• সিরি আ
  • " />

     

    ফ্রি-কিকের ফাড়া কাটিয়ে ৬০ বছর পুরোনো রেকর্ড ছুঁলেন রোনালদো

    ফুলটাইম

    জুভেন্টাস ৪-১ তোরিনো


    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকতেই নিজেকে ফ্রি-কিক স্পেশালিস্টে পরিণত করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদে গিয়েও অব্যাহত ছিল ধারা, ৯ বছরে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেছিলেন ৩৩ বার। কিন্তু জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার পর ফ্রি-কিক থেকে গোল করা যেন ভুলেই গেলেন একরকম। ৪২ বার ব্যর্থ হয়ে ৪৩ তম বারে এসে সেই খরা কেটেছে রোনালদোর। তুরিন ডার্বিতে ম্যাচের ৬১ মিনিটে তোরিনোর বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পেয়েছিল জুভেন্টাস। নাকলবল কিকে সেখান থেকেই সরাসরি জালে বল জড়িয়ে গোল করেছেন রোনালদো। ২০১৭ সালে ক্লাব বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ক্লাবের হয়ে ফ্রি-কিক থেকে গোল পেয়েছে তিনি।


    এর আগে পাউলো দিবালা আর হুয়ান কুয়াদ্রাদোর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে গোল করে তোরিনোকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন মারিও বোলাত্তি। ৬১ মিনিটে রোনালদোর গোল জয়ের পথে এগিয়ে দেয় জুভেন্টাসকে। পরে শেষদিকে আত্মঘাতী গোল করে তোরিনো জুভেন্টাসের জয়ের পথটা সহজ করেছে আরও। দুইয়ে থাকা লাৎসিও মিলানের কাছে হেরে যাওয়ায় শীর্ষস্থানে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে জুভেন্টাস। 

    তোরিনো ডার্বিতে অবশ্য সব আলো কেড়ে নিয়েছেন রোনালদোই। গত দুই বছর ১ মাস সময়ে পর্তুগালের হয়ে দুইবার ফ্রি-কিক থেকে গোল করেছিলেন তিনি। তবে জুভেন্টাসের হয়ে ফ্রি-কিকে ছিলেন একদম সাদামাটা। এর ভেতর এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে ফ্রি-কিক খরা কাটানোর কাছাকাছি গিয়েছিলেন। তবে অ্যারন রামসের টোকায় আর গোল পাওয়া হয়নি রোনালদোর।

    ফাড়া কাটানোর গোলে ৫৯ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন রোনালদো। সিরি আ-তে সবশেষ ১৬ ম্যাচ গোল বা অ্যাসিস্ট পেয়েছেন তিনি। ডার্বি দেল্লা মোলে গোলের পর এই মৌসুমে লিগে রোনালদোর গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫। জুভেন্টাসের কোনো খেলোয়াড় এক মৌসুমে লিগে এতোগুলো গোল করেছিলেন সবশেষ ১৯৬০-৬১ মৌসুমে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী ওমর সিভোরির সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন রোনালদো। লিগে এখনও জুভেন্টাসের বাকি আরও ৮ ম্যাচ। ৩৫ বছর বয়সী যেভাবে ছুটছেন তাতে নাটকীয় কিছু না হলে সিভোরির রেকর্ডটাও ভেঙে দেওয়ার কথা তার।

    রোনালদোর মতো একই ধারায় ছুটছেন দিবালাও। জুনে সিরি আ- ফেরার পর এই জুটি টানা ৪ ম্যাচেই গোল পেয়েছেন। আগের দুই ম্যাচের মতো এদিনও জুভেন্টাসকে এগিয়ে দেওয়ার কাজটা করেছেন দিবালা। এবার অবশ্য গোল করেছেন ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই। বক্সের ভেতর তোরিনো ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বাম পায়ের আড়াআড়ি নিচু শটে দিবালা বল জড়িয়েছিলেন দূরের পোস্টে।

    এরপর ২৯ মিনিটে রোনালদোর পাস থেকে কুয়াদ্রাদো ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বিরতির ঠিক আগে ম্যাথিয়াস ডি লিটের হাতে বল লাগলে লম্বা ভিএআর চেকের পর রেফারিকে যেতে হয় হাইলাইটস দেখতে। তিনিও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলে বোলাত্তি স্পটকিক থেকে এক গোল শোধ করেন। পাওলো মালদিনিকে টপকে সিরি আর ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (৬৪৮) খেলার রেকর্ডের দিনে তাই ক্লিনশিট জোটেনি জিয়ানলুজি বুফনের কপালে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন