• ক্রিকেট, অন্যান্য
  • " />

     

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেন রশিদ খান

    স্বপ্নযাত্রা। রূপকথা শব্দটা ব্যবহার না করলে আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় আগের এই শব্দটি। সে স্বপ্নযাত্রায় এবার লক্ষ্য-- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা, রশিদ খান বলছেন তেমনই।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়েই ২০১০ সালে বিশ্বমঞ্চে এসেছিল আফগানিস্তান, তার মাত্র বছর তিনেক আগেই আইসিসির ডিভিশন ফাইভে ছিল তারা। ২০১৮ সালে নিজেদের প্রথম টেস্টও খেলেছে তারা ভারতের সঙ্গে। 

    ভারতের অফস্পিনার রবি আশ্বিনের সঙ্গে ‘ডিআরএস উইথ অ্যাশ’ নামের ইউটিউব শো-তে রশিদ বলেছেন, সে ম্যাচ ছিল তাদের স্বপ্নের মতো, “পুরো জাতির সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা ছিল টেস্ট খেলা। আমরা, পুরো দেশ, আশা করছিলাম, প্রার্থনা করছিলাম এটির জন্য। এতো তাড়াতাড়ি ঘটে যাবে, এমন ভাবিনি। ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলাটা স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু যে কারও জন্য।” 

    “আমরা যখন আপনাদের বিপক্ষে খেলছিলাম আমাদের প্রথম টেস্টে, আমরা জানতামই না যে কী করছি। সবাই শুধু গুণছিল-- আমি প্রথম চারটা মারব, প্রথম ছয়টা মারবো, প্রথম সিংগেলটা নেব। সবাই নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য রোমাঞ্চিত ছিল। ম্যাচটা যে খুব ভাল গিয়েছিল আমাদের, তা নয়, তবে শিখেছিলাম অনেক কিছু।”

    নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয়টা পেয়ে গিয়েছিল আফগানিস্তান। ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই গিয়েছিল মূল আসরে, যদিও সেখানে সুবিধা করা হয়ে ওঠেনি তাদের। তবে সে বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জয় ছিল তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা। 

    সেসব পেরিয়ে এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন তারা, বলছেন রশিদ, “এখন আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় অর্জন যেটা হওয়া উচিৎ, দলটা যেদিকে তাকিয়ে আছে, দেশ যেটা আশা করছে যে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতব। কারণ আমাদের সব স্কিল আছে, মেধা আছে, এখন শুধু নিজেদের মাঝে এই আত্মবিশ্বাসটা লাগবে যে আমরা করতে পারবো। মেধার দিক দিয়ে আমরা দারুণ, আমাদের স্পিনার আছে, পেসার আছে, ব্যাটিংয়ের স্কিলও আছে। কিন্তু ওই টেস্ট ম্যাচে যা হয়েছিল, আমাদের বড় দলের বিপক্ষে খেলার ঘাটতি ছিল, কারণ আমরা পর্যাপ্ত ক্রিকেট খেলিনি তাদের সঙ্গে।” 

    এজন্য বেশি বেশি বড় দলগুলির সঙ্গে খেলা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি, “তাদের সঙ্গে যতো সিরিজ খেলব, ততো ভাল দল হবো। আমরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বিখ্যাত, তবে ইনশাআল্লাহ, আমার এবং আমার দেশের স্বপ্ন একদিন আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতব, এবং সেটা আমাদের এবং আফগানিস্তান ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।” 

    সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য অধিনায়কত্ব নিয়ে বেশ নাটক চলেছে আফগান ক্রিকেটে। বিশ্বকাপের আগ দিয়ে আসগর আফগানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তিনজনকে। এরপর বিশ্বকাপ শেষে সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছিল রশিদকে। তাকে সরিয়ে আবারও আফগানকে সব ফরম্যাটের অধিনায়ক করা হয়েছে। 

    ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ শেষে এখন আইপিএল খেলতে আরব আমিরাতে আছেন রশিদ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের একাদশে নিয়মিত সদস্য তিনি।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন