• লা লিগা
  • " />

     

    ৩ পেনাল্টির ম্যাচে অ্যাটলেটিকোর কাছে ২ পয়েন্ট হারালো বার্সা

    ফুলটাইম
    বার্সেলোনা ২-২ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ


    আরও একবার দুই দফায় এগিয়ে গিয়েও ড্র করলো বার্সেলোনা। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপার সঙ্গে তাই বার্সার দূরত্ব বাড়ল আরেকটু। কিন্তু ম্যাচে শেষ পর্যন্ত আরও একবার বিতর্ক উস্কে দিয়েছে রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্ত। ম্যাচে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছেন মোট ৩ বার। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের পাওয়া শেষ পেনাল্টিটাই ম্যাচে ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। সাউল নিগুয়েজ প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোল করে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন দলকে।



    ম্যাচের ৫০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে পানেনকা শটে ক্যারিয়ারের ৭০০তম গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন মেসি। ওই গোলে বার্সাও এগিয়ে গিয়েছিল ২-১ ব্যবধানে। এর আগে বার্সার এগিয়ে যাওয়ার সূত্রও ছিল মেসি। তার কর্নার থেকেই ডিয়েগো কস্তা আত্মঘাতী গোল করেছিলেন। সেই লিড অবশ্য ৮ মিনিটও টেকেনি।  ১৯ মিনিটে ইয়ানিক কারাস্কোকে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেছিলেন আর্তুরো ভিদাল। সেখান থেকেই ম্যাচে প্রথম পেনাল্টি বাঁশি বাজান রেফারি।

    প্রথম কিকে ডিয়েগো কস্তার শট ঠেকিয়েও দিয়েছিলেন মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান। কিন্তু কস্তা শট করার সময় স্টেগানের পা ছিল গোললাইনের বাইরে। ভিএআর চেকের পর তাই রেফারি ওই কিক বাতিল করে আবার পুনরায় কিক নেওয়ার সংকেত দেন। এবার কস্তার বদলে কিক নিতে আসেন সাউল। স্টেগানকে ভুল দিকে পাঠিয়ে ডানদিকের বটম কর্নারে বল জড়ান অ্যাটলেটিকো মিডফিল্ডার।

    ৬২ মিনিটে দ্বিতীয় পেনাল্টিও একই দিকে, একইভাবে মেরেছিলেন সাউল। সে দফায় স্টেগান বলের নাগাল পেলেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। এবারও পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছিলেন কারাস্কো। বক্সের ভেতর ঢোকার সময় অবশ্য নেলসন সেমেদো তাকে কতোখানি টাচ করেছিলেন সেটি নিয়েই যত বিতর্ক।

    ৩৩ ম্যাচ শেষে লা লিগায় বার্সেলোনার পয়েন্ট এখন ৭০। রিয়াল মাদ্রিদের ৭১ পয়েন্ট নিয়ে আছে সবার ওপরে, তাদের হাতে আছে আরও এক ম্যাচ বেশি।

    ৩ পেনাল্টির ম্যাচ, দফায় দফায় রোমাঞ্চ
    ইয়ানিক কারাস্কো আর ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে পুরো ম্যাচে দৌড়ের ওপর রেখেছিলেন বার্সা ডিফেন্ডারদের। তবে কারাস্কোই ক্ষতিটা করেছেন বেশি। প্রথম যেবার তিনি বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন সেবারই বিপদ ডেকে এনেছেন বার্সার। জেরার্ড পিকেকে সাইডলাইনে ছিটকে ফেলে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন। ইনসাইড রান নেওয়ার সময় ভিদাল তাকে বাধা দিয়ে পেনাল্টি দিয়েছেন অ্যাটলেটিকোকে। কস্তার প্রথম কিক রেফারি বাতিল করার পর বার্সা খেলোয়াড়রা লম্বা সময় ধরে প্রতিবাদ করেছেন। অবশ্য হাইলাইটস দেখার সুযোগ থাকলে টু শব্দটিও হয়ত করতেন না তারা।

    ৫০ মিনিটে নেলসন সেমেদো ছিলেন বক্সের ঠিক ডানপাশে। ফিলিপে বল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে আঘাত করেছিলেন সেমেদোর পায়ে। পরে মেসি ইয়ান অবলাককে অবাক করে দিয়ে মেসি নিয়েছেন পানেনকা কিক। অবশ্য একেবারে ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে সোজাসুজি মারেননি মেসি। অবলাক ঝাঁপ দিয়েছিলেন উলটোদিকে।

    অ্যাটলেটিকোর পাওয়া ৬২ মিনিটের পেনাল্টিতেও ছিলেন সেমেদো। সামনে থাকা কারাস্কোর হাঁটুতে আলতো টাচ লেগেছিল পর্তুগজিজ ডিফেন্ডারের। কারাস্কো এরপর নিজের দুই পায়ে বাড়ি খেয়ে পড়ে গেছেন বক্সে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পেনাল্টি কিকই রিভিউ হয়েছে ভিএআরে। তবে লা লিগায় সাম্প্রতিক সময়ের মতো এবারও রেফারিকে আর হাইলাইটস দেখে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ ভিএআর দেয়নি।

    স্টেগান অবশ্য নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। সাউলের শট দুই হাতেই ধরেছিলেন তিনি। তবে নিজের শরীর সময়মতো অতোখানি প্রশস্ত করতে পারেননি। সাউলের শটেও গতি ছিল। স্টেগানের হাত ফস্কে সেটা পরে গোলে পরিণত হয়েছে।

    কস্তার কষ্ট
    আলভারো মোরাতা, হোয়াও ফিলিক্স দুইজনই দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমেছেন। দারুণ ফর্মে থাকা ডিয়েগো কস্তার ওপরই ভরসা করেছিলেন ডিয়েগো সিমিওনে। কস্তার শুরুটা মন্দ ছিল না। শুরুর দিকে একটি সুযোগ এসেছিল তার কাছে। সেটপিস থেকে অবশ্য পা, মাথা কোনোটাই ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। নইলে বার্সাকে তখনই কাঁপিয়ে দিতে পারত অ্যাটলেটিকো।

    কস্তার পরের সময়টা এরপর মোটেই ভালো যায়নি। বাইলাইনের কাছ থেকে মেসি ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন কাছের পোস্ট বরাবর। সেই বল কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়েও কস্তা। কিন্তু ওই কর্নার থেকেই করলেন আত্মঘাতী গোল। মেসি এবার কর্নার কিকও নিয়েছিলেন কাছের পোস্টে। কস্তার দুই পায়ের ফাঁকে বল লেগে বল সোজা চলে যায় অ্যাটলেটিকো জালে। 

    এরপরও অবশ্য ভাগ্য ফেরানোর সুযোগ ছিল কস্তার। ৫৬ মিনিটে ডানদিক থেকে আসা ক্রসে হেড করলেও সেটা গেছে ওপর দিয়ে। কস্তা পরে মাঠ ছেড়েছেন বদলি হয়ে।

    মেসির ৭০০ এর রাতে হতাশা
    ৬৯৯ গোল নিয়ে ৪ ম্যাচ কাটিয়ে দিয়েছিলেন মেসি। অনেকটা ধারার বিপরীতেই। ৭০০ তম গোলটা করলেন দারুণ ভঙ্গিতে। অনেকের মতে লা লিগার সঙ্গে বিশ্বেরও সেরা গোলরক্ষক ইয়ান অবলাক। সমতায় থাকা ম্যাচ, শিরোপার সমীকরণ- সবকিছু মাথায় নিয়ে পাগলাটে পানেনকায় গোলখরা কাটিয়েছেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ৭২৮ ম্যাচে  তার গোল দাঁড়িয়েছে ৬৩০টি। বাকিগুলো আর্জেন্টিনার হয়ে ১৩৮ ম্যাচে।

    এমন রাতটা অবশ্য মোটেই মনে রাখার মতো হয়নি মেসির। প্রথমার্ধে মেসি একাই ৫ বার অ্যাটলেটিকোর গোলে শট নিয়েছিলেন। এর ভেতর একবার বক্সের কোণা থেকে বারপোস্টেও বল লাগিয়েছিলেন। বিপরীতে ওই সময়ে অ্যাটলেটিকো স্টেগান বরাবর শট নিতে পেরেছিল মোটে একবার। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেলেও আর অ্যাটলেটিকোর লাগাম টেনে ধরতে পারেনি বার্সাও। মেসিও এরপর ঝিমিয়ে পড়েছেন। আরও একবার দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। সম্ভবত শিরোপা স্বপ্নটাও এই ম্যাচেই জলাঞ্জলি দিয়ে আসলো তার দল।

    প্রশ্নবিদ্ধ সেতিয়েনের সিদ্ধান্ত
    ৪-৪-২ ফর্মেশনে মেসি আর সুয়ারেজ ছিলেন ফরোয়ার্ড লাইনে। মিডফিল্ড ডায়মন্ডের মাথায় ছিলেন রিকি পুজ। তরুণ মিডফিল্ডার নিজের কাজটা করেছেন ভালোভাবেই। 

    ভিদাল অবশ্য বক্স টু বক্স ভূমিকায় থেকেও প্রায়ই সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দলকে। দ্বিতীয়ার্ধে ভালো দুটো সুযোগ ভিদাল কাজে লাগাতে পারলে হয়ত ম্যাচের ভাগ্য অন্যরকম হতে পারত। যদিও এসব ‘যদি, কিন্তুর’ চেয়ে আপাতত বার্সার কোচের সিদ্ধান্তগুলো চোখে লাগার কথা বেশি।

    সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে অ্যান্টোয়ান গ্রিযমানকে বেঞ্চে রেখেছিলেন সেতিয়েন। আর দ্বিতীয় দফায় অ্যাটলেটিকো ম্যাচে ফেরার পর আরও ২৮ মিনিট সময় ছিল বার্সার হাতে। সেই গ্রিযমানকে সেতিয়েন মাঠে নামালেন নির্ধারিত সময় পার করে। সুয়ারেজ পুরোটা সময় ছিলেন দিশেহারা, আরও একবার তাকেই পুরো ম্যাচ খেলিয়েছেন সেতিয়েন।

    সেতিয়েন প্রথম বদলিটা করিয়েছিলেন ৬৩ মিনিটে। রাকিটিচকে বসিয়ে তখন মাঠে নেমেছিলেন সার্জি রবার্তো। আদতে তাতে বার্সার মিডফিল্ডে গতিও বাড়েনি, আক্রমণেও তাই কোনো প্রভাব পড়েনি। অ্যাটলেটিকো ন্যারো ডিফেন্ডিং ভাঙতে দুই প্রান্তে যে ধরনের আক্রমণ গড়ার দরকার ছিল বার্সার, সেটাও তারা পারেনি।  এরপরও দ্বিতীয় বদলি করাতে সেতিয়েন সময় নিয়েছেন ৮৫ মিনিট পর্যন্ত। তখন মাঠে নেমেছেন আনসু ফাতি। অথচ তার আগেই নেতিয়ে পড়েছিল বার্সার খেলা।

    খেলোয়াড়দের সেতিয়েনের ওপর থেকে উঠে যাওয়ার গঞ্জন শোনা যাচ্ছে বেশকিছুদিন থেকে। এই ম্যাচের পর তার আসন হয়ে গেল আরও নড়বড়ে।

    সিমিওনের স্বস্তি
    যোগ করা সময়ে টের স্টেগান বাধা না হয়ে দাঁড়ালে ম্যাচটা জিতেই ফিরতে পারত আঅ্যাটলেটিকো। লা লিগায় তাই  বার্সেলোনাকে হারাতে না পারার রেকর্ডটা আরও লম্বা হয়েছে ডিয়েগো সিমিওনের।  তবে এই প্রথম তার দল একের বেশি দুই গোল করতে পারলো বার্সার বিপক্ষে। জানুয়ারিতে সুপার কাপে বার্সেলোনাকে হারানোর পর এর্নেস্তো ভালভার্দের বিদায়ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছিলেন সিমিওনে। এই ফলের পর সেতিয়েনও সরে গেলে অবাক হওয়ার অবকাশ কমই। জুনে লা লিগা ফেরার পর ৬ ম্যাচে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ড্র করেছে সিমিওনের অ্যাটলেটিকো। এক লাফে পয়েন্ট টেবিলের তিনেও উঠে এসেছে তারা। এই ড্র-টাও তাই সিমিওনের মন্দ ঠেকার কথা নয়।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন