• প্রীতি ম্যাচ
  • " />

     

    বঙ্গবন্ধুতে প্রাণ ফেরালেন জীবন-সুফিল

    বঙ্গবন্ধুতে প্রাণ ফেরালেন জীবন-সুফিল    

    ফুলটাইম 
    বাংলাদেশ ২-০ নেপাল


    মিডফিল্ড থেকে সোহেল রানার নিখুঁত থ্রু পাস ধরে মাহবুবুর রহমান সুফিল এগিয়ে যাচ্ছিলেন। গোল তখনও অনেকদূরের পথ। সুফিল বাম প্রান্ত দিয়ে দৌড়ে ঢুকে পড়লেন বক্সে, এরপর শরীর বাঁকিয়ে নিজেই নিলেন আড়াআড়ি শট। দূরের পোস্টে বল জালে জড়াতেই জার্সিখোলা উদযাপনে মাতলেন সুফিল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের উত্তাল গ্যালারি ততক্ষণে ভুলিয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক মহামারির কথা। ৮০ মিনিটের ওই গোলেই জয় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। এর আগে নাবিব নেওয়াজ জীবনের প্রথমার্ধের গোল ছন্দ তুলে দিয়েছিল বাংলাদেশের খেলায়। আট মাস পর ফুটবলে ফেরাটা বাংলাদেশের জন্য হলো তাই মনে রাখার মতোই। 

    বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অনুমতি ছিল আট হাজার সমর্থকের। সামাজিক দূরত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবশ্য গ্যালারি প্রায় কাণায় কাণায় পূর্ণ হয়ে গেল ম্যাচ শুরুর আগেই। এরপর জীবনের গোল প্রাণ ফেরাল মাঠে, বদলি সুফিল পাইয়ে দিলেন স্বস্তির গোল।


    আট মাস পর মাঠে নামছেন ফুটবলাররা, তাদের খেলায় মরচে পড়ে গেছে, ভুল হবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি- ম্যাচের আগে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে একটা সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছিলেন। কোচের ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্য মিলল না। বাংলাদেশের প্রথমার্ধের খেলা দেখে আঁচ করার উপায় নেই এতোদিন খেলায় ছিলেন না কেউ। এমনিতে গোল বাংলাদেশের জন্য সোনার হরিণ। কিন্তু নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের গোল পেতে অপেক্ষা করতে হলো মাত্র ১০ মিনিট। সেই গোলটাও হলো দেখার মতো। 

    ডান দিক থেকে সাদ উদ্দিনের নিচু ক্রস গিয়ে পড়েছিল কাছের পোস্টে। নাবিব নেওয়াজ জীবন বক্সের ভেতর নিয়েছিলেন লেট রান। সাদের ক্রসের শেষ মাথায় পৌঁছে নিচু ভলিতে বল জালে জড়িয়ে উদযানের উপলক্ষ্য এনে দেন জীবন। সঙ্গে নিজের গোলখরাও কাটিয়েছেন আবাহনী ফরোয়ার্ড। গত বছর ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সবশেষ গোলের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। সে ম্যাচেও জেমি ডে তাকে খেলিয়েছিলেন নাম্বার টেনের ভূমিকায়। এক বছরের বেশি সময় পর পুরোনো পজিশনে ফিরেই আরও একবার বাজিমাত করেছেন তিনি। 

    জীবন নাম্বার টেনের ভূমিকায় খেলতে পেরেছেন সুমন রেজার কারণে। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের দিনে উত্তরা বারিধারা স্ট্রাইকার খেলেছেন প্রথম ৪৫ মিনিট। কিন্তু নতুন ওইটুকু সময়েই নজর কেড়েছেন সুমন। আক্রমণভাগে সুমন-জীবন-সাদের রোটেশনও ছিল দেখার মতো। বেশিরভাগ আক্রমণও হচ্ছিল ডান প্রান্ত ধরেই। এর সঙ্গে ছিল বিশ্বনাথের লম্বা থ্রোও। 

    ২১ মিনিটে আরও একবার ডান প্রান্ত থেকে শুরু করা আক্রমণেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। জীবনের ক্রস দূরের পোস্ট থেকে হেডও করেছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তবে নেপাল ডিফেন্ডার ছিলেন সতর্ক, বল ক্লিয়ার করে দলকে বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচান তিনি। বিশ্বনাথের একটি লম্বা থ্রো থেকেও হেড করেছিলেন তপু বর্মণ। তিনি অবশ্য ফাঁকাতেই ছিলেন, তবে হেডও করেছেন ফাঁকায়, বল তখন গেছে পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে। এসব কিছুই ঘটে গেছে ম্যাচের ২৫ মিনিটের ভেতর। 

    জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মিডফিল্ডে ডাবল পিভোটের ভূমিকায় ছিলেন মানিক হোসেন মোল্লা। গোল পেয়ে যেত পারতেন তিনিও। নেপাল তখনও ধুঁকছে নিজেদের অর্ধ থেকে বল করতে। এর ভেতর আরেকবার মানিক কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন নেপালের বারপোস্ট। তার ২৫ গজ দূর থেকে করা শট নেপাল গোলরক্ষক কিরণ কুমার লিম্বুর গ্লাভস ছুঁয়ে বারে লেগে চলে যায় বাইরে দিয়ে। 


    ম্যাচের ৩১ মিনিটে সাদ-জীবনের আরেকটি সমন্বয় আশা জাগিয়েছিল। এবার সাদ ক্রস করেছিলেন কোমর উচ্চতায়, জীবনও করেছিলেন ভলি। কিন্তু সে দফায় আর বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

    নেপাল বাংলাদেশে এসেছিল মূল দলের ৭ জন খেলোয়াড়কে ছাড়াই। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাটা ঢাকায় এসেছে বেড়ে হয়েছে ৮। দলের মূল কোচও ছিলেন না সঙ্গে। দ্বিতীয় সারির নেপাল বাংলাদেশের বিপক্ষে ভুগেছে প্রায় পুরোটা সময়।

    বিরতির পর অবশ্য লম্বা একটা সময় দুইদলই ঝিমিয়ে পড়েছিল খানিকটা। দীর্ঘ বিরতির পর ধকলটা বোঝা গেছে তখন। নেপালও বল পজেশনে খানিকটা এগিয়ে গিয়েছিল তখন। জেমি ডে তখন মন দিয়েছেন বদলি খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিতে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুমন রেজার বদলি মাঠে নেমেছিলেন সুফিল। পরে ম্যাচের সময় ঘণ্টাখানেক পেরিয়ে যাওয়ার পর জামাল-মানিককে বদলি করে সোহেল ও আতিকুর রহমান ফাহাদকে মাঠে নামেন কোচ। তাতে মিডফিল্ডে গুছিয়ে উঠতে আরেকটু সময় লেগেছে বাংলাদেশের।

    সেই সুযোগে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে অবশ্য নেপাল কিছুটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। বল পায়ে আক্রমণ সাজাতে ব্যর্থ নেপালের টোটকা ছিল সেটপিস। লম্বা থ্রো থেকে ভারাত খাওয়াসে হেড ফিস্ট করে উঠিয়ে দিয়ে প্রথম গুরুত্ববহ সেভটি করেন জিকো। মিনিট চারেক পর অনন্ত তামাংয়ের একটি হেড ও সেভ করেছেন জিকো। পুরো ম্যাচে এই দুইটিই ছিল নেপালের সেরা সুযোগ।

    নেপালের এই দুই সুযোগের মাঝের সময়টাতে বক্সের ঠিক বাইরে একটি ফ্রি-কিক পেয়েছিল বাংলাদেশ। জামাল না থাকায় কিকটি নিয়েছিলেন তপু। তবে তার শট দারুণ এক সেভে ফিরিয়ে দেন কিরণ। এর মিনিট চারেক পরই সুফিলের গোলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

    নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতল পাঁচ বছর পর। সবশেষ ২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এই মাঠেই নেপালের কাছে ২-০ তে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল জেমি ডের দলকে। প্রীতি ম্যাচের জয়ে অবশ্য 'প্রতিশোধ' নেওয়া হয় না। তবে ফুটবল ফেরার উপলক্ষ্যটা রাঙিয়েই দিয়েছেন জীবন-সুফিলরা।
     

    বাংলাদেশ একাদশ
    আনিসুর রহমান, বিশ্বনাথ ঘোষ, রিয়াদুল হাসান, তপু বর্মণ, রহমত মিয়া, জামাল ভূঁইয়া, মানিক হোসেন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নাবিব নেওয়াজ, সাদ উদ্দিন, সুমন রেজা

    নেপাল একাদশ
    অজিত ভান্ডারি, অনন্ত তামাং, বিক্রম লামা, তেজ তামাং, অঞ্জন বিস্তাম সুজন শ্রেষ্ঠ, কিরণ কুমার লিমবু, সুমন আরিয়াল, নাওয়াং শ্রেষ্ঠ, রবিশঙ্কর পাসওয়ান, বিকাশ খাওয়াস  

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন