• ফুটবল, অন্যান্য
  • " />

     

    জুভেন্টাস এবং ইউরোপে আরও ৯ ধারাবাহিক শিরোপাজয়ীদের গল্প

    গত রাতে সাম্পদোরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা নবম সিরি আ শিরোপা নিশ্চিত করেছে জুভেন্টাস। আর এর মাধ্যমে ইউরোপে টানা লিগ জয়ী ক্লাবগুলোর তালিকার সেরা দশে ঢুঁকে গেছে বিয়াঙ্কোনেরিরা। আর ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের মাঝেও এটিই টানা লিগ শিরোপা জয়ের রেকর্ড। চলুন এই সুযোগে দেখে নেওয়া যাক, ইউরোপের কোন ক্লাবগুলো টানা লিগ শিরোপা জয়ের তালিকায় সেরা দশে রয়েছে।

     

    লিঙ্কন রেড ইমপস, জিব্রাল্টার  - ১৪ বার (২০০৩-২০১৬)

    ইউরোপের ছোট দেশ জিব্রাল্টারের আংশিক পেশাদার দল লিঙ্কন রেড ইমপস যৌথভাবে টানা লিগ জয়ের রেকর্ডের অংশীদার। দলটি এখন পর্যন্ত ২৩ বার জিব্রাল্টারের লিগ জিতেছে, যার মাঝে ২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ১৪ বার এই শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলেছে। জিব্রাল্টারের প্রথম ক্লাব হিসেবে ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগেও খেলেছে ক্লাবটি।


    স্কন্তো, লাটভিয়া - ১৪ বার (১৯৯১-২০০৪)

    ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল লাটভিয়ান ক্লাব স্কন্তো। আর সেই বছরই প্রথম লিগ জয়ের স্বাদ পায় দলটি। এরপর টানা লিগ শিরোপার জয়রথ চলে আরও ১৩ বছর, সালের হিসেবে ২০০৪ পর্যন্ত। যদিও ২০১৬ সালে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর ক্লাবটিকে গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে।

     

    বাটে বরিসভ, বেলারুশ - ১৩ বার (২০০৬-২০১৮)

    ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয়েছিল বেলারুশের ক্লাব বাটে বরিসভের জয়ের ধারা। এরপর পৃথিবী অনেক বদলে গেছে, তবে বদলায়নি শুধু একটি জিনিস। আর সেটি হচ্ছে বাটে বরিসভের লিগ জয়, ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ মৌসুম বেলারুশের লিগে রাজত্ব করেছে ক্লাবটি। আর ক্লাবটির খেলোয়াড় ভিতালি রদিওনভ ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ১২ বার লিগ শিরোপা ছুঁয়ে দেখেছেন।

     

    রোজেনবর্গ বিকে, নরওয়ে - ১৩ বার (১৯৯২-২০০৪)

    ১৯৮৫ সালে লিগ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে নরওয়েজিয়ান ক্লাব রোজেনবর্গ বিকের ‘দ্বিতীয় স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়েছিল। সেই সময়ে ১৯ লিগ শিরোপা আর ৬ টি কাপ জয় করেছিল ক্লাবটি, যার মাঝে ১৯৯২ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত টানা ১৩ বার লিগ শিরোপা জিতেছিল রোজেনবর্গ বিকে। 

     

    দিনামো জাগরেব, ক্রোয়েশিয়া - ১১ বার (২০০৬-২০১৬)

    ক্রোয়েশিয়ান লিগের বয়স ২৯ বছর। আর এর মাঝে ২০ বারই লিগ শিরোপা জিতেছে দিনামো জাগরেব। যার মাঝে ২০০৬ থেকে নিয়ে ২০১৬ সালে পর্যন্ত টানা ১১ বার লিগ জিতেছে ক্লাবটি। লিগের অন্য দলগুলো যেন শুধু খেলার জন্যই খেলে।


    দিনামো তিবিলিসি, জর্জিয়া - ১০ বার (১৯৯০-১৯৯৯)

    সোভিয়েত ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্লাবগুলোর একটি ছিল দিনামো তিবিলিসি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর জর্জিয়ার ফুটবলেও আধিপত্য বজায় রাখে ক্লাবটি। বিশেষভাবে নব্বইয়ের দশকে ক্লাবের লিগ জয়ের রেকর্ড যেকোনো ফুটবল ক্লাবের জন্যই ইর্ষনীয়। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত জর্জিয়ার ফুটবলে একক রাজত্ব চালিয়েছিল ক্লাবটি।

     

    এমটিকে বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরি - ১০ বার (১৯১৪-১৯২৫)

    টানা ১০ বার হাঙ্গেরিয়ান লিগের শিরোপা জিতেছিল এমটিকে বুদাপেস্ট। তবে এই কাজ করতে তাদের প্রয়োজন হয়েছিল ১১ বছর। ১৯১৪ সালে প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের পর শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। আর এতে করে দুই মৌসুম খেলা হয়নি হাঙ্গেরিয়ান লিগে। তবে ১৯১৭ সালে লিগ আবারও শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়ে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের মাঝে টানা ৯ বার লিগ জেতে ক্লাবটি। মাঝে বিরতি থাকলেও তাই টানা ১০ বার লিগ জয়ের গৌরব সঙ্গী হয়েছে এমটিকে বুদাপেস্টের।

     

    এফসি পিউনিক, আর্মেনিয়া - ১০ বার (২০০১-২০১০)

    সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে ১৪ বার লিগ জিতেছে আর্মেনিয়ার ক্লাব এফসি পিউনিক। এর ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে লিগ শিরোপা ছিনিয়ে নিতে পারেনি কেউ।

     

    শেরিফ তিরাসপোল, মলডোভা - ১০ বার (২০০১-২০১০)

    ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মলডোভার ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে শেরিফ তিরাসপোলের। এখন পর্যন্ত ক্লাবটি ১৮ বার লিগ শিরোপা জয় করেছে, আর ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা লিগ জিতেছে শেরিফ তিরাসপোল।


    জুভেন্টাস, ইতালি - ৯ বার (২০১২-২০২০)

    ২০১১-১২ মৌসুমে আন্তোনিও কন্তের অধীনে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জুভেন্টাস। সেখান থেকেই ইতালিয়ান ফুটবলে জুভেন্টাসের একাধিপত্যের শুরু। এরপর থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের গ্রাস থেকে লিগ শিরোপা ছিনিয়ে নিতে পারেনি অন্য কোনও ক্লাব। ১৯০৫ সালে প্রথম ইতালির লিগ শিরোপা জেতে জুভেন্টাস। এখন পর্যন্ত ৩৬ টি লিগ শিরোপা জিতেছে ক্লাবটি।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন