• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    শেষদিনের নাটকের অপেক্ষায় প্রিমিয়ার লিগ

    চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হয়ে গেছে বহু আগে, লিভারপুল শিরোপাও ঘরে তুলেছে। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে এরপরও জমা আছে রোমাঞ্চ। লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটি সবার ওপরে, এই দুই দলের ধারে কাছে কেউ নেই। কিন্তু এর নিচের লড়াইগুলো হাডাহাড্ডি। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ দুইটি স্পটে কোন ক্লাব জায়গা করে নেবে সেটিও নির্ধারণ হওয়া বাকি। বাকি আছে রেলিগেশনের দুই দলের দুর্দশা বরণ করে নেওয়ার মুহুর্তও। সবমিলিয়ে একই সময় শুরু হতে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগের শেষ রাউন্ডের ১০ ম্যাচের জন্য তোলা আছে বহু নাটক।

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লেস্টার সিটি না চেলসি?
    জানুয়ারির শেষদিকে শীর্ষ চারের ধারে কাছে ছিল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ব্রুনো ফার্নান্দেজ দলে আসার পর ইউনাইটেডের চেহারা ফিরেছে। তারাই এখন পয়েন্ট টেবিলের তিনে। সবচেয়ে সহজ কাজটাও বোধ হয় তাদের। রেড ডেভিলদের লেস্টারের সঙ্গে করতে হবে ড্র। বেন চিলওয়েল, জেমস ম্যাডিসন, রিকার্ডো পেরেরা, সয়ঞ্চুরা দলে নেই। লেস্টারও গত জুনে লিগ ফেরার পর ৬ ম্যাচে জিতেছে মাত্র ২ বার। এমন লেস্টারের বিপক্ষে হার এড়াতে না পারলে ইউনাইটেড কোচ ওলে গানার সোলশারের অবস্থা হবে তীরে এসে তরী ডোবানোর মতো। নিজের পদটাও নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।

    হেরে গেলে সমীকরণ কঠিন ইউনাইটেডের জন্য। চেলসি আর উলভসের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তখন তাদের। উলভস চেলসির বিপক্ষে খেলবে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপা লিগের জায়গা নিশ্চিত করতে। উলভস চেলসিকে হারিয়ে দিলে নিজেদের ম্যাচে হারলেও উঠে যাবে ইউনাইটেড। চেলসির জন্য কাজটা তাই সহজ নয় মোটেও।


    অবশ্য চেলসির দরকার ১ পয়েন্ট। উলভসের সঙ্গে ড্র করতে পারলেই অন্য ম্যাচে ফল যাই হোক না কেন চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেবে চেলসি। 

    লেস্টার সিটি মার্চ পর্যন্ত দুর্দান্ত গতিতে ছুটছিল। লকডাউনটা তাদের জন্য আর আশীর্বাদ হয়ে আসেনি। শেষ ম্যাচে টটেনহামের কাছে হারের পর ২০১৬-১৭ মৌসুমের পর আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন বড় আঘাত পেয়েছিল। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিজেদের ম্যাচে করেছিল ড্র, আর চেলসি হেরেছিল লিভারপুলের কাছে। সুযোগটাই তাই এখনও আছে লেস্টার সিটির সামনে। দরকার একটি জয়। তাদের জন্য ম্যাচটা ফাইনালের মতোই। দলের চোটের সমস্যা থাকলেও টটেনহামের সঙ্গে খেলার প্রায় ৮ দিন পরে মাঠে নামবে লেস্টার। আর ইউনাইটেড মাঠে নামবে চারদিনের মাথায়। স্কোয়াড ডেপথে ইউনাইটেডের সঙ্গে তুলনাই হয় না লেস্টারের। তবে ফক্সরা এই বাড়তি বিশ্রামটুকুই কাজে লাগাতে চাইবে।

    নরউইচের সঙ্গী হবে কারা?
    ৫০ সপ্তাহ আগে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিল নরউইচ। ঝড়ঝাপটা আর বাধা বিপত্তির মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তাদের অবস্থান করার সময়টা সাধারণের চেয়ে দীর্ঘ হয়েছে। তবে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে শেষ ম্যাচ দিয়ে আবার চ্যাম্পিয়নসশিপে নেমে যেতে হবে তাদের। নরউইচের সঙ্গী হবে আরও দুই ক্লাব। দুই পজিশনের জন্য বিপদ জোনে আছে ৩ ক্লাব।

    অ্যাস্টন ভিলা, ওয়াটফোর্ড, বোর্নমাউথ- সবাইকেই খেলতে হবে অ্যাওয়ে ম্যাচ। এই তিন দলের ভেতর অ্যাস্টন ভিলার কাজটা একটু সহজ। পয়েন্টের হিসেবে সেফ জোনে থেকেই মাঠে নামবে তারা। ওয়াটফোর্ডকে খেলতে যেতে হবে আর্সেনালের মাঠে। এডি হাওয়ের বোর্নমাউথের প্রতিপক্ষে এভারটন। বোর্নমাউথের শুধু জিতলেই হবে না, বাকি দুই দলের হারের প্রার্থনাও করতে হবে। আর অ্যাস্টন ভিলা, ওয়াটফোর্ড- এই দুই দল জিতে গেলে রেলিগেশন নির্ধারণ হবে গোলব্যবধানে।


    যে রেকর্ড ছুঁতে চাইবে লিভারপুল
    ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে আপাতত ১৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছে লিভারপুল। তবে সিটি পিছলে গেলে আর লিভারপুল জয় পেলে নতুন রেকর্ড গড়া হবে চ্যাম্পিয়নদের। ২০১৭-১৮ মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৯ পয়েন্টের লিড নিয়ে লিগ শেষ করেছিল ম্যান সিটি।

    সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন ভার্ডি?
    ২৩ গোল নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা জেমি ভার্ডি। তার পেছনে ২১ গোল নিয়ে দুইয়ে আছেন সাউদাম্পটনের ড্যানি ইংস। ২০১৬-১৭ এর লিগ জয়ী মৌসুমে সার্জিও আগুয়েরোর পেছনে থেকে গোল্ডেন বুট জেতা হয়নি ভার্ডির। ইংলিশ স্ট্রাইকার এবার সেই অভাবটা বোধ হয় পূরণ করতে যাচ্ছেন। তবে লেস্টারকে জেতাতে পারলে এই শিরোপার আকর্ষণ বেড়ে যাবে বহুগুণ।

    অঁরির পেছনে কেভিন ডি ব্রুইন
    ২০০২-০৩ মৌসুমে ২০ অ্যাসিস্টের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিলেন থিয়েরি অঁরি। সেবার অবশ্য লিগে ২০ গোলও করেছিলেন তিনি। কেভিন ডি ব্রুইনের গোলের হিসেবে আর অঁরিকে হয়ত ছুঁতে পারছেন না এবার।  তবে অ্যাসিস্টের রেকর্ড ছুঁতে ডি ব্রুইনের লাগে আর একটি। নরউইচের বিপক্ষে সেই কাজটা ডি ব্রুইন করতেই পারেন!

    বিদায় সিলভা
    ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতে ভ্যালেন্সিয়া থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী ডেভিড সিলভা। ম্যান সিটি যাদের হাত ধরে আধুনিক যুগে পা রেখেছে, তাদের ভেতর সিলভাও আছেন। ক্লাবের বর্তমান অধিনায়কও তিনি। সেই সিলভা প্রিমিয়ার লিগে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন। এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগে অবশ্য সিটির ম্যাচ আছে। তবে ইংল্যান্ড থেকে বিদায়টা নরউইচের বিপক্ষেই হতে যাচ্ছে।

    পেপ গার্দিওলা অবশ্য কথা দিয়েছেন, গ্যালারি ভরে গেলে ঘটা করে সংবর্ধনা দেওয়া হবে সিলভাকে। এর আগে মৌসুমের শুরুতে সিলভা জানিয়েছিলেন এটাই ইংল্যান্ডে তার শেষ। এরপর কোথায় যাবেন তা অবশ্য এখনও জানাননি।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন