• ক্রিকেটারদের আলাপ
  • " />

     

    সমর্থকদের মাঝে বিভেদ তৈরি না করতে অনুরোধ মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক, তামিমের

    সমর্থকদের নিজেদের মাঝে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না করার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশের চার সিনিয়র ক্রিকেটার- তামিম ইকবাল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। প্রত্যেক ক্রিকেটারের আলাদা সমর্থকগোষ্ঠী থাকবে, এটা স্বাভাবিক ধরেই নিয়ে তাদের প্রত্যাশা, দিনশেষে সবাই বাংলাদেশের হয়ে খেলেন- এটা যেন মাথায় রাখা হয়। 

    তামিম ইকবালের ফেসবুক লাইভ শো-তে এদিন এসেছিলেন বাকি তিন সিনিয়র ক্রিকেটার। শো-র শেষদিকে গিয়ে এ প্রসঙ্গ তুলে এনেছিলেন তামিম, যেটিকে বাকি তিনজনই মনে করেন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তামিমের মতে, তারা সবাই ভাই-বন্ধু, সমর্থকরাও যাতে তেমনই হন, “প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের- তামিমিয়ান, মুশফিকিয়ান- এমন গ্রুপ আছে। সবার ফ্যানবেজ থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এসব গ্রুপ একটা আরেকটাকে আক্রমণ করতে থাকে। এটা কতোটা ঠিক? আমি জানি না, তবে অনুরোধ করব, যাতে আক্রমণটা না করে। আমরা বাংলাদেশের হয়ে খেলি, সবাই বন্ধু ভাই। তো আপনারাও ভাই হয়ে থাকেন। তামিমের সমর্থক মুশফিককে গালি দেবে, মুশফিকের সমর্থক তামিমকে গালি দেবে- এটা করবেন না।”

    তামিম শো শেষও করেছেন এই অনুরোধ করেই, “শুধু দুইটা গ্রুপের প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে এটা করবেন না দয়া করে। আমরা একসঙ্গে খেলি। আমরা হাসি, কাঁদি, ঝগড়া করি। সবই করি। কিন্তু এ কারণে নিজেরা বিভক্ত হবেন না। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নাই।”

    মাশরাফি বলেছেন, ‘জেন্টলম্যানস গেম’-এর দর্শকদেরও সেরকমই হওয়া উচিৎ, “অনেকদিন (আগেই) এটা মাথায় এসেছে, তুলে আনার জন্য তোকে ধন্যবাদ। আগেও বলেছি, দিনশেষে আমাদের ক্ষতি আমরাই করি, বাইরের কেউ কিন্তু করে না। দিনশেষে আমরা আপনাদের জন্যই খেলি, বাংলাদেশের জন্য খেলি। গালি দিলে সবাইকে দেন। সমালোচনা করেন। কিন্তু আলাদা করে কাউকে ধরে নেওয়া… মাশরাফিয়ান, সাকিবিয়ান-- থাকতেই পারে। 

    “একটা কোচের যেমন দশজন পছন্দের থাকতেই পারে, কিন্তু সে ২-৩ জনকে আলাদা করে ধরে। প্রত্যেক সমর্থকের আলাদা একজন প্রিয় ক্রিকেটার থাকতেই পারে। কিন্তু প্রকাশ্যে এসব দেখানো… অসম্মান করা, টেনে নেমে আনা, এসব না করি। এটা দৃষ্টিকটু। আশা করব, ক্রিকেট জেন্টলম্যানস গেম। এর দর্শকরাও জেন্টলম্যান হয়, যদি বহির্বিশ্ব দেখি। আশা করি এটা ‘কাভার’ করতে পারলে অনেক মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব ইনশাআল্লাহ।”

    মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, নিজেদের মাঝে কাদা ছোড়াছুড়ি না করতে, “আমার মনে হয় কাদা ছোড়াছুড়ি করে লাভ হয় না, নিজের গায়েই লাগে। সবারই পছন্দের ক্রিকেটার থাকে, কিন্তু অন্য কাউকে অপছন্দ করতে হবে তেমন তো না। আর ভালর কোনও বিকল্প হয় না। আপনি কাউকে যদি সম্মান করেন, সম্মানই পাবেন। অসম্মান পাবেন না। এটা খেয়াল রাখবেন। এটা বড় একটা পয়েন্ট।”

    মুশফিকের মতে, সম্মান দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ, “এই দুইটা বার্তাই দেওয়ার ছিল। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে কখনও সফল হয়, কখনও ব্যর্থ হই। একজনের জন্য না কিন্তু। মিডিয়া, দর্শক- সবাই এর অংশ। আমরা জিতলেও একসঙ্গে জিতি, হারলেও তাই। আমার মনে হয় সম্মান দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি কখনোই আশা করি না, আমার কোনও সমর্থক অন্য কাউকে গালি দেবে।”

    আর বাংলাদেশের তিন সিনিয়র ক্রিকেটারকে দিয়ে শো শেষ করায় তামিমকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মাশরাফি,  “অসম্ভব ভাল করেছিস (এই শো)। আমরাও দেখেছি, ভাল লেগেছে। আর শেষমেষ এসে পান্তাভাত খাওয়ার জন্য তোকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

    এর আগে তামিমকে প্রশ্ন করেছিলেন মাশরাফি, কেন তাদেরকে আবার ডাকা হলো, “এই যে তুই (তোর) পোলাও বিরিয়ানি কোর্মা খাওয়ার পর হঠাৎ পান্তাভাত খাওয়ার ইচ্ছা হলো কেন ভাই? বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ফাফ ডু প্লেসি, কেন উইলিয়ামসনের মতো পোলাও-বিরিয়ানির পর আমাদের মতো পান্তাভাত কেন?” 

    জবাবে তামিম বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশী ভাই, পান্তাভাতই সবচেয়ে প্রিয়। বাঙালির প্রিয় তো পান্তাভাতই। আমি নিজেও পান্তাভাত, আপনারাও পান্তাভাত। আমার কোনও সমস্যা নাই।”

    শো-এর শুরুতেও হয়তো সমর্থকদের এমন একটা বার্তাই দিয়েছিলেন তামিম, মাশরাফির কথার জবাবে।  
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন