• লা লিগা
  • " />

     

    ১৯৭ জনের বেশি মাঠে ঢুকতে পারবে না লা লিগায়

    এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৯৭ জন মাঠে ঢুকতে পারবেন লা লিগায়। সংখ্যাটা বুন্দেসলিগার লিগের চেয়ে অনেক কম হলেও, গোল উদযাপনের ক্ষেত্রে থাকছে না কোনো নিয়মের মারপ্যাঁচ। আর লা লিগা আশা করছে জুনের ১২ তারিখ থেকে আবারও লিগ শুরু করতে পারবে তারা। দ্য গার্ডিয়ানের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে এসব।

    লা লিগায় আবারও ম্যাচ শুরুর জন্য নতুন স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম-কানুনের ড্রাফট ক্লাবগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার পর নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। লা লিগার ফেরা অবশ্য নির্ভর করছে স্পেন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। সরাকারি সবুজ সংকেত না মেলা পর্যন্ত লিগ শুরু করতে পারবে না তাই লা লিগা।

    ওই ড্রাফট অনুযায়ী লা লিগার প্রত্যেক খেলোয়াড় ও স্টাফের ম্যাচের ২৪ ঘন্টা আগে করোনভাইরাস পরীক্ষা করানো হবে। স্টেডিয়ামে যাওয়ার আগেও খেলোয়াড়দের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে। অনুমিতভাবেই হ্যান্ডশেক থাকছে না ম্যাচে। তবে ৩৪ পাতার ডকুমেন্টে কোথাও থুতু ফেলা ও গোল উযাপন নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন গার্ডিয়ান প্রতিবেদক সিড লো।



    লা লিগার ওই ডকুমেন্ট অনুযায়ী স্টেডিয়ামগুলোকে ৩ টি জোনে ভাগ করা হবে। গ্রিন ও ব্লু জোন থাকবে স্টেডিয়ামের ভেতরের অংশে, আর এর বাইরে রেড জোন। মাঠের বাইরে সমর্থকদের ভিড় জমানোর আশঙ্কা থেকেই রেড জোনকে দেওয়া হচ্ছে আলাদা গুরুত্ব।

    গ্রিন জোনে থাকবেন সবমিলিয়ে ৯৪ জন। এর ভেতর রয়েছেন মাঠের বাইশজন খেলোয়াড়, সাইডবেঞ্চের ১৮ জন, ৫ জন রেফারি ও ম্যাচ অফিসিয়াল, কোচ, মেডিকেল স্টাফ, রেড ক্রিসেন্টের ৬ জন, ৪ জন বলবয়। এর সঙ্গে টেলিভিশন সম্প্রচার কাজে নিয়োজিত লোক, গ্রাউন্ডসম্যান, ভিএআর অপারেটররাও থাকবেন।

    বুন্দেসলিগায় সবমিলিয়ে একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩২২ জনের স্টেডিয়াম এলাকায় থাকার অনুমতি আছে। এর ভেতর প্রায় ১০০ জনই অবশ্য  নিরাপত্তাকর্মী। লা লিগা সেই সংখ্যাটা কমিয়েই আনার চেষ্টা করছে। তবে বুন্দেসলিগার মতো তারাও মাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রে দুইদলকে আলাদা সময় বেঁধে দিয়েছে। এমন কী ২৫ জনের বেশি হলে একটির বদলে দুইটি টিম বাস ব্যবহারের নির্দেশনাও রয়েছে এতে। অ্যাওয়ে দলগুলো যাতায়াতের জন্য কেবলমাত্র চার্টার্ড বিমান অথবা ট্রেন ব্যবহার করতে পারবে। খাওয়া-দাওয়ার সময় খেলোয়াড়দের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    মাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রে খেলোয়াড় ও রেফারিটা ৩টি পথ ব্যবহার করবেন। প্রত্যেক এন্ট্রিতে থাকবে হাত জীবানুনাশক করার ব্যবস্থা। এবং অবশ্যই মাঠে প্রবেশের সময় সবার মুখে থাকতে হবে মাস্ক ও গ্লাভস। ড্রেসিংরুম ২৪ ঘন্টা আগেই একবার জীবানুনাশক করে রাখা হবে। কিটম্যান খেলোয়াড়দের প্রবেশের ৩ ঘন্টা আগে ড্রেসিংরুমে ঢুকে খেলোয়াড়দের জার্সি সাজিয়ে রাখবেন। হাফটাইমে আরও একবার বাধ্যতামূলকভাবে জার্সি বদলাতে হবে খেলোয়াড়দের।

    জুনের গরমের কথা মাথায় রেখে রুমের তাপমাত্রাও নির্ধারণ করে দিয়েছে লা লিগা। ২১ ড্রিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সঙ্গে ৫০-৬০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকতে হবে ড্রেসিংরুমে।

    ব্লু জোনে থাকবেন ১০৩ জন। ক্লাব অফিসিয়াল, নিরাপত্তাকর্মী ও টিভির সম্প্রচারকর্মী, লিগের স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিসের জন্য টেকনিশিয়ানরা থাকবেন এই জোনে। বুন্দেসলিগায় ১০ সাংবাদিক প্রবেশের অনুমতি থাকলেও লা লিগায় সেরকম নিয়ম থাকছে না। শুধুমাত্র সম্প্রচারস্বত্ব পাওয়া টেলিভিশন ও ওই ক্লাব মিডিয়ার সাংবাদিকরা থাকতে পারবেন মাঠে। আর দূর থেকে মাইক্রোফোন দিয়ে হবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন।     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন