• লা লিগা
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    পিকে বললেন, বার্সার নতুন স্টেডিয়াম হওয়া উচিত মেসির নামে

    বার্সেলোনার স্টেডিয়ামের নাম ন্যু ক্যাম্প থেকে বদলে মেসির নামে নামকরণ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ জেরার্ড পিকে। মাত্রই ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন পিকে, আর তারপরই লা ভ্যাঙ্গারদিয়ার সঙ্গে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে অনেক বিতর্কিত বিষয়ে নিজের মত রেখেছেন তিনি। মেসি যদি গ্রীষ্মের দলবদলে ক্লাব ছাড়তে চেয়ে থাকেন, তাহলে তাকে তখন সসম্মানে যেতে দেওয়া উচিৎ ছিল বলেও মনে করেন পিকে।

    মেসি যখন ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে দোলাচলে ছিলেন তখন পিকে মেসিকে ক্লাবে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। মেসিকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় পিকে বলেছিলেন, বছর খানেকের মধ্যেই বার্তোমেউ প্রশাসনকে পাত্তারি গোটাতে হবে। তাই মেসির বার্সেলোনায় থেকে যাওয়ার বিষয়ে ভাবা উচিৎ। যদিও লা ভ্যাঙ্গারদিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পিকে বলেছেন, “আমার বেশি কিছু করার ছিল না তখন, কারণ এটা একান্তই মেসির ব্যক্তিগত বিষয় ছিল। আমি তাকে খুদে বার্তায় শুধু বলেছিলাম, লিও, আর মাত্র এক বছর, এরপরই নতুন লোকজন আসবে।”

    “তবে আমি মনে করি, লিও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আদায় করে নিয়েছে। যদি সে ক্লাব ছাড়তে চেয়ে থাকে, তখন আমি প্রেসিডেন্ট হলে ভিন্নভাবে কাজ করতাম। একজন খেলোয়াড় যে ১৬ বছর ধরে ক্লাবের জন্য এতকিছু করেছে, আপনার অবশ্যই তার সঙ্গে মতৈক্যে আসতে হবে। ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় কেন আপনাকে হঠাৎ ব্যুরোফ্যাক্স পাঠাবে কারণ তার মনে হচ্ছে যে তার কথা আমলে নেওয়া হচ্ছে না, এটা কেন হবে? কী হচ্ছে? লিও-র সবকিছু প্রাপ্য। নতুন স্টেডিয়াম তার নামে হওয়া উচিৎ। আমাদের কিংবদন্তিদের সংরক্ষণ করতে হবে, তাদের দূরে ঠেলে দেওয়া যাবে না। আমি এটা ভাবলে অবাক হই যে, পেপ (গার্দিওলা), (চার্লস) পুয়েল, জাভি, (ভিক্টর) ভালদেসরা এখন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। ক্লাবে কিছু একটা তো ঠিকভাবে হচ্ছে না, সেটা নিশ্চিত।”

    পিকের এই সাক্ষাৎকারে একটি বিষয় আবারও সামনে এল, আর তা হচ্ছে কিছুটা সময় পেরিয়ে গেলেও বার্সেলোনায় খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোর্ডের দ্বন্দ্ব এখনো চলছে। সাক্ষাৎকারে পিকে আর্নেস্তো ভালভার্দেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছেন, “ভালভার্দে আমাদের দুবার লিগ জিতিয়েছেন, মউউস্মের মাঝপথে আমরা লিগে শীর্ষে ছিলাম, তখন ভালভার্দেকে বরখাস্ত করা মোটেও যৌক্তিক ছিল না।”

    ‘বার্সাগেট কেলেঙ্কারি’ নিয়েও ক্ষোভ ঝরেছে পিকের কণ্ঠে, “ক্লাব আমাদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে (করোনার কারণে বেতন কর্তনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন) আর সেই অর্থ ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন লোকদের এবং বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করার জন্য খরচ করছে, এটা নির্মম কাজ।”

    এদিকে একই সময়ে বেতন কমানো নিয়ে দুই ধরনের পদক্ষেপের কারণ আলোচনায় এসেছেন পিকে। তিনি সহ সিনিয়র দলের চার খেলোয়াড় স্বল্পমেয়াদে কম বেতন নেওয়ার শর্তে ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন। তবে একই সঙ্গে ক্লাবের বেতন ভুক্ত সবার ৩০ ভাগ বেতন কমিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করে পাঠানো ব্যুরোফ্যাক্সে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এই দুই পদক্ষপের স্বপক্ষে সাক্ষাৎকারে পিকে বলেছেন, “চুক্তি নবায়ন আর ব্যুরোফাক্সে স্বাক্ষর করা দুটি ভিন্ন বিষয়। ক্লাব ব্যক্তিকে একটি প্রস্তাব ডিল, আর সেটি সেই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করল সেটা একটি বিষয়। আর ক্লাব এককভাবে একটি সিদ্ধান্ত সবার ওপর চাপিয়ে দিল সেটা আরেকটি বিষয়।”

    “আমি এটার বিরোধিতা করি। তারা বেতন কমানোর পদক্ষেপ এমন একটা সময় নিয়েছিল যখন বেশিরভাগ খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের সঙ্গে ছিল। ক্লাব খেলোয়াড় এবং নন-প্লেয়িং স্টাফদের একই কাতারে রেখে সেই পদক্ষেপ নিয়েছিল। আমি তখন অধিনায়ক হিসেবে দলের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যুরোফ্যাক্সে স্বাক্ষর করেছি।”

    এদিকে সামনে অনাস্থা ভোটে ক্লাব সদস্য হিসেবে তিনি বার্তোমেউর বিরুদ্ধে ভোট দেবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন