৭ এর ম্যাচ দুটি ছিল নক-আউট। শেষ বিশ্বকাপে শুরুতে তামিম ইকবালের হাতে জীবন পেয়েছিলেন রোহিত। তামিম সেটা মনে করিয়ে দেওয়াতে বলেছেন, জীবন পাওয়ার পর আদতে ‘অন্য কিছু করার ছিল না তার’। 

    “আমার মনে হয়, যখন কিছু কাজে আসবে না, তখন কিছু একটা দরকার পড়ে- অসাধারণ ক্যাচের মতো, এক হাতে ক্যাচের মতো। আর যখন কিছু হয় না, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তও হয়তো পক্ষে আসবে না। আর যখন সবকিছু পক্ষে থাকে, তখন মনে হয় যে আজ আমার দিন। ওই দিনটা আমার ছিল। তো যখন তুমি আমার ক্যাচ ছাড়লে, তখন আমার মনে হয়েছিল, ‘এখন তো আমার করতেই হবে, বড় স্কোর গড়তে হবে’।”