• বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আইসোলেশন : ৭ আগস্ট থেকে যেভাবে ফুটবলে ফেরার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ

    বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের  শেষ ৪ ম্যাচের জন্য আগস্টের ৭ তারিখ থেকে ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির সভার পর এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাফুফে। করোনা সংক্রমণের পর অক্টোবরের ৮ তারিখ প্রথমবারের মতো মাঠে নামার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এর আগে অন্তত ৬ সপ্তাহের পূর্ণাঙ্গ ট্রেনিং ক্যাম্প চালু রাখতে চায় বাফুফে।  

    কোথায়, কীভাবে হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প?
    বাফুফে  ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন ক্যাম্পের জন্য গাজীপুরের সারা রিসোর্টকে বাছাই করেছেন তারা। তবে ঠিক কতোদিন ওই রিসোর্টে থেকেই বাংলাদেশের অনুশীলনের চলবে সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বাফুফে।

    ৭ তারিখ ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগদানের আগে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে যোগদানের পর প্রত্যেক খেলোয়াড় ও স্টাফদের আবারও কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো হবে বাফুফের পক্ষ থেকে। এই পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড টিমের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কাজী নাবিল। 

    ক্যাম্পে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খেলোয়াড়দের ৪ থেকে ৫ জনের ছোট ছোট দলে ভাগ করে আলাদা করে দেওয়া হবে। এরপর 'গ্রুপ আইসোলেশনের' ১৪ দিন শেষে পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পাবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মাচারিদেরও।

    ইউরোপিয়ান লিগ গুলোতে জুনে আবার খেলা শুরুর আগে মোট ৪টি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছিল। দলগত ট্রেনিং শুরুর আগে বাংলাদেশেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করবে কি না সেটি অবশ্য নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি বাফুফে কর্তারা। তবে তারা বলছে, এএফসি কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রেনিং ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে চান তারা। 


    করোনা পজিটিভ হলে কী করবেন খেলোয়াড়রা?
    ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোভিড-১৯ পরীক্ষা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দেবে কি না সে প্রশ্নের জবাবে বাফুফে কর্তা কাজী নাবিল বলেছেন, "ক্যাম্পে আসার আগে খেলোয়াড়রা পরীক্ষা করালে তাদের অবস্থা বোঝা যাবে। এরপর কেউ যদি পজিটিভও হয়, তাহলে আমরা তাকে ক্যাম্পে আসতে বারণ করব।"

    কোচ ও কোচিং স্টাফরা আসবেন কবে?
    খেলোয়াড়দের গ্রুপ আইসোলেশন চলার সময় দেশে ফেরার কথা হেড কোচ জেমি ডে ও তার কোচিং স্টাফদের। রিসোর্টে যোগ দেওয়ার পর তাদেরকেও যেতে হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভেতর দিয়ে। এরপর কিছুদিন আইসোলেশনেও থাকার কথা রয়েছে তাদের।   

    বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কোথায়?
    ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচটি হতে পারে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। যদিও এএফসির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ৫ দিন পর কাতারের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যাবে বাংলাদেশ।

    নভেম্বরে শেষ দুইটি ম্যাচই ঘরের মাঠে খেলার কথা জেমি ডের দলের। ভারত ও ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ দুইটি যথাক্রমে ১২ ও ১৭ নভেম্বর।


    আরও পড়ুন : ফাঁকা মাঠে খেলা হলে সমর্থকদের মিস করবেন জেমি ডে



    দলে সুযোগ পাচ্ছেন কারা?
    ক্যাম্পের জন্য ৩০ সদস্যের বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হতে পারে। তাতে চমক হিসেবে আসছে কাজী তারিকের নাম। ফিনল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার গত মৌসুমেই বসুন্ধরা কিংসে নাম লিখিয়েছিলেন। বাফুফের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাবিথ আউইয়াল নিশ্চিত করেছেন, ৩০ সদস্যের দলে রয়েছেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী এই ফুটবলার। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও তারিক দুইজনই এখন রয়েছেন দেশের বাইরে। ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু হলে সময়মতো যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে দুইজনেরই।

    তারিককে দলে নেওয়ার ব্যাপারে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে।
     

    অপেক্ষা সরকারি অনুমোদনের
    বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি কথা মৌখিকভাবে জানানো হলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়নি। কাজী নাবিল বলছেন, খুব শীঘ্রই ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি প্রেরণ করবেন তারা।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন