• লা লিগা
  • " />

     

    ফাতি-মেসির গোলে বড় জয়ে শুরু বার্সার কোমান অধ্যায়

    ফুলটাইম
    বার্সেলোনা ৪-০ ভিয়ারিয়াল


    বার্সেলোনায় রোনাল্ড কোম্যান অধ্যায়ের শুরুটা হলো দারুণ এক জয়ে। নতুন দিনের সূচনায় বড় অবদান থাকল বার্সেলোনার নতুন নায়ক আনসু ফাতির। ১৫ আর ১৯ মিনিটে জোড়া গোল করে তিনিই শুরুতে চাপ কমিয়ে দিয়েছিলেন বার্সার। বার্সার 'পুরোনো নায়ক' লিওনেল মেসিও গোল করেছেন। ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়িয়েছিলেন তিনি। আর প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে মেসির আরেক ক্রস থেকে পাউ তোরেস আত্মঘাতী গোল করে বসেন। দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা আর গোল করতে পারেনি, ভিয়ারিয়ালকেও সে সুযোগ দেয়নি।

    ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বার্সার বেশিরভাগ আক্রমণের উৎস ছিল বাম প্রান্ত। সবগুলো গোলের সূচনাও সেখান থেকেই। ১৫ মিনিটে ক্লেমেন্ত ল্যাংলেটের লম্বা পাস ধরে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন জর্দি আলবা। তার কাটব্যাক থেকে টপ কর্নারে বল জড়ান ফাতি। উনাই এমেরির ভিয়রিয়াল এরপর আরেকবার তছনছ হয়ে গেছে মিনিটে চারেক পর। নিজেদের বক্স থেকেই আক্রমণে উঠেছিল বার্সা। কৌতিনহো মিডফিল্ড থেকে বল পেয়ে প্রায় ৫০ গজ দৌড়ে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি গিয়ে ফাতিহকে বাম দিকে বল বাড়ান। বক্সের ভেতর করে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক আসেনহকো কোণো সুযোগ না দিয়েই কাছের পোস্টে কোণাকুণি ফিনিশে আরও একবার জালে জড়ান ফাতি।


    লা লিগায় বার্সেলোনার নতুন অধ্যায় শুরুর আগে প্রশ্ন ছিল অনেক। সব প্রশ্নের জবাব প্রথম ম্যাচেই পাওয়ার কথা ছিল না। তবে কিছু প্রশ্নের জবাব মিলেছে। কোমানের বার্সা শুরু থেকে খেলেছে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে। লিওনেল মেসি, আন্টোয়ান গ্রিযমান, ফিলিও কৌতিনহো- তিনজনই ছিলেন আক্রমণভাগে। মেসি ছিলেন ফলস নাইনের ভূমিকায়। আর গ্রিযমান বেশিরভাগ সময়ই খেলেছেন ডান প্রান্ত থেকে। তাতে বার্সা রক্ষণাত্মক দিক দিয়ে সুবিধা পেলেও গ্রিযমানের অবশ্য লাভ হয়নি। ওয়াইড পজিশন থেকে আক্রমণে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড। আক্রমণভাগে বাকি সবাই আলো ছড়ালেও গ্রিযমানের পজিশন নিয়ে আরেকটু ভাবতেই হচ্ছে তাই কোমানকে।

    বার্সার রক্ষণে পরিবর্তন ছিল না কোনো, নিয়িমিতরাই খেলেছেন। গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান ছিলেন না চোটের কারণে। তার জায়গায় খেলেছেন নেতো। ভিয়ারিয়াল তাকে খুব একটা বিপদে ফেলতে পারেনি। তবে বার্সার রক্ষণকে আগলে রাখতে কোমানের পরিকল্পনায় ছিল ডাবল পিভোট মিডফিল্ড। সার্জিও বুসকেটস আর ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং খেলেছেন একসঙ্গে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বুসকেটসের বদলি হয়ে মাঠে নেমেছিলেন নতুন আসা মিরালেম পিয়ানিচ।


    পিয়ানিচ মাঠে নামার বহু আগেই ম্যাচের পুরো কর্তৃত্ব ছিল বার্সার কাছে। ভিয়ারিয়ালের সবাই কমবেশি দুঃস্বপ্নের মতো রাত কাটিয়েছেন ন্যু ক্যাম্পে। সবচেয়ে বেশি দুর্দশা পোহাতে হয়েছে মারিও গ্যাস্পারকে। ফাতিকে কোনোভাবেই রুখতে পারেননি তিনি। বার্সার তৃতীয় গোলও তার দেওয়া উপহার। বক্সের ভেতর ফাতিকে ফাউল করেছিলেন গ্যাস্পার। পরে মেসি স্পটকিক থেকে সফল হলে ৩-০ গোলে এগিয়ে যার বার্সা। বিরতির ঠিক আগে মেসি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে আরেক ডিফেন্ডার পাউ তোরেস নিজের জালে বল ঢুকিয়ে দেন।

    এই ম্যাচের আগে প্রশ্ন ছিল মেসির নিবেদন নিয়েও। সেই প্রশ্ন অবশ্য প্রথম ম্যাচের পর হারিয়ে যাওয়ার কথা। মেসির খেলেছেন তার নিয়মিত খেলাটাই। সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন, নিজেও আরেকটু নিখুঁত হতে পারলে গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারতেন। ৭০ মিনিটের পর মেসির আক্রমণের বাকি সঙ্গীদের কোমান এক এক করে তুলে নিয়েছেন। মেসি খেলেছেন পুরো ম্যাচই।

    গেল নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন উসমান ডেম্বলেও। তরুণ পেদ্রি আর নতুন আসা ট্রিনকাও ছিলেন বদলিদের ভেতর।  সবাই অবশ্য সমানভাবেই নজর কাড়তে পারেনি অল্প সময়ে। তবে এদের ভেতর ট্রিনকাও ছিলেন বেশি উজ্জ্বল।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন