• লা লিগা
  • " />

     

    পিরলোর নতুন জুভেন্টাসেও পুরনো রোনালদো

    ফুলটাইম
    জুভেন্টাস ৩-০ সাম্পদোরিয়া


    আন্দ্রেয়া পিরলোর প্রথম ম্যাচে জুভেন্টাস পেয়েছে সহজ জয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো করেছেন গোল। সব মিলিয়ে আগের ৯ বারের চ্যাম্পিয়নরাও দারুণ শুরু করেছে সিরি আতে।

    দেয়ান কুলুসেভস্কি, আর লিওনার্দো বনুচ্চির পর ৮৮ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেছেন রোনালদো। অ্যারন রামসের বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে বক্সের ভেতর ঢুকে কোণাকুণি ফিনিশে মৌসুমের প্রথম গোল করেছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। রোনালদো অবশ্য প্রথমার্ধেই গোল পেতে পারতেন। কিন্তু প্রথমার্ধে তার নেওয়া বাম পায়ের জোরালো শট ফেরত এসেছিল বারপোস্ট কাঁপিয়ে। এর আগে সুইডিশ ফরোয়ার্ড কুলুসেভস্কি জুভেন্টাসের হয়ে অভিষেকেই গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। রোনালদোর বল নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকতে গেলে তাকে বাধা দিয়েছিলেন সাম্পদোরিয়ে ডিফেন্ডার, তবে সেখান থেকে বল পেয়ে যান কুলুসেভস্কি। ২০ বছর বয়সী বাম পায়ের নিখুঁত শটে সেখান থেকেই বল জড়িয়ে দেন দূরের পোস্টে।


    জুভেন্টাসের দ্বিতীয় গোলেও অবদান আছে আরেক তরুণের। ওয়েস্টন ম্যাককেনি নিজে গোলবঞ্চিত হয়েছেন অল্পের জন্য। কিন্তু পরে আরেকবার গোলে শট করেন তিনি ৭৮ মিনিটে। সাম্পদোরিয়া গোলরক্ষক শট ঠেকিয়ে দিলেও, ফিরতি বলে গোলের সামনে থেকে বাকি কাজ সারেন বনুচ্চি।

    পিরলো কী পরিবর্তন আনলেন?
    এক ম্যাচের হিসাবে পরিবর্তন বিচার করা কঠিনই। তবে ডাগ আউটে পিরলোর প্রথম ম্যাচে বেশ কিছু পরিবর্তন নিশ্চিতভাবেই নতুন দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০ বছর বয়সি কুলুসেভস্কি আর ২২ বছর বয়সি ম্যাককেনির সঙ্গে একাদশে ছিলেন ২১ বছরের জিয়ানলুকা ফাব্রোত্তাও। উইংব্যাক হিসেবে খেলেছেন তিনি। আক্রমণে বেশ ধারালোই মনে হয়েছে তাকে। আর এই তিনজনের প্রথম দুইজন তো গোলেই অবদান রেখেছেন। আদ্রিয়ান রাবিও ছিলেন পিরলোর প্রথম ম্যাচের একাদশে। সবমিলিয়ে বুড়িয়ে যাও জুভেন্টাসের দলে দেখা গেছে তারুন্যের আবাহন।



    মাউরিসিও সারি গত মৌসুমে জুভেন্টাসকে নিয়মিতই চারজনের ব্যাকলাইনে খেলিয়েছেন। এর আগে আন্তোনিও কন্তে থ্রি ম্যান ব্যাকলাইন ফিরিয়ে এনেছিলেন। তার পরে ম্যাক্স আলেগ্রিও প্রয়োজন অনুযায়ী তিনজনের রক্ষণ ব্যবহার করেছেন। পিরলো অবশ্য শুরু থেকেই থ্রি ম্যান ব্যাকলাইনে ভরসা রেখেছেন। ৩-৪-৩ ফরমেশনে বনুচ্চি, কিয়েলির সঙ্গে রাইট সেন্টারব্যাক ছিলেন দানিলো। ৩-৪-৩ ভেঙে অবশ্য প্রায় বেশিরভাগ সময়ই জুভেন্টাস খেলেছে ৩-৪-১-২ তে।

    অ্যারন রামসেকে নিয়ে সংশয় থাকলেও পিরলো তাকে পুরো ম্যাচই খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। এক অ্যাসিস্ট করেছেন রামসে। এছাড়াও রোনালদোকে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন প্রথমার্ধে। মিডফিল্ডে জুভেন্টাসের পাসিংও ছিল সাবলিল। বল পজেশন ধরে খেলা বিল্ড আপের প্রচেষ্টার ছাপও দেখা গেছে স্পষ্ট। রোনালদোরও তাই সুযোগের অভাব হয়নি ম্যাচে। মৌসুমের প্রথম না হয়ে অন্য যে কোনোদিন হলে হয়ত হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন তিনি। 

    খেলোয়াড়দের সহজার জায়গাও বদলে দিয়েছেন  পিরলো। দানিলো যেমন খেলেছেন পুরোদস্তর ডিফেন্ডার হিসেবে। আবার পরে নামা মাতেও ডি শিলিও খেলেছেন লেফটউইংব্যাকের ভূমিকায়। পাউলো দিবালা ফিরলে পিরলো তাকে কোন ভূমিকায় খেলান সেটাই এখন দেখার বিষয়। বার্সেলোনা থেকে আসা আর্থারও আছেন পিরলোর হাতে।

    দলবদল শেষ হওয়ার আগে জুভেন্টাস সুযোগ পাচ্ছে শক্তি বাড়ানোরও। রোনালদো গোল করেছেন বটে, তবে গঞ্জালো হিগুয়াইন চলে যাওয়ার পর নাম্বার নাইন পজিশনটাই শূন্য এখন বিয়াঙ্কোনেরিদের। একজন জাত স্ট্রাইকার এখনও প্রয়োজন পিরলোর।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন