• লা লিগা
  • " />

     

    ট্রফি হাজির ভালদেবেবাসে, রামোসদের ছোঁয়ার অপেক্ষায়

    লা লিগার শেষ দুই ম্যাচ ড্র করলেই হয় রিয়াল মাদ্রিদের। জিনেদিন জিদান অবশ্য ওসব ড্রয়ের ধার ধারছেন না। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জিততে চান, এর আগে নিজেদের চ্যাম্পিয়ন বলেও দাবি করতে চান না রিয়াল কোচ। জিদানের এই মানসিকতা দুর্দান্ত রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিচ্ছবি।

    রাতে ভিয়রিয়ালকে হারালেই দুই মৌসুম পর আরও একবার লা লিগার শিরোপা ঘরে তুলবে। শিরোপা নম্বর ৩৪। রিয়াল সবশেষ যেবার লিগ জিতেছিল, সেবারও এই জিদানই ছিলেন ডাগআউটে। যদিও সেই দল আর এই দলের পার্থক্যটা চোখে পড়ার মতো। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোতে ভর করে অনেকটাই উতরে গিয়েছিল রিয়াল। এবারের দলটা জিদানের রিয়াল, রামোসের রিয়াল, বেনজেমার রিয়াল, মদ্রিচের রিয়াল ইত্যাদি ইত্যাদি।

    লিগের ২৬ ম্যাচ শেষে মার্চে স্থগিত হয়ে যাওয়ার সময় রিয়াল মাদ্রিদ পিছিয়ে ছিল দুই পয়েন্টে। মৌসুমের শুরুতেও যেমন রিয়াল মাদ্রিদ শিরোপার জন্য ফেভারিট ছিল না, ওই দুই-আড়াই মাসেও সমীকরণ বদলায়নি। বদলেছে জুনে আবার লা লিগা ফেরার পর। অথচ তখন শিরোপাভাগ্য রিয়ালের হাতেও ছিল না। সেই রিয়াল এদিক-সেদিক ফিরে তাকায়নি। একটানা ৯ ম্যাচ জেতা তো চাট্টিখানি কথা নয়, তাও আবার অমন বিবরিত পর।


    বার্সেলোনা কোচ কিকে সেতিয়েনও সে কথাই বলছেন। তার মতে কৃতিত্বের পুরোটাই রিয়ালেরই পাওনা, "আমার মনে হয়না ৩টি ম্যাচ ড্র করে আমরা খুব একটা খারাপ করেছি। আমি বরং কৃতিত্বটা রিয়াল মাদ্রিদকেই দেব বেশি। লিগ আবার শুরু হওয়ার পর টানা ৯ ম্যাচ জিতেছে তারা।" 

    শুক্রবার রাতে দুই দলই মাঠে নামবে একই সময়ে। রিয়ালের প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়াল, বার্সার ওসাসুনা। বার্সা জিতলেও ম্যাচ শেষে হয়ত রাজ্যের অন্ধকার ভর করবে ন্যু ক্যাম্পে। ভিয়রিয়ালকে হারালেই তো চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে রিয়াল। আর যে গতিতে জিদানের দল ছুটছে তাতে থামাথামির নাম-গন্ধ তো নেই!

    লা লিগার শিরোপাটাও তাই অপেক্ষা করছে ভালদেবেবাসে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে আপাতত ছুটি দিয়েছে রিয়াল। আলফ্রেড ডি স্টেফানো ট্রেনিংগ্রাউন্ডেই তাই শিরোপা উঁচিয়ে ধরবেন সার্জিও রামোস। ভিয়ারিয়ালকে শুধু হারাতে হবে রিয়ালের।

    টানা ৩ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেও জিদান আক্ষেপ করেছিলেন লিগ নিয়ে। তার আগের  আড়াই বছরের আমলে রিয়াল লিগ জিতেছিল একবার। জিদান জানেন রিয়ালের মতো ক্লাবের জন্য সেটা যথেষ্ট নয়। তাই তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেননি তিনি। ২০১৯ এ সবাইকে অনেকটা চমকে দিয়েই আবার জিদান ফিরলেন রিয়ালের ডাগআউটে। ততোদিনে লিগ থেকে ছিটকে গেছে রিয়াল। জিদানের মনোযোগ ছিল পরের মৌসুমেই।

    এই মৌসুমের শুরুটা যে খুব আহামরি ছিল তাও না। সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে উড়ে যাওয়ার পর জিদান বলেছিলেন আরও কিছুদিন সময় লাগবে তার। ডিসেম্বর নাগাদ পিএসজির ফিরতি লেগ আসতে আসতে জিদানের গোছানোর কার্যক্রম অনেকটাই পরিপক্কতা লাভ করলো। পিএসজির ম্যাচেই রিয়াল ইঙ্গিত দিল কিছু একটা হতে চলেছে। জানুয়ারি স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পর, মার্চে এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনাকে হারিয়ে বড় এক ধাপ এগুলো রিয়াল। কিন্তু বাগড়া বাঁধালো পরের ম্যাচ। রিয়াল বেটিসের কাছে হেরে আবার শীর্ষস্থান হাতছাড়া করলো রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর তো সবকিছুই থেমে গেল।

    ধারাবাহিকতার অভাব ছিল রিয়ালের। সেই অভাব  জিদান পুষিয়ে নিলেন গত কয়দিনে। লিগ জিততে হলে আপনাকে ধারাবাহিক হতেই হবে। ধারাবাহিকতা কী সেই মোটামুটি সেই শিক্ষা গত দেড় মাসে বার্সাকে দিয়ে দিয়েছে জিদানের রিয়াল। তাই শিরোপা হাতের মুঠোয় রেখেও জিদান বলছেন ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচটাই নাকি মৌসুমের সবচেয়ে কঠিন হতে যাচ্ছে তাদের জন্য। একই কথা বলেছিলেন শেষ ম্যাচের আগেও, "আমার মনে হয় রিয়াল মাদ্রিদের সাম্পতিক সময়ে খেলা সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে।" 

    আদতে সবাই জানতেন লিগ আবার শুরু হওয়ার পর আর কোনো সহজ ম্যাচ নেই। রিয়ালও শেষ ৯ ম্যাচ হেসে-খেলে জিতেছে এমন দাবি করবেন না খোদ রিয়াল সমর্থকেরাও। কিন্তু ওটুকুই দরকার ছিল। সময়মতো গোল করতে পারা, গোল না খাওয়া, প্রয়োজনে লাগাম টেনে ধরা- এর সবগুলোর প্রতিফলন ঘটিয়েই রিয়াল এখন শিরোপা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

    স্যার অ্যালেক ফার্গুসন বলেছিলেন, শিরোপা জিততে লাগে রক্ষণ। লিগে বার্সার চেয়ে ২৬ গোল কম করেছে রিয়াল। কিন্তু গোল হজমের দিকে তাকান। বার্সার ৩৬ এর বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদ গোল খেয়েছে মাত্র ২২ বার! 

    রেকর্ড গড়ে দলে ভেড়ানো এডেন হ্যাজার্ডও পুরো মৌসুম থাকলেন যাওয়া-আসার ভেতর। তাকে ছাড়াও জিদান খেল দেখালেন স্কোয়াড রোটেশনের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে। এই দলের সবাই গোল করতে জানেন। মিডফিল্ডাররাই জিদানকে দিয়েছেন ১৫টি গোল। লুকা মদ্রিচ আর সার্জিও রামোস ৩৪ বছর বয়সে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণের সবটুকু ঢেলে দিয়েছেন। বেনজেমা তো ১৯ গোল নিয়ে লিওনেল মেসির পিছু ধরছেন লিগের গোল্ডের বুটের। থিবো কোর্তোয়া প্রথম ৪ ম্যাচে খেয়েছিলেন ৬ গোল, পরের ২৯ ম্যাচে জালের পেছনে তাকে বল কুড়াতে যেতে হয়েছে মাত্র ১৩ বার। ফেরার এমন গল্প আরও আছে এই দলে।

    তবে জিদানের ফেরার কাছে সবকিছুই সাদামাটা। এই দলটা তো দেড় বছর আগেও ছিল নৌকাবিহীন মাঝি। তার আগমনেই তো এতোকিছু। রোনালদো যাওয়ার পর প্রথম মৌসুমে অমন দুর্দশা দেখে, কে ভেবেছিল দুই বছরের মাথায় এই দল লিগ জিততে পারে? জিদান সেই কাজটাই করে দেখিয়েছেন।

    সিবেলেস ফাউন্টেনে সমর্থকদের জড়ো হতে মানা করে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমর্থকেরা আদৌ সেই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করবেন কি না কে জানে। রামোসও নিয়ম মেনে শিরোপা হাতে সিবেলেসের গায়ে চড়ে বসবেন কি না তারও নিশ্চয়তা নেই। তবে এটুকু তো নিশ্চিত, স্পেনের এই বছরটা রিয়াল মাদ্রিদেরই।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন