• লা লিগা
  • " />

     

    সোসিয়েদাদের সঙ্গে পয়েন্ট হারিয়ে মৌসুম শুরু রিয়ালের

    ফুলটাইম
    রিয়াল সোসিয়েদাদ ০-০ রিয়াল মাদ্রিদ


    মৌসুমের শুরুটা ঠিক প্রত্যাশা অনুযায়ী হলো না লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের। তবে প্রথম ম্যাচ বলেই হয়ত খুব বেশি দুশ্চিন্তায় এখনই পড়তে হচ্ছে না জিনেদিন জিদানকে। সোসিয়েদাদও প্রতিপক্ষ হিসেবে সহজ নয়, তারওপর লা লিগায় এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ। নিজেদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে আটকে দিয়ে মহামূল্যবান এক পয়েন্ট বাগিয়ে নিয়েছে সোসিয়েদাদ।

    রিয়াল মাদ্রিদও খেলছে ঢিলেঢালা ফুটবল। ম্যাচের ফল দুশ্চিন্তার না হলেও নির্বিষ আক্রমণ রিয়ালের জন্য হতাশারই। ২০১৫ সালে রাফায়েল বেনিটেজের আমলের পর প্রথমবারের মতো গোলশূন্য ড্র-এ মৌসুম শুরু করেছে রিয়াল। শেষ ৫ মৌসুমে ৩ বারই গ্যারেথ বেল রিয়ালের হয়ে মৌসুমের প্রথম গোল করেছিলেন। বেল এখন রিয়ালের জন্য অতীত, কিন্তু মৌসুমের প্রথমদিনে তার অভাব পুরোপুরি কাটিয়েও উঠতে পারেনি রিয়াল।


    প্রথম ৪০ মিনিট যদিও সোসিয়েদাদকে তেমন একটা সুযোগই দেয়নি রিয়াল। বলের দখল থাকলেও এই সময়ে সোসিয়েদাদের গোলের সামনে নিজেরাও খুব বেশি ভীতি ছড়াতে পারেনি। তবে সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো ছিলেন তখন ছিলেন নড়বড়ে। বেশ কয়েকবার বল বিলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি রিয়ালের পায়ে। তেমন একটি সুযোগ থেকেই আক্রমণে উঠেছিল রিয়াল। কিন্তু করিম বেনজেমা তখন গোলের সামনে থেকে আর ওয়ান অন ওয়ান পরিস্থিতিতে বাকি কাজটি আর সারতে পারেননি।

    ঘুমিয়ে থাকা সোসিয়েদাদ বিরতির মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। লিডেও চলে যেতে পারত তারা। থিবো কোর্তোয়া আরও একবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তখন। অ্যালেক্সান্ডার ইসাকের শট শরীর প্রশস্ত করে বাম পা দিয়ে ঠেকিয়ে নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়েছেন তখন রিয়াল গোলরক্ষক। কোর্তোয়া তার আগের মৌসুমের ফর্মটাই টেনে এনেছেন এবারও। এই নিয়ে গোল বরাবর শেষ ২৫ শটের ২৩টিই ঠেকিয়ে দিলেন বেলজিয়ান। 

    গোলশূন্য প্রথমার্ধ কিছু নিরুত্তাপ গেছে। বেনজেমা, ভিনিসিয়াস আর রদ্রিগোর আক্রমণভাগ যথেষ্ট সাহায্য পায়নি দ্বিতীয়ার্ধেও। লুকা মদ্রিচ, টনি ক্রুসদের সঙ্গে মিডফিল্ডে ছিলেন কাসেমিরো ছিলেন না। তরুণ মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড বেশিরভাগ সময় সোসিয়েদাদের রক্ষণের মাঝ দিয়ে বল বের করার চেষ্টায় ছিলেন। এর কোনোকিছুই তেমন কাজে আসেনি।

    বিরতির আগে পাওয়া প্রেরণা কাজে লাগিয়ে ৪৭ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছিল সোসিয়েদাদ। এবার আর কোর্তোয়া পর্যন্ত পৌঁছানো যায়নি যদিও। অ্যান্ডার বারেনেতসার সাইড ভলি অল্পের জন্য গেছে দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে।  এরপর অন্যপ্রান্তের গোলরক্ষক রেমিরোও প্রথমার্ধের ভুলভ্রান্তি ভুলে দারুণ একটি সেভ করলেন। বেনজেমার বক্সের বাইরে থেকে করা নিচু শটেও তাই আর কাজ হয়নি।

    দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বলার মতো ঘটনা ছিল আরও একটি। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন ফার্লন্ড মেন্ডি। দ্বিতীয়ার্ধে ভয়াবহ একটি ট্যাকেল করেও অবশ্য বেঁচে গেছেন তিনি। নইলে দশ জনের দলে পরিণত হতে পারত রিয়ালকে।

    দিশাহীন মিডফিল্ডের চেহারা ফেরাতে জিদান ভরসা রেখেছিলেন নতুনদের ওপর। জিদানের ব্যবহার করা মোট ১৫ জন খেলোয়াড়ের চারজনেরই জন্ম এই শতাব্দিতে। ৭০ মিনিটে তিনটি পরিবর্তন এনেছিলেন জিদান। কাসেমিরো মাঠে নেমেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরও দুই তরুণ, ফেদেরিক ভালভার্দে আর মারভিন। শেষদিকে সান্তিয়াগো আরিবাসকে নামিয়েও জিদান ইঙ্গিত দিয়েছেন এই মৌসুমে তরুণদের ওপর ভরসা রাখবেন তিনি। মারভিন আর আরিবাসের অভিষেক হয়েছে সোসিয়েদাদের মাঠে। রদ্রিগো, আর ভিনিসিয়াস তো আগে থেকেই খেলছেন- এই চারজনই রিয়ালের নতুন প্রজন্ম। 

    নতুনদের ভিড়ে ডেভিড সিলভার নতুন অভিষেক হয়েছে নতুন ক্লাবের হয়ে। ১০ বছর পর লা লিগায় ফিরে একাদশে ছিলেন না সিলভা। তবে বদলি হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধে নেমেছিলেন তিনি। প্রথম ম্যাচ হিসেবে সিলভাও তেমন একটা নজর কাড়তে পারেননি।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন