• ক্রিকেট, অন্যান্য
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    'করাচির সম্রাট' বাবরের হানায় মিলিয়ে গেল তামিমদের লাহোরের শিরোপা-স্বপ্ন

    লাহোর কালান্দারস ১৩৪/৮, ২০ ওভার 
    করাচি কিংস ১৩৫/৫, ১৮.৪ ওভার
    করাচি ৫ উইকেটে জয়ী ও পিএসএল চ্যাম্পিয়ন


    দুই শহরের প্রতিদ্বন্দ্বীতা ঐতিহাসিক, পিএসএলে লাহোর-করাচির ফাইনালকে বলা হচ্ছিল স্বপ্নের ফাইনাল। সেখানে হাজির তামিম ইকবাল, বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশ ওপেনারের প্রথম ফাইনাল, প্রথম শিরোপার হাতছানিও। দুই দলেরই প্রথমবার টুর্নামেন্টের শেষ হার্ডলে আসা, ফলে পাকিস্তান সুপার লিগ নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখতই। করাচির ধীরগতির, অসম বাউন্সের উইকেটে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে গেল লাহোরের, বড় স্কোরে চাপ তৈরির চাপ সামলাতে পারলেন না তারাই। অসময়ে উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানেই আটকে যাওয়ার পর লাহোরকে করতে হতো বিশেষ কিছু। সেই বিশেষ কিছু করে দেখালেন বাবর আজম। এমনিতে লাহোরের ছেলে হলেও এদিন নিজ শহরের বিপক্ষে খেললেন কন্ডিশন অনুযায়ী দুর্দান্ত এক ইনিংস, যেন তিনি ব্যাটিং করলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উইকেটে, যে ব্যাটিংয়ে মিলিয়ে গেল ফাইনাল কিংবা রানতাড়ার চাপ। তার অপরাজিত ৪৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ভর করে ৮ বল বাকি থাকতেই লাহোরের বিপক্ষে শেষ হাসি হেসেছে করাচি, পিএসএলের এ আসরের চ্যাম্পিয়নও বনে গেছে তারা। তাতে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে তামিম ও লাহোরের ‘প্রথম’ শিরোপা-স্বপ্ন।


    ম্যাচের প্রথম ওভারই দেখিয়েছিল, এ উইকেটের আচরণ ভিন্ন, লাহোর যে স্কোরের স্বপ্ন দেখছে, তা সহজ হবে না। ইমাদ ওয়াসিমের শেষ বলে তামিমের কাট করে মারা চার বলছিল, স্কোরিংয়ে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হবে, বড় বড় শট সহসাই আসবে না। ইনিংসের প্রথমধাপে তামিম ভুগলেন, কখনও টু-পেসড উইকেটের গতি কিংবা বাউন্স বুঝতে। ফাখার কিছু শট খেললেন, তবে সেসবও পাওয়ারপ্লেতে ৩৭ রানের বেশি তুলতে দিল না তাদের। তবে একটা শক্ত ভিত গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের, বিশেষ করে যখন পরের দিকে আসবেন মোহাম্মদ হাফিজ, বেন ডাঙ্ক, সামিট প্যাটেল এবং অবশ্যই ডেভিড ভিসা। 

    তামিম তার ধীরগতির শুরুর অনেকটাই পুষিয়ে আনলেন, টুর্নামেন্টে নিজের সবচেয়ে বড় স্কোরটাও গড়লেন। অবশ্য খেললেন সবচেয়ে বেশি বলও। তবে ইনিংসের মাঝপথে ৬৮ রানে ০ উইকেট থেকে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়লো লাহোর, ৭ বলের ব্যবধানে দুই থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান তামিম-ফাখারের পর অন্যতম ভরসা হাফিজকে হারিয়ে। তিনজনই আউট হয়েছেন বড় শটের চেষ্টায়, উমাইদ আসিফের জোড়া শিকার ওপেনাররা, ইমাদ ওয়াসিমের হাফিজ। এদের মাঝে সবচেয়ে ভাল টাইমিং ছিল তামিমেরই, তবে লং-অনের একেবারে সীমানায় তিনি ধরা পড়েছেন ইফতিখার আহমেদের হাতে, উমাইদ আসিফের বলে ক্যাচ তোলার আগে তিনি করেছেন ৩৮ বলে ৩৫। লাহোর এবং তামিমের জন্য আক্ষেপ হলো, তার স্কোরই হয়ে থেকেছে সর্বোচ্চ, ফাখারের ২৭ ছাড়া আর কেউ পেরুতে পারেননি ১৪ রানই। 

    করাচি অধিনায়ক ইমাদ বোলারদের ঘুরিয়েছেন দারুণভাবে, তাদের বড় শটের ফাঁদে বারবার পা দিয়েছেন লাহোর ব্যাটসম্যানরা। ব্যাটিং অর্ডারের পরিবর্তন এনেও লাভ হয়নি লাহোরের, শেষদিকে শাহিন আফ্রিদির ৪ বলে ১২ রানের ক্যামিওই যা একটু উজ্জীবিত করেছিল তাদের। আগের দুই ম্যাচেই নিজেদের ইনিংসের শেষ দুই বলে জোড়া ছয় মারা ডেভিড ভিসাও এদিন অপরাজিত ছিলেন সমানসংখ্যক বলে ১৪ রানে। 


    রানতাড়ায় শারজিল খান ফিরেছিলেন দ্রুতই, প্যাটেলকে তুলে মারতে গিয়ে ফাখারের দারুণ ক্যাচ পরিণত হয়ে। তবে বাবর-ছোঁয়া তো লেগেছে এর আগেই। এ পিচে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়, সেটি যেন প্রতি শটে দেখাচ্ছিলেন তিনি। 

    অ্যালেক্স হেলস দিলবার হুসেইনের দারুণ কাটারে বোল্ড হলেও, চ্যাডউইক ওয়ালটন, ইফতিখার আহমেদ বা শেরফ্যান রাদারফোর্ডরা একে একে ফিরলেও ছিলেন তিনি করাচির ভরসা এবং আধিপত্যের প্রতিক হয়ে। পুরো ইনিংসে কোনো ছয় মারেননি বাবর, শুধু তিনি কেন, করাচির ইনিংসেই ছয় নেই। রানতাড়ায় ইনিংসের মাঝপথে লাহোরের চেয়ে মাত্র ১ রানে এগিয়ে ছিল করাচি, হারিয়েছিল ২টি বেশি উইকেট। তবে ততক্ষণে বাবর হয়ে গেছেন পার্থক্য। বাবর ড্রাইভ করেছেন, শেষমুহুর্তে বলের বাউন্স বুঝে আপার-কাট করেছেন, একসময় যে লং-অনে কোনো রান করেননি, সে অঞ্চলেই শেষ পর্যন্ত করেছেন সবচেয়ে বেশি। ৪০ বলে চার মেরে ফিফটি করার পর শেষ পর্যন্ত মেরেছেন ৭টি চার। 

    ১৮তম ওভারে হারিস রউফ নিয়েছেন পরপর দুই উইকেট, মুলতানের জন্য আগের ম্যাচে এমন জোড়া উইকেট যথেষ্ট হয়েছিল, করাচির জন্য হলো না। শেষে গিয়ে দুই চার মেরে বাবরকে আর চাপ নিতে দেননি অধিনায়ক ইমাদ ওয়াসিম, এর মাঝে দ্বিতীয় বাউন্ডারিটি দিয়ে নিশ্চিত হয়েছে করাচির শিরোপা। নিশ্চিত হয়েছে- আপাতত পিএসএলের সাম্রাজ্য করাচির, সেখানকার অলিখিত সম্রাট বাবর।  

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন