• লা লিগা
  • " />

     

    কাদিজে কাটা পড়ল রিয়াল মাদ্রিদ

    ফুল টাইম

    রিয়াল মাদ্রিদ ০-১ কাদিজ


    লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের ১৫ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ছেদ টানল কাদিজ। প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটে পাওয়া লিডকে দারুণ রক্ষণের সুবাদে পুরো ৯০ মিনিট ধরে রেখে জয় পেয়েছে তারা। ১৯৯০-৯১ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো মাদ্রিদকে হারানোর স্বাদ পেয়েছে এই মৌসুমে ১৪ বছর পর প্রথম বিভাগে আসা কাদিজ। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে ক্লান্ত-শ্রান্ত মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা প্রথমার্ধে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে অনেক চেষ্টা করেও কাদিজের ইস্পাতদৃঢ় রক্ষণ ভেদ করতে পারেননি তারা।


    ম্যাচের প্রথম বাঁশি থেকেই রিয়াল মাদ্রিদকে তটস্থ করে রাখে কাদিজ। লা লিগায় ‘নবীন’ এই দলের ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে এতটা ভোগাতে পারে, সেটা হয়ত মাদ্রিদ ম্যানেজমেন্টের কল্পনাতেও ছিল না। চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং এল ক্লাসিকোর ওয়ার্মআপ ম্যাচ হিসেবেই হয়ত মাদ্রিদ ম্যাচটিকে দেখছিল। আর সেই ম্রিয়মাণ হাবভাবই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদ্রিদের জন্য।

    মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই প্রথম মাদ্রিদের গোল হানা দেয় কাদিজ। আলভারো নেগ্রেদোর শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন রামোস। তবে সেটা ছিল কেবলই শুরু। প্রথম পনের মিনিট এরপর একমুখী ট্র্যাফিক চলল। নাহ, মাদ্রিদ থেকে কাদিজ নয় বরং তার উল্টোটা। একের পর এক আক্রমণে মাদ্রিদকে নাজেহাল করে দেয় তারা। আর মাদ্রিদের রক্ষণকে চাপে রাখার সুফল তারা পায় ১৬ মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে দারুণ প্লেসিং হেডারে অ্যান্থনি লোজানোকে সেটআপ করেন নেগ্রেদো। প্রথম টাচ তেমন একটা ভালো না হলেও বল জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি লোজানো।

    প্রথমার্ধে নেগ্রেদো এবং লোজানো আরেকটু সচেতন হলে কমপক্ষে আরও দুই গোল পেতে পারত কাদিজ। গোল হজমের পর মাদ্রিদের অল-আউট আক্রমণ শুরু। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে অরক্ষিত হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের রক্ষণ। ৪-৩-৩ ফরমেশনে জিদান এদিন  কাসেমিরোকে একাদশে রাখেননি। তাই লুকা মডরিচ এবং টনি ক্রুজকে পালা করে সেই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। অপর মিডফিল্ডার ইসকো আক্রমণে মনযোগী ছিলেন। তবে ক্রুজ-মডরিচ প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ই রক্ষণের খেলোয়াড়দের কাসেমিরোর মতো মধ্যমাঠে কাভার দিতে পারছিলেন না। তাই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাসেমিরোকে মাঠে নামিয়ে দেন জিদান।

    মাদ্রিদ প্রথমার্ধে গোলের সেরা সুযোগটি পেয়েছিল ক্রুজের কর্নার থেকে ৩৮ মিনিটে। তার দারুণ কর্নারে মাথা ছোঁয়ালেও সেটি অল্পের জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাফায়েল ভারান। আর প্রথমার্ধের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তটি এসেছিল ৩৪ মিনিটে। নিজেদের অর্ধে শুন্য থেকে বলের দখল নিতে গিয়ে রাগে, হতাশায় লোজানোর পায়ে লাথি মেরে বসেন। তবে রেফারির উদারতায় সে যাত্রায় নিশ্চিত লাল কার্ড থেকে বেঁচে যান রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক। রেফারি তাকে সেই চ্যালেঞ্জের জন্য হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন, ভিএআর চ্যালেঞ্জটিকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন বোধ করেনি। প্রথমার্ধ শেষেই রামোসকে উঠিয়ে নেন জিদান, তবে সেটা কার্ডের কারণে নাকি চোটের কারণ তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    অর্ধের পুরোটা সময় ডাগআউটে দাড়িয়ে গাইগুই করেছেন মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান। কোনোভাবেই যে দলকে অনুপ্রাণিত করতে পারছিলেন না। রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের অঙ্গভঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বিরতি থেকে নিয়ে আসা ক্লান্তির ছাপ পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছিল। কাদিজ আক্রমণে গতিময়, রক্ষণেও সবসময় বক্সের ভেতর হলুদ জার্সির জটলা তৈরি করেছে তারা। সেই জটলার মাঝে কখনো কখনো বল খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর ছিল।


    প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে থাকা মাদ্রিদকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনতে জিদান দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চারটি পরিবর্তন আনেন। তবে তাতে খেলার চিত্র বদলায়নি। সেই প্রথমার্ধের মতোই মাঝ বৃত্ত থেকে কাদিজের বক্সের মাঝের জায়গাটায় বারবার বলের পজেশন হারাতে থাকে মাদ্রিদ। এতগুলো পরিবর্তনেও আক্রমণের ধার বাড়েনি এতটুকু। উল্টো একের পর এক কর্নারে মাদ্রিদের বক্সে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিল কাদিজ।

    ম্যাচের প্রথম ৬৫ মিনিটের মাঝে ১০ টি কর্নার পেয়েছে কাদিজ, অন্যদিকে মাদ্রিদ পেয়েছে ৪ টি। আর ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ৭৫ ভাগের বেশি বলের দখল নিয়েও কাজের কাজ করতে পারেনি মাদ্রিদ। বেনজেমা, ভিনিসিয়াসের সঙ্গে লুকাস ভাজকেজকে এদিন আক্রমণভাগে রেখেছিলেন জিদান। পুরো ম্যাচে মাদ্রিদ মাত্র দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় কাদিজকে তাদের অর্ধে আটকে রেখেও গোলমুখে এত কম শটই বলে দিচ্ছে মাদ্রিদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা এই ম্যাচে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।আক্রমণের ধার বাড়াতে শেষের দিকে ক্রুজকে উঠিয়ে লুকা ইয়োভিচকে নামিয়েছিলেন, তবে তাতেও কাজ হয়নি। 

    দ্বিতীয়ার্ধের ৮০ ও ৮১ মিনিটে মাদ্রিদ গোলের দুটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। ৮০ মিনিটে তো বল জালেই পৌঁছে গিয়েছিল বদলি ইয়োভিচের সুবাদে। তবে ইয়োভিচের উদ্দেশ্যে বল বাড়ানো বেনজেমা অফসাইড থাকায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বেনজেমার দুর্দান্ত শট বারে লেগে ফিরে আসে।

    চ্যাম্পিয়নস লিগে শাখতারের বিপক্ষে ম্যাচ এবং এল ক্লাসিকোর আগে এমন অপ্রত্যাশিত হারের প্রভাব মাদ্রিদের জন্য কেমন হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।

    রিয়াল মাদ্রিদ একাদশ

    কোর্তোয়া, নাচো, রামোস, ভারান, মার্সেলো, ক্রুজ, মডরিচ, ইসকো, ভাজকেজ, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, বেনজেমা

    কাদিজ একাদশ

    লেদেসমা, এসপিনো, ফালি, কালা, আকাপো, সালভি, জনসন, মারি, অ্যালেক্স, লোজানো, নেগ্রেদো

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন