• ক্রিকেটারদের আলাপ
  • " />

     

    যে কারণে নিজের স্ট্যান্স বদলে ফেলেছিলেন কোহলি

    বিরাট কোহলির সঙ্গে তামিম ইকবালের শো তার আর কয়েকটি এপিসোড থেকে ছিল একটু আলাদা। কভিড-১৯ পরিস্থিতি ছাড়া কোহলির সঙ্গে তামিম আলোচনা করেছেন মূলত ক্রিকেটের টেকনিক্যাল এবং মানসিক দিক নিয়েই। তামিমের মতে, কোহলিকে জিজ্ঞাসা করার জন্য তার সতীর্থরাও বেশ কিছু প্রশ্ন দিয়ে রেখেছিলেন, তার ব্যক্তিগত প্রশ্নও ছিল। সেটিরই একটি-- কোহলি কেন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের স্ট্যান্স পরিবর্তন করলেন। 

    তামিমের মতে, কোহলির আগে স্ট্যান্স ছিল বেশ ‘স্ট্যাটিক’ বা ‘অনড়’। তবে এরপর কোহলি ‘ব্যাক অ্যান্ড ফরোয়ার্ড’ বা নড়াচড়া শুরু করেছেন। এই পরিবর্তনের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে কোহলি বলেছেন, মূলত শটের রেঞ্জ বাড়াতেই এই পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। 

    “আমি বদলেছি, এটা আসলে একটা ব্যক্তিগত কারণে”, বলেছেন কোহলি। “আমার মনে হয়েছে আমি মাঠের চারদিকে খেলতে চাই। এ কারণে, স্ট্যান্সে এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকলে আমার অপশন সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হতো। মনে হতো, শুধু একভাবেই খেলতে পারছি। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে আমার মূল যে শিক্ষা-- ‘হিপ’ ঠিক থাকলে নড়াচড়া করে, ফিট মুভমেন্টে যে কোনও শট খেলা যায়। তো আমার মনে হয়েছিল ‘স্ট্যাটিক’ স্ট্যান্স দিয়ে আমার কাজ হচ্ছিল না।” 

    তবে, “অনেকের জন্যই আবার এটাই কাজে দেয়। শচীন টেন্ডুলকার খেলতেন, তার সমস্যা হতো না। তার হ্যান্ড-আই কো-অর্ডিনেশন বেশ উঁচুমানের ছিল। কিন্তু আমার কিছু জিনিস নতুন আনতে হয়েছে, চেষ্টা করতে হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। চেষ্টা না করলে বুঝতাম না। আমি এটাই বলতে চাই, যদি খেলার ধরনের পরিবর্তন আনার কথা ভাবো, তাহলে চেষ্টা করতে হবে। অনুশীলনে, বিশেষ করে ম্যাচে করতে হবে। ম্যাচে চাপ থাকে, প্রতিপক্ষ ঘায়েল করার চেষ্টা করে। সেখানে ওই জিনিস এক্সিকিউট করতে পারলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে অনেক।” 

    কোহলির মতে, নতুন জিনিসের চেষ্টা করা উচিৎ সবারই, “আমার সঙ্গে যারা ছিল, তাদের কথা বিশ্বাস করতাম আমি। তবে সবসময়ই মন খোলা রাখতে হবে, নতুন জিনিস শিখতে হবে। অনেক সময় অনেককেই দেখি, ‘যে আমি এভাবেই খেলি’। তবে কিছুদিন পরই প্রতিপক্ষ আপনাকে বুঝে ফেলবে, আপনাকে বাকিদের চেয়ে আগে গিয়ে খেলতে হবে। 

    “আমার মনে হয়, যে কাউকেই ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হয়। চেষ্টা করতে হয়। না হলে তখন বলা যাবে যে, নিজের প্রক্রিয়াতেই এগুতে থাকি।”

    নিজের অনুশীলন প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেছেন কোহলি। তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র ‘ডায়েট’ ও নিজেকে ফিট রাখার অনুশীলনই একই রকম থাকে তার, এসব মানেনও কঠোরভাবে। তবে নেটে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে ঠিক ছন্দটা পেয়ে গেলেই বের হয়ে যান তিনি। তার মতে, কখন নেট থেকে বের হতে হবে-- এটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি আত্মবিশ্বাসই।