• সিরি আ
  • " />

     

    ০-২ থেকে ৪-২ : রোনালদোকে হতাশ করে হাসলেন ইব্রাহিমোভিচরা

    ফুলটাইম
    এসি মিলান ৪-২ জুভেন্টাস


    গোলশূন্য প্রথমার্ধ। বিরতির পর ১০ মিনিট না যেতেই আদ্রিয়ান রাবিও ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলে দুই গোলের লিডে জুভেন্টাস। এরপর ৫ মিনিটের ব্যবধানে পালটে গেল সবকিছু। ইব্রাহিমোভিচ পেনাল্টি থেকে গোল করে এক গোল শোধ দিয়েছিলেন, পরে জুভেন্টাসকে গুণে গুণে আরও ৩ গোল দিয়েছে মিলান। ৩৫ বছর বয়সী রোনালদো আর ৩৮ বছর বয়সী ইব্রাহিমোভিচের রোমাঞ্চকর ম্যাচে তাই দুর্দান্ত এক ফেরায় হেসেছেন পরেরজনই।

    মৌসুমের চতুর্থ হারের পরও অবশ্য বিয়াঙ্কোনেরিদের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকা লাৎসিও টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে। তাই শীর্ষস্থানে ৭ পয়েন্টের লিডটা আগের মতোই আছে জুভেন্টাসের।


    দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে করা শটে দারুণ এক সলো  গোল করে রাবিও এগিয়ে দিয়েছিলেন জুভেন্টাসকে। ৬ মিনিট পর রোনালদো রোনালদোর কাজটাই করেছেন। হুয়ান কুয়াদ্রাদোর লম্বা পাস ধরে বক্সের সামনে থেকে ডান পায়ের শটে টানা পঞ্চম ম্যাচে গোল করেছেন। তাতে লিগের ২৫ ম্যাচে রোনালদোর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬টি। অবশ্য ৩৫ বছর বয়সী পর্তুগিজের দুর্দান্ত ফর্মও এরপর জুভেন্টাসের জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

    ম্যাড়মেড়ে প্রথমার্ধে রোনালদোরাই অবশ্য বেশি ভয়ঙ্কর ছিলেন গোলের সামনে। পাউলো দিবালা, ম্যাথিয়াস ডি লিটরা ছিলেন না নিষেধাজ্ঞার। গঞ্জালো হিগুয়াইন ও  ড্যানিয়েল রুগানিরা নিয়েছিলেন তাদের জায়গা। দুইজনের অভাবই পরে টের পেয়েছে জুভেন্টাস। অবশ্য লিওনার্দো বনুচ্চি, রোনালদোরা গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন বিরতির আগ পর্যন্ত। আর দুই গোলের লিড পাওয়ার পর তো জুভেন্টাসের জয়টাই প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল।

    ৬২ মিনিটে মিলানের কপাল খুলেছে এক পেনাল্টি থেকে। আন্তে রেবিচের মারা বল বক্সের ভেতর লেগেছিল বনুচ্চির হাতে। ভিএআর চেকের পর মাঠের বাইরে গিয়ে হাইলাইটস দেখে রেফারি দিয়েছেন পেনাল্টির বাঁশি। ইব্রাহিমোভিচ ভোজায়িক সেজনিকে পরাস্ত করে মিলানকে লাইফলাইন এনে দেন। কিন্তু এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে জুভেন্টাসের রক্ষণ।  

    ৪ মিনিট পর ইব্রাহিমোভিচের বক্সের ভেতর থেকে দেওয়া পাস থেকে ফ্রাঙ্ক কেসি গোল করে মিলানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। বিস্ময় সেখানেও থামেনি, পরের মিনিটেই বদলি রাফায়েল লিয়াও আরেক গোল করে তাক লাগিয়ে দেন। সান সিরোতে এমন রোমাঞ্চের রাতে দলের জয় দেখেও সবচেয়ে বেশি আফসোস করেছেন রোসোনেরি সমর্থকেরাই।

    মিলান সমর্থকদের আরেকবার আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন আন্তে রেবিচ। অ্যালেক্স সান্দ্রো ভুলটা করেছিলেন। চোট থেকে ফিরে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন মিলানের বিপক্ষে। রক্ষণে বাম প্রান্ত থেকে বিপদজনক ডায়াগোনাল পাস দিতে গিয়ে সান্দ্রো বক্সের ভেতর বল তুলে দেন মিলানের কাছেই। বোনাভেনতুরার স্কয়ার পাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এরপর দারুণ ইম্প্রোভাইজেশনে চতুর্থ গোল করেন রেবিচ। জুভেন্টাসের বিপক্ষে সবশেষ এক ম্যাচে মিলান ৪ গোল করতে পেরেছিল ১৯৮৯ সালে। ৩১ বছর পর এমন জাদুকরী রাতে আসলে মিলানও মিস করেছে সমর্থকদের। এই ম্যাচের উত্তেজনা নইলে বেড়ে যেতে পারত আরও বহুগুণ।

    ম্যাচের আগে সব আলো ছিল রোনালদো আর ইব্রাহিমোভিচকে ঘিরেই। দুইজনই গোল করেছেন, তবে ম্যাচ শেষে উদযাপন করতে পেরেছেন ইব্রাহিমোভিচই। আগের ম্যাচে লাৎসিওকে ৩-০ গোলে হারানোর পর লিগ লিডারদের হারিয়ে দিয়ে মিলান উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন