• সিরি আ
  • " />

     

    গোল করে, গোল করিয়ে জুভেন্টাসকে আরও এগিয়ে দিলেন রোনালদো

    ফুলটাইম
    জুভেন্টাস ৪-০ লেচ্চে


    পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকা লাৎসিওর হারের সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে জুভেন্টাস। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এক গোল করেছেন, আরও দুইটি করিয়েছেন দুই সতীর্থ পাউলো দিবালা ও গঞ্জালো হিগুয়াইনকে দিয়ে। আক্রমণভাগের সবার গোল পাওয়ার রাতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষের জায়গাটা আরও শক্তিশালী হয়েছে বিয়াঙ্কোনেরিদের। ১০ ম্যাচ হাতে রেখে লাৎসিওর চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে জুভেন্টাস। অবশ্য লাৎসিওর হাতে আছে এক ম্যাচ বেশি। 

    রেলিগেশন জোনে ঘুরপাক খেতে থাকা লেচ্চেকে মোটেই পাত্তা দেয়নি জুভেন্টাস। তবে জুভেন্টাসকে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। প্রথমার্ধে লেচ্চে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর ওই অপেক্ষাটাই দীর্ঘ ছিল শুধু, একবার এগিয়ে যাওয়ার পর জুভেন্টাস খেলেছে ছন্দময় ফুটবল। ফাইনাল থার্ডে আরেকটু নিখুঁত হলে লেচ্চেকে গোলবন্যায় ভাসাতে পারত জুভেন্টাস।



    ম্যাচের ৩১ মিনিটে রদ্রিগো বেন্টাঙ্কুর গিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফাবিও  লুচিওনিকে। ডিফেন্সে বল পজেশন হারিয়েছিলেন লুচিওনি, বেন্টাঙ্কুর এগিয়ে যেতে পারতেন গোলের দিকে। লাস্ট ম্যান ট্যাকেলের পর লাল কার্ড দেখেন লেচ্চে ডিফেন্ডার।

    এরপর জুভেন্টাসের এগিয়ে যাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার। প্রথমার্ধে দুইটি দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রোনালদোরা। দিবালার নেওয়া কর্নার থেকে সহজ হেডে একবার লক্ষ্যেই বল রাখতে পারেননি রোনালদো। আরেকবার রোনালদোর নিচু ক্রস কাছের পোস্ট থেকে ফ্রেডেরিকো বের্নাদেস্কি মেরেছেন ওপর দিয়ে।  

    ৫৩ মিনিটে জুভেন্টাসকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা করেছিলেন দিবালা। নিজেদের বক্সের ভেতর রোনালদোকে বল উপহার দিয়েছিল লেচ্চে। রোনালদো এরপর বক্সের ঠিক বাইরে ফেলেছেন বল। দিবালা আরও একবার বাম পায়ের কার্লিং শটে বল জড়িয়েছেন টপ কর্নারে। সিরি আ-তে নিজের ৫০ তম গোলটাও ট্রেডমার্ক ফিনিশেই পেয়েছেন 'লা জয়া'।

    লেচ্চের প্রতিরোধ একবার ভেঙে পড়লে জুভেন্টাসকে আর কষ্ট করতে হয়নি। ৬২ মিনিটে রোনালদোকে ফাউল করেই পেনাল্টি উপহার দিয়েছিল লেচ্চে। বোলোনিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি, লেচ্চের বিপক্ষেও প্রায় একই কায়দার শটে জুভেন্টাসকে দুই গোলে এগিয়ে দেন রোনালদো। এই নিয়ে ২৪ ম্যাচে ৩৫ বছর বয়সীর গোল দাঁড়াল ২৩টি। সিরি আ-তে তার সামনে আছেন কেবল, চিরো ইম্মোবিলে (২৭ গোল)।

    রোনালদো অবশ্য সুযোগ ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারলে হ্যাটট্রিকও পূরণ করে ফেলতে পারতেন। ব্লেইস মাতুইদির বাম দিক থেকে করা ক্রসে আরেকটি হেডের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রোনালদো। তবে ৮৩ মিনিটে দারুণ এক অ্যাসিস্টে রোনালদো মনে করিয়ে দিয়েছেন গোলমেশিনে পরিণত হওয়ার আগে এক কালে উইঙ্গারও ছিলেন তিনি! এর আগে পুরো মৌসুমে লিগে রোনালদোর অ্যাসিস্ট ছিল ২টি, লেচ্চের বিপক্ষে সংখ্যাটা দ্বিগুণ করেছেন রোনালদো।

    বাম প্রান্ত দিয়ে দৌড় শুরু করেছিলেন রোনালদো। এরপর ইনসাইড রান নিয়ে লেচ্চের রক্ষণকে তছনছ করে ব্যাকপাসে বক্সের ভেতর খুঁজে নিয়েছেন হিগুয়াইনকে। ৫ মিনিট আগে মাঠে নামা আর্জেন্টাই স্ট্রাইকার এরপর বাম পায়ের শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে গোল করেছেন।এর দুই মিনিট পরই ডগলাস কস্তার ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান ৪-০ করেছেন ম্যাথিয়াস ডি লিখট। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন