• লা লিগা
  • " />

     

    কাতালুনিয়ায় এসে শীর্ষস্থানে লিড বাড়িয়ে গেল রিয়াল

    ফুলটাইম
    এস্পানিওল ০-১ রিয়াল মাদ্রিদ


    পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল এস্পানিওলের বিপক্ষে জিততে শেষ পর্যন্ত ভালোই খাটতে হলো রিয়াল মাদ্রিদকে। অবশ্য লা লিগার আর ৬ ম্যাচ বাকি থাকতে তিন পয়েন্টটাই তো মুখ্য। কাতালুনিয়ায় এসে জয় বাগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এখন বার্সেলোনার চেয়ে এগিয়ে গেছে ২ পয়েন্টে। এস্পনিওলের মাঠে প্রথমার্ধে দারুণ এক দলগত গোল জয় পাইয়ে দিয়েছে জিনেদিন জিদানের দলকে। তাতে বড় অবদান করিম বেনজেমার, আর কাসেমিরো করেছেন শেষ কাজটা।



    প্রথমার্ধে প্রায় পুরোটা সময় রিয়ালকে হতাশ করে যাচ্ছিল এস্পানিওল। রিয়াল প্রতিরোধ ভেঙেছে যোগ করা সময়ে। বাম প্রান্ত থেকে মার্সেলোর ক্রস বক্সের ঠিক বাইরে থেকে হেড করেছিলেন সার্জিও রামোস। সেখান থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান বেনজেমা। তাকে এস্পানিওল ডিফেন্ডার কড়া পাহারাতেও রেখেছিলেন। তবে তাতে লাভ হয়নি। সিক্স ইয়ার্ড বক্সের কোণা থেকে বুদ্ধিদীপ্ত এক ব্যাকহিলে গোলের সামনে কাসেমিরোকে খুঁজে নিয়েছিলেন বেনজেমা। এরপর ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফাঁকা বাকি কাজ সেরেছেন এক টোকায়।

    কাসেমিরোর ওই গোল পরে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ম্যাচে। করোনাভাইরাসের কারণে বিরতির পর এই নিয়ে টানা ৫ ম্যাচ জিতে শিরোপা পুনুরুদ্ধারের পথে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে গেছে রিয়াল। তবে এস্পনিওলের বিপক্ষে এক গোলের জয়ে বেশ কয়েকবার চাপে পড়ে গিয়েছিল জিদানের দল। 

    রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো কোচ বরাখাস্ত করেছিল এস্পানিওল। স্পোর্টিং ডিরেক্টর থেকে হুট করেই কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে গেছেন ফ্রাঞ্চিস্কো রুফেতে। নিজেও এস্পানিওলের খেলোয়াড় ছিলেন। মাদ্রিদের ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচে কাতালুনিয়ার ঝাঁঝটা তার জানা আছে ভালোই। রুফেতের দল ম্যাচের একেবারে শেষ পর্যন্ত রিয়ালের সঙ্গে লড়াই করে গিয়েছে। ফরোয়ার্ডরা নিখুঁত হলে রিয়ালকে বিপদেও ফেলতে পারত তারা।

    এস্পানিওলের চায়নিজ স্ট্রাইকার উ লি দুই অর্ধেই দারুণ দুইটি সুযোগ পেয়ে ছিলেন। থিবো কোর্তোয়া অবশ্য পুরো সময়ই সতর্ক ছিলেন। আর এক গোলে এগিয়ে থেকেও রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডাররা দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুলে এস্পানিওলকে ভয়ঙ্কর হতে দেননি।

    জিদান এই ম্যাচেও স্কোয়াড রোটেশনের পুরনো রীতি চালু রেখেছিলেন। আগের ম্যাচে গোল করা ভিনিয়াস জুনিয়র নেমেছেন দ্বিতীয়ার্ধে। এর আগে এডেন হ্যাজার্ড আর করিম বেনজেমার সঙ্গে অ্যাটাকিং থার্ডে নেমেছিলেন ইস্কো।

    ইস্কো, হ্যাজার্ড একসঙ্গে বদলি হওয়ার আগ পর্যন্ত খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেননি ম্যাচে। তবে বেনজেমা আরও একবার ছিলেন উজ্জ্বল। দ্বিতীয়ার্ধে নিজে গোলও পেতে পারতেন। বাইলাইনের কাছাকাছি জায়গা থেকে সরাসরি গোলে শট করে আত্মবিশ্বাসী বেনজেমা চমকে দিয়েছিলেন এস্পানিওল গোলরক্ষককে। সাবেক রিয়াল গোলরক্ষক ডিয়েগো লোপেজের সেভে আর গোল পাওয়া হয়নি বেনজেমার।

    লোপেজকে অবশ্য আরও কঠিন পরীক্ষায় রিয়াল ফেলেছিল প্রথমার্ধেই। এক আক্রমণ থেকে অন্তত দুইবার গোলে শট করেও সেবার গোল পায়নি রিয়াল। শেষ শটটা নিয়েছিলেন বেনজেমা, লোপেজ তখনও  ছিলেন সতর্ক। তবে কাসেমিরোর গোলে তেমন কিছুই করার ছিল না লোপেজের। শেষ পর্যন্ত বেনজেমার 'চালাকি'টাই হয়ত ব্যবধান গড়ে দিল ম্যাচে, সঙ্গে শিরোপার দৌড়েও। এই নিয়ে লা লিগায় ১৭ গোলের সঙ্গে বেনজেমার অ্যাসিস্ট দাঁড়াল ১০টি। দুই অঙ্কের ঘরে গোল আর অ্যাসিস্ট করা লা লিগার তৃতীয় ফুটবলার এখন বেনজেমা। (লিওনেল মেসি ২২ গোল ও ২১ অ্যাসিস্ট , লুইস সুয়ারেজ ১৬ গোল, ১১অ্যাসিস্ট)। 

    লা লিগায় শুক্রবার গেটাফের বিপক্ষে পরের ম্যাচে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। তার অবশ্য অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলতে হবে বার্সেলোনাকে। এক ম্যাচের জন্য হলেও আপাতত অ্যাটলেটিকোর ভালো জন্য প্রার্থনা করবে রিয়াল।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন